সোমবার, ২৭শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১২ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যেখানে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে হিমশিম খাচ্ছে ইসরায়েল

news-image

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : তিনদিক থেকে আসা যুদ্ধ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে ইসরায়েল। ইরানের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে জড়ানোর পর অর্থনৈতিক দারুণ চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে দেশটি। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলের মাসিক যুদ্ধব্যয় ১২ বিলিয়ন ডলার। বিশ্লেষকরা বলছেন তেল আবিবের অর্থনীতি এভাবে খুব বেশি সময় টিকে থাকতে পারবে না।

বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধ ব্যয়বহুল। ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি এবং প্রাণহানির বিষয়টি বাদ দিলেও, যুদ্ধ চালাতে, অস্ত্র কিনতে অর্থ লাগে। তার পাশাপাশি প্রয়োজন হয় জনশক্তির। ইসরায়েল এখন সেই প্রয়োজনগুলি টের পাচ্ছে।

২০২৩-এর ৭ অক্টোবর হামাস ইসরায়েলে হামলা চালানোর পর থেকে শুরু হয়েছে সংঘাত। যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, ইসরায়েলসহ এবাধিক দেশ হামাসকে জঙ্গি সংগঠন হিসাবে চিহ্নিত করেছে। এই হামলার পর হিজবুল্লাহ ও হুতির সঙ্গেও সংঘাতে জড়িয়েছে ইসরায়েল। গত সপ্তাহে ইরানের পারমাণবিক কেন্দ্রে আক্রমণ চালায় ইসরায়েল। তারপর ইসরায়েল-ইরান সংঘাত প্রবল আকার নিয়েছে। এর ফলে চাপে পড়েছে ইসরায়েলের অর্থনীতি।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের বরাত দিয়ে তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি জানায়, যুদ্ধে ইসরায়েলের প্রধান খরচ হল ডেভিড’স স্লিং, অ্যারো ২ এবং ৩ এর মতো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয়করণ, যার প্রতিটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার জন্য প্রতি বিমানে ৭ লাখ থেকে ৪০ লাখ ডলার খরচ হতে পারে। এ ছাড়া জেডিএএম ও এমকে-৮৪ এর মতো বোমা ব্যবহারের পাশাপাশি এফ-৩৫ উড্ডয়নের খরচ প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ১০ হাজার ডলার।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল বলছে, প্রাথমিক অনুমান ইঙ্গিত দেয় যে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে প্রতিদিন ইসরায়েল ২০০ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত ব্যয় করছে। এই সংখ্যাটি কয়েকশ মিলিয়ন ডলারও হতে পারে। সেক্ষেত্রে মাসব্যাপী যুদ্ধের খরচ প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলার।

যুদ্ধের সরাসরি ব্যয় ছাড়াও অর্থনৈতিকভাবে একাধিক খাতে বিপাকে পড়েছে ইসরায়েল। এই প্রভাব নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন তৈরি করেছে জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভ্যালে। তারা অতিরিক্তি শূন্যপদ, করসহ একাধিক ইস্যু সামনে এনেছে।

অতিরিক্ত শূন্যপদ

মিলিটারি রিজার্ভ ফোর্সে থাকা অনেককে যুদ্ধক্ষেত্রে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। রিজার্ভ ফোর্সে থাকা এই কর্মীরা অন্য সময়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করেন, তারা যুদ্ধে যাওয়ায় সেসব ক্ষেত্রগুলিতে কর্মীসংখ্যা কমছে। এর মধ্যেই ফিলিস্তিনিদের ওয়ার্ক পারমিট বাতিল করা হচ্ছে। ফলে কর্মক্ষেত্রে শূন্যপদ বাড়ছে ।

এর মধ্যে সামরিক খাতে খরচও অনেকটা বেড়েছে। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইন্সটিটিউটে প্রকাশিত একটি রিপোর্ট জানাচ্ছে, ২০২৪-এ ইসরায়েলের সামরিক খাতে খরচ ৬৫ শতাংশ বেড়ে প্রায় চার হাজার ৬৫০ কোটি মার্কিন ডলার ছুঁয়েছে। ইসরায়েল জিডিপির ৮ দশমিক ৮ শতাংশ খরচ করছে সামরিক খাতে। সামরিক খাতে এর থেকেও বেশি খরচ করে একমাত্র ইউক্রেন। ইসরায়েলের একটি পত্রিকায় জানানো হয়েছে এই বছর সরকারের খরচ সবমিলিয়ে প্রায় ২১ শতাংশ বাড়বে। এটি ইসরায়েলের ইতিহাসে সবথেকে বেশি বরাদ্দ বলে মনে করা হচ্ছে।

