বুধবার, ২২শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ৭ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গ্যাস সিস্টেম লসে বছরে ক্ষতি ৬ হাজার কোটি টাকা

news-image

অনলাইন ডেস্ক : দেশে গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতা, অবৈধ সংযোগ ও পুরনো পাইপলাইনের লিকেজের কারণে প্রতিবছর হাজার হাজার কোটি টাকার গ্যাস অপচয় হচ্ছে। জ্বালানি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে গ্যাসের সিস্টেম লস ৯ দশমিক ৩৮ শতাংশ, যার আর্থিক ক্ষতি বছরে প্রায় ৬ হাজার ৩৮২ কোটি টাকা।

দেশে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২৭০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়। এর মধ্যে সিস্টেম লসের কারণে প্রতিদিন প্রায় ২৫ কোটি ৩৩ লাখ ঘনফুট গ্যাস হিসাবের বাইরে চলে যাচ্ছে। এর আর্থিক মূল্য প্রায় ১৭ কোটি ৪৯ লাখ টাকা।

তবে গ্যাস বিতরণে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) সর্বোচ্চ ২ শতাংশ পর্যন্ত কারিগরি ক্ষতি অনুমোদন করে। ফলে বর্তমান সিস্টেম লসের বাকি ৭ দশমিক ৩৮ শতাংশ অবৈধ সংযোগ, গ্যাস চুরি, লিকেজ ও ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতার কারণে হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।

জ্বালানি বিভাগের একাধিক সভায় সিস্টেম লস কমানোর লক্ষ্যমাত্রা পূরণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। সরকারের ১৮০ দিনের বিশেষ পরিকল্পনা অনুযায়ী ক্ষতি কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হলেও কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হয়নি। জিটিসিএল লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারলেও তিতাসসহ কয়েকটি বিতরণ কোম্পানি পিছিয়ে রয়েছে।

পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রায়ত্ত গ্যাস বিতরণ প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে তিতাসে সিস্টেম লস সবচেয়ে বেশি। গত অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটির ক্ষতির হার বেড়ে ৯ দশমিক ৪৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, সাভার ও মুন্সীগঞ্জ এলাকায় এখনো বিপুলসংখ্যক অবৈধ সংযোগ রয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

অবৈধ সংযোগের পাশাপাশি পুরনো পাইপলাইনের লিকেজও বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। জরিপে তিতাসের কয়েক হাজার কিলোমিটার পাইপলাইনে বিপুলসংখ্যক লিকেজ শনাক্ত হয়েছে, যার মাধ্যমে নিয়মিত গ্যাস অপচয় হচ্ছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জ্বালানি বিভাগ জোনভিত্তিক জবাবদিহি, অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণ এবং কর্মকর্তাদের জন্য পুরস্কার-শাস্তির ব্যবস্থা চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নির্ধারিত লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ কর্মকর্তাদের পদোন্নতি বন্ধ ও বেতন বৃদ্ধি স্থগিতের মতো ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু অভিযান চালিয়ে সিস্টেম লস কমানো সম্ভব নয়। এজন্য পুরনো পাইপলাইন পরিবর্তন, আধুনিক মিটারিং ব্যবস্থা চালু, অবৈধ সংযোগ বৈধ করার বাস্তবসম্মত নীতি এবং সংশ্লিষ্টদের কঠোর জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।