,

ধর্ষণের বিচার কি শুধু আশ্বাসেই সীমাবদ্ধ

news-image

বাংলাদেশে নারীর সংখ্যা মোট জনসংখ্যার অর্ধেকের বেশি হলেও তাদের নিরাপত্তাহীনতা ও সহিংসতার ঝুঁকি এখনো গভীর বাস্তবতা। ধর্ষণ বা নারী নির্যাতনের কোনো ঘটনা ঘটলেই দেশে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায় এবং কঠোর শাস্তির আশ্বাস আসে। কিন্তু সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে অনেক ঘটনাই ধীরে ধীরে আলোচনার বাইরে চলে যায়। ফলে নতুন কোনো ঘটনা ঘটলেই আবারও প্রতিবাদ শুরু হয়। প্রশ্ন থেকে যায়— এ ধরনের ভয়াবহ অপরাধের কতগুলো ঘটনার সত্যিকারের বিচার নিশ্চিত হয়েছে?

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা হত্যার ঘটনা, ফরিদপুরে এক শিশুকে প্রলোভন দেখিয়ে নির্যাতন ও হত্যার অভিযোগ, চট্টগ্রাম ও সীতাকুণ্ডে শিশুদের ওপর নৃশংস সহিংসতার মতো ঘটনা সমাজকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। এসব ঘটনা বিচারব্যবস্থা ও সামাজিক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ধর্ষণ শুধুমাত্র শারীরিক সহিংসতা নয়, এটি ক্ষমতার অপব্যবহার ও মানসিক বিকৃতির বহিঃপ্রকাশ। অনেক ক্ষেত্রে অপরাধীরা ভুক্তভোগীর ওপর আধিপত্য প্রতিষ্ঠা এবং নিয়ন্ত্রণের ইচ্ছা থেকে এমন অপরাধে জড়ায়। অপরাধের পর তারা প্রায়ই দায় এড়িয়ে ভুক্তভোগীর পোশাক বা আচরণকে দোষারোপ করার চেষ্টা করে, যা সামাজিকভাবে আরও বিভ্রান্তি তৈরি করে।

মনোবিজ্ঞান ও সমাজবিজ্ঞানের বিভিন্ন ব্যাখ্যায় বলা হয়, কিছু মানুষের মধ্যে আগ্রাসী মনোভাব ও ক্ষমতা প্রদর্শনের প্রবণতা অপরাধে রূপ নিতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করেন, কোনো জৈবিক বা সামাজিক ব্যাখ্যাই অপরাধকে কখনোই যুক্তিসঙ্গত করে না।

বাংলাদেশে ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন অনুযায়ী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে এসব মামলা পরিচালনার বিধান রয়েছে। তবুও বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রে তদন্তে ধীরগতি, সাক্ষ্য সংগ্রহে দুর্বলতা এবং দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়ার কারণে ভুক্তভোগীরা ন্যায়বিচার পেতে দেরির মুখে পড়েন। সামাজিক চাপ ও প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপও অনেক সময় বিচারপ্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে।

ফলে অনেক অপরাধের ক্ষেত্রে শাস্তি নিশ্চিত না হওয়ায় বিচারহীনতার একটি সংস্কৃতি তৈরি হচ্ছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। এতে শুধু ভুক্তভোগী নয়, পুরো সমাজই নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে পড়ে যায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এ সমস্যা সমাধানে শুধু কঠোর আইন যথেষ্ট নয়, তার দ্রুত ও নিরপেক্ষ প্রয়োগ নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সমাজকে নারীর প্রতি সম্মানবোধ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। নিরাপদ সমাজ তখনই গড়ে উঠবে, যখন নারী ও শিশুরা ভয় নয়, মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিয়ে জীবনযাপন করতে পারবে।

এ জাতীয় আরও খবর

কবিতা, কথাসাহিত্য ও জীবনের নানা বাঁকেকবি ও কথাসাহিত্যিক এ কে সরকার শাওনের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকার

নবীনগরে পূর্ব বিরোধের জেরে গুলি বিনিময়, আহত ১০ জন

কাগজে পরিবেশিত খাবারে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি

ধোবাউড়ায় তীব্র এলপিজি সংকট, দোকানে দোকানে ঘুরেও মিলছে না সিলিন্ডার

রইদ’-এর ঝুলিতে তিন পুরস্কার, সেরা অভিনেত্রী তুষি

স্বাস্থ্যব্যবস্থাসহ দেশের সব প্রতিষ্ঠানই বিপর্যস্ত: জামায়াত আমির

৭৫ মিনিটে তিন ভূমিকম্প, কেঁপে উঠল ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকা

৯ দিনের সফরে অস্ট্রেলিয়া-যুক্তরাষ্ট্র গেলেন সেনাপ্রধান

সেপ্টেম্বরে সড়ক দুর্ঘটনায় ৪২৩ মৃত্যু, সবচেয়ে বেশি মোটরসাইকেলে

মদিনার বিদ্যুৎকেন্দ্রে হুথিদের হামলার নিন্দা বাংলাদেশের

জাতিসংঘ অধিবেশনের পর নিউইয়র্কে থাকায় ইরানের দুই কূটনীতিক বহিষ্কার

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সুলিভানের ইতিহাসগড়া গোল, যুক্তরাষ্ট্রের বড় জয়