একের পর এক সংঘাত ক্রমেই চাপ সৃষ্টি করছে ইসরায়েলের অর্থনীতিতে। তেল আবিব বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক ইতাই আতের ডিডাব্লিউকে জানান, ‘এই মুহূর্তে সামরিক ক্ষেত্রে আক্রমণ এবং রক্ষণ দুইই খুব ব্যায়বহুল হয়ে পড়েছে। এর প্রভাব পড়বে ইসরায়েলের বাজেটে। ঘাটতি, জিডিপি ও দেশের ঋণের মাত্রার উপরও তা প্রভাব ফেলবে।’

তিনি জানান, গত শুক্রবারের ইরানের সঙ্গে সংঘাত শুরু হওয়ার পরে উৎপাদন শিল্প, বাণিজ্য ক্ষেত্র, তথ্যপ্রযুক্তি এবং শিক্ষা ক্ষেত্রেও কাজে অনুপস্থিত থেকেছেন বহু মানুষ।

বাড়ছে কর

অর্থনীতিতে চাপ কমাতে করও বাড়াচ্ছে দেশের সরকার। দেশের পণ্যের উপর ভ্যালু আডেড ট্যাক্স (ভ্যাট) এই বছরের শুরুতেই ১৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ১৮ শতাংশ হয়েছে। কর্মীদের বেতন থেকে কাটা হচ্ছে স্বাস্থ্য কর। বেড়েছে জাতীয় বিমার অর্থও।

হাইফা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক বেনিয়ামিন বেনতাল জানান, ‘ব্যয় দেড় বছরে অনেক বেড়ে গেলেও ইসরায়েলের অর্থনীতি স্থিতিশীল থেকেছে। পর্যটন, উৎপাদন শিল্প, নির্মাণ শিল্প বা কৃষি ক্ষেত্র, প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা, এবং খুচরো খাদ্য শিল্প স্থিতিশীল থেকেছে। ২০২৪-এ দেশের অর্থনীতি প্রায় ৫৪ হাজার কোটি মার্কিন ডলারে ঠেকেছে যা বিগত দুই বছরের তুলনায় বেশি।’

প্রযুক্তি ক্ষেত্রের উপর নির্ভরশীল অর্থনীতি

ইসরায়েলের অর্থনীতি হাইটেক প্রযুক্তি শিল্পের উপর নির্ভরশীল। যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিনিয়োগ ব্যাংকের রিপোর্ট অনুযায়ী, ইসরায়েলের প্রায় ১২ শতাংশ কর্মী এই শিল্পে কর্মরত। মোট আয়করের ২৫ শতাংশ আসে এই ক্ষেত্র থেকে। দেশের মোট রপ্তানির ৬৪ শতাংশ হাইটেক প্রযুক্তি ক্ষেত্র থেকে হয়। মোট জিডিপির ২০ শতাংশ আসে এই ক্ষেত্র থেকে। তবে ইসরায়েল ইনোভেশান ইন্ডাস্ট্রির রিপোর্ট বলছে, ২০২২ থেকে এই ক্ষেত্রে কর্মী সংখ্যা স্থির আছে। বিগত এক দশকের মধ্যে ২০২৪-এ প্রথমবার এই ক্ষেত্রে কর্মী সংখ্যা কমেছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা কর বাড়ার কারণে এই ক্ষেত্রে কর্মী সংখ্যা আরও কমতে পারে।

তবে আতেরের মতে, বিনিয়োগকারীরা এখনো আস্থা হারাননি। তিনি বলেন, ‘বিনিয়োগকারীরা হয়তো ভাবছেন এই সংঘাতের দ্রুত নিষ্পত্তি হবে, ইরানের পারমাণবিক কাঠামো ধ্বংস হবে এবং অর্থনীক্তি নিজের জায়গায় ফিরে আসবে। তবে এই সংঘাত যদি দ্রুত না থামে, তাহলে ইসরায়েলের অর্থনীতির ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল নয়।’

 

এ জাতীয় আরও খবর

আমড়া খাওয়ার এই উপকারিতাগুলো জানতেন?

কাহানি থ্রি-তে বিদ্যা বালান নয়, মূল চরিত্রে ইয়ামি গৌতম

২০২৬-২৭ অর্থবছর: রপ্তানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ১৫ শতাংশ, আয় হতে পারে ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার

সাবেক রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ সরকার পর্যালোচনা করছে : আইনমন্ত্রী

যাত্রীবাহী বাস খাদে পড়ে আহত ২০

কলকাতার ‘পাখি’ এবার ঢাকাই সিনেমার ‘চামেলি’

সৌদিতে এক সপ্তাহে প্রায় ১৫ হাজার অভিবাসী গ্রেপ্তার

স্বামীকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ গেল স্ত্রীরও

সাত মাসের মেয়েকে হত্যার মামলায় বাবার ৩ দিনের রিমান্ড

হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু

ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৪৫৮

রেমিট্যান্সে বড় গতি, ২৫ দিনে এলো ২৮ হাজার কোটি টাকা