রবিবার, ২৬শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১১ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মুসলিমবিদ্বেষী স্লোগানে ক্ষুব্ধ ইয়ামাল বললেন, ‘আমি মুসলিম, আলহামদুলিল্লাহ’

news-image

স্পোর্টস ডেস্ক : স্পেন ও মিশরের গোলশূন্য প্রীতি ম্যাচকে ঘিরে মুসলিমবিদ্বেষী স্লোগানের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামাল। ঘটনাটি ঘটেছে বার্সেলোনার আরসিডিই স্টেডিয়ামে, যেখানে স্থানীয় পুলিশ ইতোমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে।

ম্যাচের প্রথমার্ধে গ্যালারি থেকে মুসলিমবিরোধী গান ও স্লোগান শোনা যায়। যদিও তা সরাসরি ইয়ামালকে লক্ষ্য করে ছিল না, তবুও একজন ধর্মপ্রাণ মুসলিম হিসেবে বিষয়টি তাকে গভীরভাবে আঘাত করেছে। সামাজিক মাধ্যমে ইয়ামাল লিখেছেন, ‘আমি মুসলিম, আলহামদুলিল্লাহ। স্টেডিয়ামে ‘যদি লাফ না দাও, তবে তুমি মুসলিম’—এ ধরনের স্লোগান দেওয়া হয়েছে। ব্যক্তিগতভাবে আমাকে উদ্দেশ্য করে না হলেও, মুসলিম হিসেবে এটি অসম্মানজনক এবং সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।’

তিনি আরও বলেন, ‘ফুটবল আনন্দের খেলা—সমর্থন জানানোর জায়গা, কারও ধর্ম বা বিশ্বাসকে বিদ্রূপ করার নয়। এ ধরনের আচরণ অজ্ঞতা ও বর্ণবাদের পরিচায়ক।’

বার্সেলোনায় জন্ম নেওয়া ইয়ামালের বাবা মরক্কোর এবং মা ইকুয়েটোরিয়াল গিনির হলেও তিনি ছোটবেলা থেকেই স্পেনের হয়ে খেলছেন। মাত্র ১৮ বছর বয়সেই তিনি দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়ে পরিণত হয়েছেন এবং ইউরোপের সর্বশেষ আসরে শিরোপা জয়ে বড় ভূমিকা রেখেছেন।

কাতালোনিয়ার ক্রীড়ামন্ত্রী বের্নি আলভারেজ জানান, এই ঘটনায় ইয়ামাল মানসিকভাবে প্রভাবিত হয়েছেন এবং তাকে সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে। তিনি বলেন, ‘এটি অত্যন্ত লজ্জাজনক ও গুরুতর ঘটনা। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই। এমন আচরণ পরিকল্পিত বলেই মনে হয়েছে।’

বার্সেলোনার স্থানীয় পুলিশ বাহিনী মোসোস দ’এসকুয়াদ্রা জানিয়েছে, তারা ইসলামবিদ্বেষী ও বিদেশিবিদ্বেষী স্লোগানের বিষয়টি তদন্ত করছে।

এদিকে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা-ও ম্যাচের বিভিন্ন প্রতিবেদন পর্যালোচনা করছে। রেফারি, ম্যাচ পরিদর্শক, নিরাপত্তা দল ও ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানা গেছে। ফলে স্পেনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ আসার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

ম্যাচ চলাকালে মিশরের জাতীয় সংগীত বাজানোর সময়ও দর্শকদের দুয়োধ্বনি শোনা যায়। পরে কিছু মিশরীয় খেলোয়াড় সেজদা দিলে আবারও শিস দেওয়া হয়। বিরতির সময় স্টেডিয়ামের পর্দায় ও ঘোষণায় দর্শকদের এমন আচরণ বন্ধ করার আহ্বান জানানো হলেও তা পুরোপুরি থামেনি।

ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে মিশরীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। তারা একে ‘জঘন্য বর্ণবাদী আচরণ’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেছে, ‘ফুটবলে এ ধরনের আচরণের কোনো স্থান নেই। এটি একটি নেতিবাচক প্রবণতা, যা সবাইকে মিলেই নির্মূল করতে হবে।’

এছাড়া ম্যাচের আয়োজক সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর বিলম্বিত প্রতিক্রিয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ক্রীড়ামন্ত্রী আলভারেজ। তিনি জানান, প্রথম স্লোগানের পরই ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল, প্রয়োজনে খেলা বন্ধ করে দেওয়া দরকার ছিল।

বার্সেলোনার ক্লাব এসপানিওলও এক বিবৃতিতে এ ঘটনাকে তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, ‘এ ধরনের বর্ণবাদী আচরণ খেলাধুলার মূল্যবোধের পরিপন্থী এবং এটি সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।’

 

এ জাতীয় আরও খবর

বিশ্বকাপ শেষে প্রথমবার জনসমক্ষে মেসি

সৌদি তেল স্থাপনায় হামলার দাবি হুথিদের

২০২৭ সালের হজ নিবন্ধন শুরু সোমবার, যেতে পারবেন না যেসব ব্যক্তি

চাকরি নয়, উদ্যোক্তা হওয়ার আহ্বান শিক্ষার্থীদের

দীর্ঘ প্রবাসে ডলি সায়ন্তনীর আবেগঘন বার্তা

গাজীপুর সিটির নতুন বাজেট ৫ হাজার ১০২ কোটি টাকা

বিদেশে ৮১ বাংলাদেশি মিশনে হবে ‘জুট কর্নার’

জাতীয় স্মৃতিসৌধে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে স্পিকারের সঙ্গে বৈঠকে যাবে ইসি

বঙ্গভবন ছাড়লেন সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন

জেলা-উপজেলায় হচ্ছে ‘এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ সেন্টার’

প্রযুক্তিনির্ভর সেনাবাহিনী গড়তে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