বৃহস্পতিবার, ২৩শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ৮ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

টাকা চুরির অভিযোগে শিশুকে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন

news-image

গাইবান্ধা প্রতিনিধি : টাকা চুরির অভিযোগ এনে গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলায় এক শিশুকে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ ওঠেছে। গত মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার নলডাঙ্গা ইউনিয়নের দশলিয়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।

শিশুটির বয়স ৯ বছর। নাম রানা মিয়া। তার বাড়ি সাদুল্লাপুর উপজেলার নলডাঙ্গা ইউনিয়নের দশলিয়া গ্রামে। সে ওই গ্রামের আনছার আলীর ছেলে। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বুধবার রাতে গণমাধ্যমের নজরে আসে।

এছাড়া খুটিতে বেঁধে রাখার ৫৪ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, শিশুটির দুই হাত পিছনে খুটির সঙ্গে বেঁধে রাখা। কিছু মানুষ তাকে ঘিরে আছে। বিভিন্ন জন তাকে নানা রকম প্রশ্ন করছে। এসময় শিশুটিকে বলতে শোনা যায়, হাত খুলে দেন, ব্যথা লাগছে। এসময় শিশুটিকে বিমর্ষ দেখাচ্ছিল।

এলাকাবাসী ও শিশুর পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত তিনদিন আগে নলডাঙ্গা ইউনিয়নের দশলিয়া গ্রামের বিকাশ ব্যবসায়ী মোস্তাফিজুর রহমানের বাড়ি থেকে মোবাইল ও কিছু টাকা হারিয়ে যায়। এই ঘটনায় জড়িত মনে করে ওই শিশুটিকে মঙ্গলবার সকাল ৯ টার দিকে সন্দেহজনকভাবে তার বাড়ি থেকে ধরে আনা হয়। তাকে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী স্থানীয় বাজারে একটি মুদি দোকানের সামনের সিমেন্টের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়। এসময় তাকে নির্যাতন করে মারধর করে ওই ব্যবসায়ী ও তার লোকজন। এক পর্যায়ে শিশুটির হাতে সুচ ঢোকানোর চেষ্টা করা হয়। পরে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। একটি মহল ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে।

এদিকে মঙ্গলবার রাতে তাকে সাদুল্লাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। আজ বৃহস্পতিবার দুপুর পৌনে ২টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত শিশুটি হাসপাতালের পুরুষ ওয়ার্ডের ৮ নম্বর শয্যায় চিকিৎসাধীন ছিল। শিশুটি বাম হাত ও বাম পায়ে আঘাত পেয়েছে। উঠে দাঁড়াতে পারে না।

জানতে চাইলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) সুরঞ্জন কুমার মুঠোফোনে বলেন, শিশুটি বাম হাত ও বাম পায়ে আঘাত পেয়েছে। তাকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

শিশুটির মা রেখা বেগম অভিযোগ করে বলেন, টাকা চুরির অভিযোগ এনে ব্যবসায়ী মোস্তাফিজুর রহমান আমার ছেলেকে বাড়ি থেকে জোর করে ধরে নিয়ে যায়। তারপর আমার ছেলেটিকে বিনা অপরাধে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রেখে নির্যাতন করে। পরে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় আমার ছেলেকে ছেড়ে দেয় তারা। তিনি বলেন, আমার ছেলে কোনো দোষ করেনি। আমি এই নির্যাতনের বিচার চাই। কিন্তু আমাকে মীমাংসার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে।

এবিষয়ে বুধবার রাতে সাদুল্লাপুর থানার ওসি তাজ উদ্দিন খন্দকার জানান, শিশুটিকে খুঁটিতে বেঁধে রাখার কথা শুনেছি। আমি সশরীরে হাসপাতালে তাকে দেখতে গিয়েছি। শিশুটির অভিভাবককে মামলা দেওয়ার কথা বলেছি। বুধবার গভীর রাত পর্যন্ত থানায় অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অপরদিকে এসব বিষয় জানতে অভিযুক্ত ব্যবসায়ী মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। প্রথমে তিনি ফোন ধরেননি। তারপর তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

এ জাতীয় আরও খবর

বিক্ষোভে গিয়ে আটক ‘ধুরন্ধর’ অভিনেত্রী আয়েশা খান

আন্দোলনে কাঁপছে দিল্লি, চাপের মুখে মোদি

তফসিল আগস্টে, প্রথম ধাপের ভোট অক্টোবরে : ইসি আনোয়ারুল

১২৮ দলের বিশ্বকাপও হতে পারে ভবিষ্যতে

নিট আন্দোলন: আলোচনার উদ্যোগ সরকারকেই নিতে হবে বলল সিজেপি

তাসনিম জারার তদন্তের দাবি, এমপি গাজী নজরুলের ভিডিও নিয়ে বিতর্ক

২০২৭ সালের হজে বেসরকারি ৩ প্যাকেজ, খরচ কত

টেক্সটাইল খাতের সমস্যা সমাধানে কমিটি গঠন

একনেকে ১৪ হাজার কোটি টাকার ৮ প্রকল্প অনুমোদন

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী নৌপ্রধানের সাক্ষাৎ

শিক্ষার্থী বিক্ষোভে উত্তাল ভারত, রাহুলের পাঁচ দাবি

আহমদ ছফার দেহাবশেষ স্থানান্তর হলো বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে