,

স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে পারেনি পুলিশ

news-image

অনলাইন ডেস্ক : ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়া বাংলাদেশ পুলিশ এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরতে পারেনি। প্রায় দুই বছর পার হলেও বাহিনীর অভ্যন্তরীণ কাঠামো, চেইন অব কমান্ড, সদস্যদের মনোবল এবং জনআস্থার বিষয়গুলোতে নানা চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

সংকটের পর পুলিশকে পুনর্গঠন ও জনবান্ধব বাহিনীতে রূপ দিতে বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে। তবে প্রশাসনিক পরিবর্তন, ব্যাপক বদলি, নেতৃত্বে রদবদল, ইউনিট পুনর্বিন্যাস ও বিতর্কিত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার কারণে বাহিনীর ভেতরে এখনো এক ধরনের অস্থিরতা রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, গত দুই বছরে অতিরিক্ত আইজিপি, ডিআইজি ও পুলিশ সুপার পর্যায়ের ১২৩ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে। এর পাশাপাশি আরও কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। এতে অনেক সদস্যের মধ্যে চাকরি, পদোন্নতি ও ভবিষ্যৎ কর্মজীবন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

অপরাধ বিশেষজ্ঞদের মতে, পুলিশের অভ্যন্তরীণ সমন্বয়হীনতা, সিদ্ধান্ত গ্রহণে দ্বিধা এবং জনআস্থার সংকট এখনো আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে প্রভাব ফেলছে। অপরাধীরা এই দুর্বলতার সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করছে বলেও তারা মনে করেন।

পুলিশ সদর দপ্তরের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সীমিত সম্পদ ও নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যেও পুলিশ অপরাধ দমন, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং প্রতিষ্ঠানগত সংস্কারের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। একটি বড় বাহিনীর পরিবর্তন সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া, যার সুফল ধীরে ধীরে দৃশ্যমান হবে।

সাবেক পুলিশ কর্মকর্তাদের মতে, বাহিনীকে কার্যকর করতে হলে সদস্যদের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে। একই সঙ্গে সিনিয়র কর্মকর্তাদের তদারকি বাড়ানো, গোয়েন্দা কার্যক্রম শক্তিশালী করা এবং কর্মদক্ষতার ভিত্তিতে পুরস্কার ও শাস্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি।

এদিকে, বিভিন্ন মামলার চাপও পুলিশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত দুই বছরে পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের বিপুলসংখ্যক সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। অনেক কর্মকর্তা আইনি জটিলতার আশঙ্কায় দায়িত্ব পালনে মানসিক চাপ অনুভব করছেন বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে দায়িত্ব পালনকালে পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনাও উদ্বেগ বাড়িয়েছে। চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে পুলিশের ওপর কয়েকশ হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, পুলিশ সংস্কার একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া হলেও একই সঙ্গে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, অভ্যন্তরীণ আস্থা বৃদ্ধি এবং পেশাদার পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে ধীরে ধীরে পুলিশ আগের কার্যক্ষমতায় ফিরতে পারবে।

বর্তমানে বাংলাদেশ পুলিশের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার করে একটি নিরপেক্ষ, জবাবদিহিমূলক ও কার্যকর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করা।

এ জাতীয় আরও খবর

বাংলাদেশে সিরিজ খেলতে আসছে না ভারত

শপথ নিলেন পিএসসির নতুন ৪ সদস্য

সাকিব বাদ, বড় সুখবর পেলেন মোস্তাফিজ

মহিষ চরাতেও দিতে হয় চাঁদা

দেশে অনেক বড় আকারে বিদেশি বিনিয়োগ আসছে: অর্থমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দুটি আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত : জয়সওয়াল

প্রথমবার সঞ্চালকের ভূমিকায় মাধুরী দীক্ষিত

যুক্তিতর্কে প্রসিকিউশন: জুলাই অভ্যুত্থান দমনে ব্যবহৃত হয় ৩ লাখের বেশি গুলি

২৭ আগস্ট বসছে সংসদের তৃতীয় অধিবেশন

কলম্বিয়ায় ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২২৪

সাভারে একটি বাড়ি ঘিরে রেখেছে পুলিশ, ৫টি বোমাসদৃশ বস্তু উদ্ধার

জনগণ অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী হলেই রাষ্ট্র শক্তিশালী হবে : প্রধানমন্ত্রী