,

মাধ্যমিকের আগে থাকবে না পাবলিক পরীক্ষা

news-image

এম এইচ রবিন
চলতি শিক্ষাবর্ষ থেকেই প্রাথমিক ও এবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী, অষ্টম শ্রেণির শেষে জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) এবং জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষা আর হবে না। শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এই পরীক্ষা না নেওয়ার প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কারিকুলামে না থাকলেও সরকারের প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে দীর্ঘদিন চলে আসছিল এসব পরীক্ষা।

নতুন শিক্ষাক্রম অনুযায়ী প্রাক-প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক স্তরের শিক্ষা ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের বাস্তবায়ন শুরু হচ্ছে চলতি বছর। পর্যায়ক্রমে প্রাথমিক ও মাধ্যমিকে নতুন শিক্ষাক্রম পুরোপুরি বাস্তবায়ন হতে আরও তিন-চার বছর লাগবে। এই কারিকুলামে যেভাবে মূল্যায়নের কথা বলা হয়েছে, প্রাথমিকে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত বিদ্যালয়েই ধারাবাহিক মূল্যায়ন হবে। চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণিতে গিয়ে শিখনকালীন মূল্যায়ন হবে ৬০ শতাংশ। বাকি ৪০ শতাংশ মূল্যায়ন হবে ক্লাস শেষে পরীক্ষার মাধ্যমে, যাকে সামষ্টিক মূল্যায়ন বলা হচ্ছে। ষষ্ঠ ও অষ্টম শ্রেণিতে বিদ্যালয়ে ধারাবাহিক মূল্যায়ন হবে ৬০ শতাংশ। বাকি ৪০ শতাংশ হবে সামষ্টিক মূল্যায়ন। নবম ও দশম শ্রেণিতে কয়েকটি বিষয়ে শিখনকালে অর্ধেক মূল্যায়ন হবে। বাকি অর্ধেক হবে সামষ্টিক মূল্যায়ন। এ ছাড়া একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণিতে ৩০ ভাগ শিখনকালীন মূল্যায়ন এবং ৭০ ভাগ সামষ্টিক মূল্যায়ন হবে। নতুন পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞান নাকি অন্য শাখায় পড়বে, সেটা ঠিক হবে একাদশ শ্রেণিতে গিয়ে। এর আগে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত সবাইকে অভিন্ন ১০টি বিষয় পড়তে হবে। দশম শ্রেণির আগে কোনো পাবলিক পরীক্ষা নেওয়ারও কথা নেই নতুন শিক্ষাক্রমে। একেবারে দশম শ্রেণির পর এসএসসি নামে পাবলিক পরীক্ষা হবে। এই পরীক্ষা হবে শুধু দশম শ্রেণির পাঠ্যসূচির ভিত্তিতে।

এখন নবম ও দশম শ্রেণির পাঠ্যসূচির ভিত্তিতে এসএসসি পরীক্ষা হয়। একইভাবে নতুন পাঠ্যসূচি অনুযায়ী একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণিতে এখন থেকে দুটি পাবলিক পরীক্ষা হবে। অর্থাৎ প্রতি বর্ষ শেষে হবে পাবলিক পরীক্ষা। আর এই দুই পরীক্ষার ফলের সমন্বয়ে এইচএসসির চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হবে।

গতকাল সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর এবং বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডে পাঠানো এক চিঠিতে জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষা গ্রহণ না করার অনুরোধ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে জেএসসি এবং জেডিসি পরীক্ষা না নেওয়ার প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়াধীন নেওয়া প্রাথমিক ও এবতেদায়ী সমাপনী পরীক্ষা না নেওয়ার প্রস্তাবে প্রধানমন্ত্রী এক মাস আগেই সম্মতি দিয়েছেন।

এ বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব ফরিদ আহাম্মদ বলেন, আমরা ইতিমধ্যে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরকে চিঠি দিয়েছি পঞ্চম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষা গ্রহণ না করার জন্য। এর আগে অন্তত এক মাস আগেই প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে এই পরীক্ষা না নেওয়ার প্রস্তাব অনুমোদন করে নেওয়া হয়েছিল।

২০০৯ সালে হঠাৎ করে জাতীয়ভাবে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী বা পিইসি পরীক্ষা নেওয়া শুরু করে সরকার। প্রথমে শুধু সাধারণ ধারার শিক্ষায় এটি সীমাবদ্ধ ছিল। পরে মাদ্রাসার এবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী (পঞ্চম শ্রেণির সমমান) পরীক্ষাও চালু করা হয়। ২০১০ সালে শুরু হয় জেএসসি। এসব পরীক্ষা নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে। বিশেষ করে পিইসি পরীক্ষা শিশুদের ওপর অতিরিক্ত চাপের সৃষ্টি করছে। তাই এই পরীক্ষা বাদ দিতে শিক্ষাবিদ, শিক্ষাবিষয়ক গবেষক ও অভিভাবকদের বিভিন্ন সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছেন।

করোনা মহামারীর কারণে গত তিন বছর ধরে পিইসি, জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষা হয়নি। এমন অবস্থায় সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এই তিন পাবলিক পরীক্ষা বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কিন্তু পিইসি না হলেও বিদায়ী বছরের শেষ পর্যায়ে আকস্মিকভাবেই পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ওপর প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা চাপিয়ে দিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, যা নিয়ে সমালোচনা চলছে।

 

এ জাতীয় আরও খবর

বিদায়ি বক্তব্যে কাঁদলেন মির্জা ফখরুল

গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ১৪ কার্গো এলএনজি কিনবে সরকার

১২ জেলায় ঝড়ো হাওয়ার সতর্কতা

ময়মনসিংহে এনসিসি ব্যাংকের স্টুডেন্ট ব্যাংকিং ক্যাম্পেইন ও বৃক্ষবিতরণ অনুষ্ঠিত

বিএসইসির ১৭ কর্মকর্তা বাধ্যতামূলক অবসরে

অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশকে ঘিরে বাড়ছে আগ্রহ

প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একনেকের সভা

জিয়া-খালেদার সমাধিতে বিএনপির নতুন ৪ নেতার শ্রদ্ধা

সমাজের সবাই এগিয়ে এলে বড় সমস্যার সমাধান সম্ভব: প্রধানমন্ত্রী

ইসলামি ব্যাংকগুলোর আমানতে বড় পতন

রাষ্ট্রপতি হলেও জনগণের পাশে থেকে সেবা করতে চাই: মির্জা ফখরুল

গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাসে যা করবেন, যা করবেন না