,

না.গঞ্জে ডেঙ্গু রোগী বাড়লেও উদাসীন সিটি কর্পোরেশন

news-image

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি : নারায়ণগঞ্জে ডেঙ্গু রোগী আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। শহরের প্রধান দুটি সরকারি হাসপাতালে গড়ে প্রতিদিন ৪০ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা গ্রহণ করছে। এরমধ্যে গড়ে ভর্তি হচ্ছে ১২ জন। জেলায় এখনো ডেঙ্গু রোগে কোন মৃত্যুর সংবাদ পাওয়া না গেলেও পরিস্থিতি অস্বাভাবিক হয়ে উঠছে বলে মনে করছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

এই পরিস্থিতিতে চলতি অর্থবছরে মশক নিধনের বাজেট অর্ধেকে নামিয়ে এনেছে সিটি কর্পোরেশন। এছাড়া ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে কোন বিশেষ কার্যক্রম না থাকায় উদাসীনতায় অভিযোগ উঠেছে সিটি কর্পোরেশনের বিরুদ্ধে।

নারায়ণগঞ্জ শহরের খানপুরস্থ ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন বহিঃবিভাগে চিকিৎসা নিচ্ছে গড়ে ১০ জন। একই পরিস্থিতি জেনারেল হাসপাতালেও। হাসপাতালের ইনডোর ও আউটডোরে প্রতিদিন গড়ে ২০ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা নিচ্ছে বলে জানান হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। বহিঃবিভাগ থেকে চিকিৎসা গ্রহণ করছে ৯-১০ জন। এছাড়াও প্রাইভেট হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চলছে ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসা।

এব্যাপারে ‘আমরা নারায়ণগঞ্জবাসী’ সংগঠনের সভাপতি মো. নুরুদ্দিন বলেন, নগরীতে একসময় যেভাবে মশা নিধন কার্যক্রম চলতো, এখন সেই পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে না। সিটিতে কার্যকর পদ্ধতিতে এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে না। এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে বিশেষ কোনো ব্যবস্থা আমি দেখছি না। শহরে ও শহরের বাহিরে অনেক নির্মাণাধীন ভবন ও বাসাবাড়িতে পানি জমে থাকে। এসব জায়গায় এডিস মশার লার্ভা বেশি থাকে। সিটি কর্পোরেশন থেকে এসব জায়গায় পরিদর্শনসহ অভিযান চালাতে দেখা যেত কয়েকবছর আগেও। ইচ্ছে করলে সিটি কর্পোরেশন বিশেষ ব্যবস্থা নিতে পারে, এমনটা হলে শহরবাসী উপকৃত হবে।

তিনি আরও বলেন, অক্টোবর-নভেম্বর মাসে আগে কখনও ডেঙ্গু প্রকোপ এতো বেশি দেখা যায়নি। এখন ডেঙ্গুর যে পরিস্থিতি, এটা একটা এলার্মিং সিচুয়েশন (উদ্বেগজনক পরিস্থিতি)। এখনই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে আনা জরুরি।

সিটি কর্পোরেশনের তথ্যানুযায়ী, মশক নিধন ও ফগার মেশিনের জ্বালানির জন্য ২০২২-২০২৩ অর্থবছরের বাজেট ২ কোটি ৬০ লাখ টাকা। গত বছরে এই বাজেট ছিল ৪ কোটি ৬৪ লাখ ২ হাজার ৫৩৯ টাকা। মশক নিধন কার্যক্রমে ১৭০ জন কর্মী নিযুক্ত রয়েছে। এর বাহিরে রয়েছে একটি টিম যারা জরুরি প্রয়োজনে মশক নিধন করে।

ডেঙ্গু পরিস্থিতি প্রসঙ্গে জেলা সিভিল সার্জন ডা. মশিউর রহমান বলেন, ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। তবে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর মতো ঘটনা ঘটেনি। পুরো দেশের মতো আমাদের জেলাতেও মশক নিধনে সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে। কারণ সচেতন না হলে পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, ডেঙ্গু রোগ থেকে রক্ষায় আমাদের সচেতন হতে হবে। এডিস বাসাবাড়ি বা নির্মাণাধীন ভবনে জমে থাকা স্বচ্ছ পানিতে জন্ম নেয়। বাড়ির আশেপাশে যেন পানি জমে না থাকে, সেই দিকে নজর রাখতে হবে। প্রশাসনিকভাবে জরুরি ভিত্তিতে এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন।

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা শ্যামল চন্দ্র পাল বলেন, সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে ২৭টি ওয়ার্ডে মশক নিধনের জন্য নিয়মিত কাজ করছি আমরা। কিন্তু আমাদের যেহেতু নিজস্ব কোন ম্যাজিস্ট্রেট নেই, তাই আমরা পূর্বের ন্যায় অভিযান করার মতো কঠোর হতে পারছি না। আগে নির্মাণাধীন ভবন বা অন্য কোন প্রতিষ্ঠানের আবদ্ধ পানিতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেলে জরিমানা করা হতো। কিন্তু এখন এটা হচ্ছে না।

 

এ জাতীয় আরও খবর

বিদায়ি বক্তব্যে কাঁদলেন মির্জা ফখরুল

গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ১৪ কার্গো এলএনজি কিনবে সরকার

১২ জেলায় ঝড়ো হাওয়ার সতর্কতা

ময়মনসিংহে এনসিসি ব্যাংকের স্টুডেন্ট ব্যাংকিং ক্যাম্পেইন ও বৃক্ষবিতরণ অনুষ্ঠিত

বিএসইসির ১৭ কর্মকর্তা বাধ্যতামূলক অবসরে

অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশকে ঘিরে বাড়ছে আগ্রহ

প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একনেকের সভা

জিয়া-খালেদার সমাধিতে বিএনপির নতুন ৪ নেতার শ্রদ্ধা

সমাজের সবাই এগিয়ে এলে বড় সমস্যার সমাধান সম্ভব: প্রধানমন্ত্রী

ইসলামি ব্যাংকগুলোর আমানতে বড় পতন

রাষ্ট্রপতি হলেও জনগণের পাশে থেকে সেবা করতে চাই: মির্জা ফখরুল

গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাসে যা করবেন, যা করবেন না