সোমবার, ২৭শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১২ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আমাদের বিজয় আমাদের অহংকার

news-image

সরকার আবদুল মান্নান
চিরকালই বিজয় আনন্দের বার্তাবাহী। মানবজীবনে সুখ, আনন্দ, উৎসব ও উদযাপনের সংবাদ বয়ে আনে বিজয়। সেই বিজয় ব্যক্তিজীবন থেকে শুরু করে পারিবারিক, সামাজিক, রাষ্ট্রীয় ও বৈশ্বিক পটভূমিতেও সংঘটিত হতে পারে। কিন্তু যে বিজয় হাজার বছর ধরে প্রতীক্ষার পর অর্জিত হয় এবং যে বিজয়ের পশ্চাতে অনেক সংগ্রাম ও ত্যাগের ইতিহাস জড়িত থাকে, যে বিজয় এক সাগর রক্তের বিনিময়ে অর্জিত হয় এবং একটি জাতি তার হাজার বছরের পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্ত হয়, সে বিজয়ের তাৎপর্য অসামান্য। বাঙালি জাতি সেই বিজয় অর্জন করে আজ থেকে অর্ধশতাধিক বছর আগে। আমাদের সেই বিজয় অর্জিত হয়েছিল ইতিহাসের বিপুল পটভূমিতে; ইতিহাসের নানা মোড় ও বাঁকে- অসংখ্য বিপ্লব-বিদ্রোহের ভেতর দিয়ে।

আমাদের জাতীয় জীবনে বিজয়ের প্রত্যক্ষ ও দৃশ্যগ্রাহ্য রূপ দেখতে পাই ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর থেকে। একটি রাষ্ট্রের টিকে থাকার অস্তিত্বের দর্শন কখনই ধর্মভিত্তিক হতে পারে না; কখনই সাম্প্রদায়িক শক্তি ও আদর্শের আলোকে একটি রাষ্ট্র চলতে পারে না; কিন্তু আমরা বিস্ময়ের সঙ্গে লক্ষ করলাম, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে যে পটভূমি রচিত হয়েছিল ২০০ বছর ধরে, সেই আন্দোলনের মূল দর্শনই ছিল গণতন্ত্র, সাম্য, স্বাধীনতা ও মুক্তি। কিন্তু পাকিস্তান নামে একটি রাষ্ট্র গঠিত হয়েছিল ধর্মীয় দর্শনের আলোকে, সাম্প্রদায়িক চেতনার ভেতর দিয়ে, যা এ দেশের মানুষ কখনই গ্রহণ করেনি।

বেশি দিন অপেক্ষা করতে হয়নি। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী টেস্ট টিউবে ভূমিষ্ঠ হওয়া দুই সন্তানের একটিকে গলা টিপে মেরে ফেলার জোগার-যন্ত করে ফেলে। স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, তুমি তোমার ভাষায় কথা বলতে পারবে না, লিখতে পারবে না। তোমার বাংলা ভাষার কথা ভুলে যাও। ওই ভাষা মুসলমানদের ভাষা হতে পারে না। ওই ভাষা হিন্দুদের ও ম্লেচ্ছদের। তোমাকে কথা বলতে হবে উর্দুতে, লিখতে হবে উর্দুতে। আর ওই হিন্দু ও ম্লেচ্ছদের ভাষায় সে পর্যন্ত যা লেখা হয়েছিল, সেগুলোকে ইসলামায়িত করার প্রকল্পও হাতে নিয়েছিল তারা। সুতরাং পকিস্তান আন্দোলনে সংশ্লিষ্ট বাঙালিদের মোহমুক্তি ঘটতে সময় লাগেনি। এবং তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি ও তার সহযোদ্ধারা এখান থেকেই পেয়ে যান ভাষাভিত্তিক জাতিরাষ্ট্র গঠনের আন্দোলনের বীজমন্ত্র।

তারপর ইতিহাস আমরা ভালো করে জানি। আমরা জানি, শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে এবং আরও অসংখ্য নেতা-নেত্রীর জীবন উৎসর্গ করার মধ্য দিয়ে আমরা একত্রিত হয়েছিলাম এবং সেই একত্রিত হওয়ার প্রেরণার মূলে ছিল জাতীয়তাবাদী, অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক ও সাম্যের ভিত্তিতে একটি জাতিরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় এবং তার পরিণতিতে নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের ভেতর দিয়ে আমরা অর্জন করি আমাদের বিজয়, আমাদের মুক্তি, আমাদের স্বাধীনতা। সেই বিজয়ের পেছনে, সেই মুক্তি ও স্বাধীনতার পেছনে যেসব মানুষের নাম ইতিহাসে অক্ষয় হয়ে আছে তাদের আমরা চিনি, তারা আমাদের প্রার্থনায় আছেন। কিন্তু যেসব মুক্তিযোদ্ধা, আত্মত্যাগী নর-নারী, যাদের নাম ইতিহাসে লেখা নেই, যারা নীরবে-নিভৃতে এই দেশমাতৃকার স্বাধীনতার জন্য, বিজয়ের জন্য, মুক্তির জন্য জীবন উৎসর্গ করে গেছেন তাদের প্রতিও আমাদের গভীর শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও অফুরন্ত কৃতজ্ঞতা।

বাঙালি জাতি কখনওই পরাভব নয়। যে প্রত্যয় ও প্রতিজ্ঞার পটভূমিতে এ দেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন এবং বিজয় অর্জন করেছিলেন, ঐক্যের সেই রক্তপ্রবাহ এখনও ধাবমান আছে জাতীয় জীবনে-হৃৎকলমে। আমরা নিশ্চয়ই মুক্তিযুদ্ধের চেতনাধৃত সংবিধানের মূলনীতিগুলো জাতীয় জীবনে বাস্তবায়ন করে একটি আধুনিক ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করতে পারব। া

 

এ জাতীয় আরও খবর

আমড়া খাওয়ার এই উপকারিতাগুলো জানতেন?

কাহানি থ্রি-তে বিদ্যা বালান নয়, মূল চরিত্রে ইয়ামি গৌতম

২০২৬-২৭ অর্থবছর: রপ্তানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ১৫ শতাংশ, আয় হতে পারে ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার

সাবেক রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ সরকার পর্যালোচনা করছে : আইনমন্ত্রী

যাত্রীবাহী বাস খাদে পড়ে আহত ২০

কলকাতার ‘পাখি’ এবার ঢাকাই সিনেমার ‘চামেলি’

সৌদিতে এক সপ্তাহে প্রায় ১৫ হাজার অভিবাসী গ্রেপ্তার

স্বামীকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ গেল স্ত্রীরও

সাত মাসের মেয়েকে হত্যার মামলায় বাবার ৩ দিনের রিমান্ড

হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু

ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৪৫৮

রেমিট্যান্সে বড় গতি, ২৫ দিনে এলো ২৮ হাজার কোটি টাকা