,

অনলাইন জুয়ায় সর্বস্বান্ত পরিবার, নিষিদ্ধের দাবি

news-image

অনলাইন ডেস্ক : ঠাকুরগাঁওয়ে অনলাইন জুয়ার বিস্তার উদ্বেগজনক আকার ধারণ করেছে। সহজে অর্থ উপার্জনের আশায় তরুণ, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অনলাইন বেটিংয়ের ফাঁদে জড়িয়ে পড়ছেন। এতে আর্থিক ক্ষতি, পারিবারিক অশান্তি, মানসিক অবসাদ এমনকি আত্মহত্যার ঘটনাও বাড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সম্প্রতি সদর উপজেলার পশ্চিম বেগুনবাড়ি ভূজারীপাড়া গ্রামের ২০ বছর বয়সী নাহিদ রানার মৃত্যু নতুন করে বিষয়টি সামনে এনেছে। পরিবারের দাবি, অনলাইন জুয়ায় বিপুল অর্থ হারিয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন তিনি। পরে হতাশা থেকে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন।

ছেলের মৃত্যুতে শোকাহত মা নাজি সরকারের প্রতি আবেদন জানিয়ে বলেন, অনলাইন জুয়ার কারণেই তার ছেলেকে হারাতে হয়েছে। তিনি চান, সরকার দ্রুত এই অবৈধ কার্যক্রম বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিক, যাতে আর কোনো পরিবার এমন শোকের মুখোমুখি না হয়।

স্বজনদের ভাষ্য, শুরুতে কয়েকবার জেতার কারণে নাহিদ আরও বেশি অর্থ বিনিয়োগে উৎসাহিত হন। পরে বড় অঙ্কের টাকা হারিয়ে তিনি ঋণ ও মানসিক চাপে পড়েন। বর্তমানে তার স্ত্রী শিশু সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন।

জেলা পুলিশের তথ্যমতে, চলতি বছরে অনলাইন জুয়া সংশ্লিষ্ট দুটি মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া সাধারণ জুয়ার সাতটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন ১৫ জন।

পরিবারগুলোর দাবি, গত দুই বছরে জেলার বিভিন্ন এলাকায় অনলাইন জুয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত একাধিক আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। তাদের মতে, মোবাইল ফোনভিত্তিক এই জুয়া এখন মাদকের চেয়েও বড় সামাজিক সংকটে পরিণত হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ফেসবুক, টেলিগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ ও মেসেঞ্জারের গোপন গ্রুপের মাধ্যমে নতুন খেলোয়াড় সংগ্রহ করা হচ্ছে। প্রথমে অল্প লাভ দেখিয়ে পরে বড় অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগে প্রলুব্ধ করা হয়। অনেকেই হারানো টাকা ফেরত পাওয়ার আশায় ঋণ, ধার কিংবা সম্পদ বিক্রি করেও খেলতে থাকেন।

ঠাকুরগাঁওয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. খোদাদাদ হোসেন বলেন, অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন, ধর্মীয় নেতা, জনপ্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকে একযোগে সচেতনতা তৈরিতে কাজ করতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।