,

কষ্টে চলা মানুষের ওপর চাপ আরও বাড়ছে

news-image

আবু আলী
নানা কারণে সদ্য বিদায়ী বছরে নিত্যপণ্যের বাজারে উত্তাপ ছিল। দামের চোটে বছরজুড়ে গড় মূল্যস্ফীতি থেকেছে দুই অঙ্কের কাছাকাছি। তবে খরচ বাড়লেও বাড়েনি মানুষের রোজগার। উল্টো চাকরি খুইয়ে ধুঁকছেন অনেকে। এতে জীবনযাত্রার খরচ সামাল দেওয়া অনেকটাই দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছিল সীমিত আয়ের মানুষের। নতুন বছরেও সেই ধারা অব্যাহত রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে অভ্যন্তরীণ বাজার কঠোর তদারকি করে দেশে উৎপাদিত পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি ঠেকানো সম্ভব। প্রয়োজনে চালের দাম সহনীয় রাখতে বাজার কৌশল নির্ধারণ করতে হবে। পাশাপাশি উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত গরিব মানুষকে বাজেটের মাধ্যমে নগদ ও খাদ্য সহায়তা দিয়ে সুরক্ষা দিতে হবে। যদিও অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর সুদের হার বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়; এনবিআরও তেল, আলু, পেঁয়াজ, ডিমসহ বেশকিছু নিত্যপণ্যে শুল্ক-কর কমিয়ে দেয়। বাজারে নিত্যপণ্যের আমদানিপ্রবাহ ঠিক রাখার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু এর মধ্যেও মূল্যস্ফীতির পারদ ঊর্ধ্বমুখী। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য বলছে, অক্টোবরে কমার পর নভেম্বর ও ডিসেম্বর টানা দুই মাস বেড়েছে মূল্যস্ফীতি। ডিসেম্বরে সার্বিক মূল্যস্ফীতি দশমিক ২০ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৪৯ শতাংশ। খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত দুই খাতেই বেড়েছে মূল্যস্ফীতি।

বিবিএসের প্রতিবেদনে বলা হয়, জাতীয় পর্যায়ে সাধারণ পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট ভিত্তিতে বিদায়ী বছরের ডিসেম্বর মাসে মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৪৯ শতাংশ। ডিসেম্বরে খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত খাতে মূল্যস্ফীতি বেড়ে হয়েছে যথাক্রমে ৭ দশমিক ৭১ শতাংশ ও ৯ দশমিক ১৩ শতাংশ। আগের মাস নভেম্বরে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৮ দশমিক ২৯ শতাংশ। এর মধ্যে খাদ্যে মূল্যস্ফীতি ছিল ৭ দশমিক ৩৬ শতাংশ এবং খাদ্যবহির্ভূত খাতে মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ০৮ শতাংশ।

নভেম্বরের তুলনায় ডিসেম্বর মাসের মূল্যস্ফীতি বাড়লেও ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসের তুলনায় মূল্যস্ফীতি কমেছে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে মূল্যস্ফীতি ছিল ১০ দশমিক ৮৯ শতাংশ। অর্থাৎ আগের বছরের তুলনায় মূল্যস্ফীতি কমেছে ২ শতাংশ। ২০২৪ সালে ডিসেম্বরে খাদ্যে মূল্যস্ফীতি ছিল ১২ দশমিক ৯২ শতাংশ। খাদ্যবহির্ভূত খাতে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৯ দশমিক ২৬ শতাংশ।

গ্রামীণ সূচকের সাধারণ পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট ভিত্তিতে ডিসেম্বরে মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৮ দশমিক ৪৮ শতাংশ। এর মধ্যে খাদ্যে দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ৬৭ শতাংশ আর খাদ্যবহির্ভূত খাতে ৯ দশমিক ২৬ শতাংশ। নভেম্বরে গ্রামীণ সূচক ছিল ৮ দশমিক ২৬ শতাংশ। এর মধ্যে খাদ্যে ছিল ৭ দশমিক ২৭ শতাংশ আর খাদ্যবহির্ভূত খাতে ছিল ৯ দশমিক ২৪ শতাংশ।

শহর সূচকে মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৫৫ শতাংশ। এর মধ্যে খাদ্য খাতে মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ৮৭ শতাংশ। খাদ্যবহির্ভূত খাতে দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৯৯ শতাংশ। যা গত নভেম্বর মাসে ছিল ৮ দশমিক ৩৯ শতাংশ। এর মধ্যে খাদ্য খাতে মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ৬১ শতাংশ। আর খাদ্যবহির্ভূত খাতে দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৯১ শতাংশ।

সব মিলিয়ে গত বছরের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর মাসের গড় মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৭৭ শতাংশ। যা ২০২৪ সালের একই সময়ে ছিল ১০ দশমিক ৩৪ শতাংশ। ৬৪টি জেলার ১৫৪টি হাট-বাজার থেকে নির্ধারিত সময়ে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের পর বিশ্লেষণ করে ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই) ও মূল্যস্ফীতি প্রস্তুত করা হয়েছে।

৮ দশমিক ৪৯ শতাংশের মূল্যস্ফীতির সময়ে জাতীয় পর্যায়ে মজুরি হার দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ০৭ ভাগ। যা গত নভেম্বর মাসে ছিল ৮ দশমিক ০৪ শতাংশ। তার আগের বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে মজুরির হার ছিল ৮ দশমিক ১৪ ভাগ। কৃষি, শিল্প এবং সেবা এই তিন খাতের ওপর ভিত্তি করে পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট ভিত্তিতে যথাক্রমে মজুরি ছিল ৮ দশমিক ১৬, ৭ দশমিক ৯১ এবং ৮ দশমিক ২৪ ভাগ।

 

এ জাতীয় আরও খবর

ঘরেই বানান জিভে জল আনা ‘চিড়া-মুগ ক্ষীর’

হাঁটতে বেরিয়ে সড়কে প্রাণ গেল ২ নারীর

‘সুখের মতো অসুখ’র দিনগুলোতে রবীন্দ্রনাথ

দুর্গাপূজাকে ঘিরে অপশক্তি চক্রান্ত করতে পারে: রিজভী

নবীনগরে সততা ব্রিকস ফিল্ডে ডাকাতি, নাইটগার্ড ও ম্যানেজারদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি, মামলা করলে হত্যার হুমকি

ঢাকায় আজ বৃষ্টি হবে কি?

জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভা রোববার

দুর্নীতিবাজ গ্রেপ্তারে আবার সক্রিয় হচ্ছে দুদক

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ, জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান

সংখ্যালঘু নয়, সবার পরিচয় হবে বাংলাদেশি: মাহ্‌দী আমিন

কুমিল্লায় স্কুলছাত্রী হত্যায় অটোরিকশাচালক গ্রেপ্তার

প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত, বিক্ষোভে প্রার্থীরা