,

কৃত্রিম হাতের ভেতরে লুকানো ইয়াবার অভিনব কারবার

news-image

নিজস্ব প্রতিবেদক : রানা হাওলাদার (২৬) পেশায় একজন অটোরিকশাচালক হলেও তার মূল পেশা ইয়াবা কারবারি। গত চার বছর আগে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে রানা হাওলাদারের বাম হাতের নিচের অংশ কেটে ফেলা হয়। এরপর প্লাস্টিকের হাত লাগানো হয়। ওই হাতের ভেতরে কৌশলে রানা ইয়াবা পাচার করতেন। প্রায় আট বছর ধরে এই কাজ করছিলেন তিনি। তবে এমন অভিনব কায়দায় ইয়াবার কারবার চালিয়ে আসলেও শেষ রক্ষা হয়নি। অবশেষে তাকে গ্রেপ্তার করেছে হাতিরঝিল থানা পুলিশ।

আজ বুধবার সকালে তেজগাঁও পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) এইচ এম আজিমুল হক এ তথ্য জানান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন তেজগাঁও বিভাগের তেজগাঁও জোনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার রুবাইয়াত জামান, শিল্পাঞ্চল জোনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. হাফিজ আল ফারুক।

ডিসি আজিমুল হক বলেন, এটি একটি নতুন কৌশল। আপনারা জানেন এরকম লোক মানুষের কাছে এমনিই সিমপ্যাথি পায়। রানা সেই সুযোগটিকে কাজে লাগিয়েছে। গতকাল রাতে আমরা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হাতিরঝিল থানার পশ্চিম রামপুরার ওমর আলী লেন এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করি। রানা জানিয়েছে সে দীর্ঘ সাত-আট বছর ধরে ইয়াবা কারবারের সঙ্গে জড়িত। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে হাতিরঝিল থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ডিসি বলেন, রানার বিরুদ্ধে শরীয়তপুর জেলার সখীপুর থানায় দুটি মাদক মামলাসহ মোট তিনটি মামলা রয়েছে। মূলত অটোরিকশা চালিয়ে সে ঢাকার বিভিন্ন স্থানে যাত্রী আনা নেওয়ার পাশাপাশি ইয়াবা সরবরাহ করে। ইয়াবাগুলো সে তার কৃত্রিম হাতের কনুইয়ের ভেতরে অভিনব কায়দায় নিল রঙের ক্ষুদ্র প্যাকেটে লুকিয়ে রাখতো। আমরা দীর্ঘদিন ধরে তাকে অনুসরণ করছিলাম।

রানা বেশ কিছুদিন ধরে মিরপুর এলাকায় থাকে। গত সাত দিন আগে সে বিয়ে করেছে। এটি তার দ্বিতীয় বিয়ে। প্রথম স্ত্রী তাকে ডিভোর্স দিয়েছে। গতকাল সে মিরপুর থেকে বাসে করে নতুন বউকে নিয়ে ঘুরতে বের হয়েছিল। রামপুরা এলাকায় এসে বউকে বসতে বলে ইয়াবা ডেলিভারি দিতে গিয়ে হাতিরঝিল থানা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয় সে। তার সঙ্গে এ কাজে আরও কেউ জড়িত আছে কি না সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সাদা ইয়াবার বিষয় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, মাদকের ভিন্নতা আনতে এবং চাহিদার কারণেই তারা এটি করতেন।

এই ধরনের মাদক হাত বদল চক্রের আরও সদস্য রয়েছে কি না জানতে চাইলে ডিসি বলেন, নিঃসন্দেহে রানা হাওলাদার একা নয়। আরও অনেকজন আছে সঙ্গে। আমরা একজনকে ধরে শুরু করেছি। আমাদের কাছে তথ্যটি অনেক দিন ধরেই ছিলো। আমরা কাজ করছি। সামনে আরও অনেক লোক জড়িত বলে প্রাথমিক তথ্য পেয়েছি। গ্রেপ্তারকৃতকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

এই চক্রের পেছনে কারা জড়িত জানতে চাইলে ডিসি বলেন, তারা কাটআউট পদ্ধতিতে মাদক হাতবদল করত। তারা একে অন্যকে চেনেন না। তাদের শনাক্ত করা কঠিন। এর আগেও আমরা অনেক চক্র ধরেছি। আমরা চেষ্টা করছি চক্রের সবাইকে গ্রেপ্তার করতে।

সাদা ইয়াবার বিষয়ে জানতে চাইলে আজিমুল হক বলেন, মাদকের বিভিন্ন ডায়মেনশন থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় এখন সাদা মাদক তৈরি করছে। কেমোফ্লেক্স করতেই তারা এটি করছে। যারা এটার প্রতিআশক্ত তাদের কাছে নতুনত্ব আনার জন্যই করা হচ্ছে।

 

এ জাতীয় আরও খবর

বিদায়ি বক্তব্যে কাঁদলেন মির্জা ফখরুল

গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ১৪ কার্গো এলএনজি কিনবে সরকার

১২ জেলায় ঝড়ো হাওয়ার সতর্কতা

ময়মনসিংহে এনসিসি ব্যাংকের স্টুডেন্ট ব্যাংকিং ক্যাম্পেইন ও বৃক্ষবিতরণ অনুষ্ঠিত

বিএসইসির ১৭ কর্মকর্তা বাধ্যতামূলক অবসরে

অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশকে ঘিরে বাড়ছে আগ্রহ

প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একনেকের সভা

জিয়া-খালেদার সমাধিতে বিএনপির নতুন ৪ নেতার শ্রদ্ধা

সমাজের সবাই এগিয়ে এলে বড় সমস্যার সমাধান সম্ভব: প্রধানমন্ত্রী

ইসলামি ব্যাংকগুলোর আমানতে বড় পতন

রাষ্ট্রপতি হলেও জনগণের পাশে থেকে সেবা করতে চাই: মির্জা ফখরুল

গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাসে যা করবেন, যা করবেন না