,

নগদ ডলার কেনাবেচায় সাড়া কম ব্যাংকগুলোর

news-image

নিউজ ডেস্ক : সারাদেশে ব্যাংকের নন-এডি শাখায় নগদ বৈদেশিক মুদ্র্রা তথা ডলার কেনাবেচার যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তাতে অর্ধেকেরও বেশি ব্যাংক সাড়া দেয়নি। নির্ধারিত সময়ে বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের অনুমতি চেয়েছে মাত্র ২৩ ব্যাংক। বৈদেশিক মুদ্রা কেনাবেচায় মানিচেঞ্জার ব্যবসায়ীদের ওপর নির্ভরতা কমানো ও হুন্ডি প্রতিরোধে সম্প্রতি সারাদেশের ব্যাংকের নন-এডি শাখাও নগদ ডলার কেনাবেচার সিদ্ধান্ত নেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ জন্য ব্যাংকগুলোর কাছে এলাকাভিত্তিক সম্ভাব্য শাখার তালিকা চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়। ১৭ আগস্টের মধ্যে এ তালিকা পাঠানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। সেই নির্দেশনার ভিত্তিতে ২৩টি ব্যাংক তাদের ৬৬৬ শাখায় এ ধরনের সেবা দেওয়ার অনুমতি চেয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে আবেদন করেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, নগদ বৈদেশিক মুদ্রা কেনাবেচার জন্য ব্যাংকগুলোর কাছে সম্ভাব্য তালিকা চেয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। নির্ধারিত সময়ে ২৩টি ব্যাংক আবেদন করেছে। দেশব্যাপী ৬৬৬টি শাখায় এই সেবা প্রদানের জন্য তারা আবেদন করেছে। এখন আবেদনগুলো পর্যালোচনা করে অনুমোদন দেওয়ার কাজ শুরু হবে।

বর্তমানে বৈদেশিক লেনদেনে নিয়োজিত অথরাইজড ডিলার শাখা থেকেই কেবল ডলার কেনাবেচার অনুমতি রয়েছে। সারাদেশে এ ধরনের শাখার সংখ্যা খুব একটা নেই। যেগুলো আছে সেগুলোর বেশির ভাগই রাজধানী ঢাকা ও কয়েকটি বিভাগীয় শহরে অবস্থিত। ফলে নগদ ডলার কেনাবেচার জন্য মানি চেঞ্জার প্রতিষ্ঠানের ওপরই বেশি নির্ভর করতে হয় প্রবাসী বাংলাদেশি, বিদেশি পর্যটকসহ সাধারণ গ্রাহকদের। এ ছাড়া

ব্যাংক থেকে ডলার কিনতে এনডোর্সমেন্ট বাধ্যতামূলক হলেও খোলাবাজারে সেই বাধ্যবাধকতা নেই। ফলে মানিচেঞ্জাররা নগদ ডলারের বাজারে একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে রেখেছে। ডলারের বাজারে চলমান অস্থিরতার পেছনেও মানিচেঞ্জার ব্যবসায়ীদের বড় ভূমিকা রয়েছে। এ অবস্থায় মানিচেঞ্জার ব্যবসায়ীদের ওপর নগদ ডলার কেনাবেচার নির্ভরতা কমাতে সম্প্রতি অথরাইজড ডিলার শাখার বাইরে অন্য শাখায়ও বৈদেশিক মুদ্রা কেনাবেচার সেবা চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রাথমিকভাবে শাখাগুলোতে একটি ডেস্কের মাধ্যমেই এ সেবা চালুর অনুমোদন দেওয়া হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, নগদ বৈদেশিক মুদ্রা কেনাবেচার সেবা মানুষের দৌরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার জন্যই এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে এ সেবা দিতে যতগুলো ব্যাংক আবেদন করেছে, সেটি কম মনে হলেও শাখার সংখ্যা বিবেচনায় নিলেও তা একেবারেই কম নয়, প্রায় ৬৬৬টি শাখা। সারাদেশে যেসব ব্যাংকের নেটওয়ার্ক কম, সেসব ব্যাংক কম সাড়া দিয়েছে বলে মনে হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, গত জুন শেষে দেশে কর্মরত ৬১টি ব্যাংকের মোট শাখার সংখ্যা ছিল ১০ হাজার ৯৮৯টি। এর মধ্যে গ্রামীণ শাখা ৫ হাজার ২৪৩টি। আর শহরে শাখা ৫ হাজার ৭৩৬টি। অর্থাৎ গ্রামের চেয়ে এখনো শহরে ব্যাংকের শাখার সংখ্যা বেশি। অন্যদিকে দেশে কর্মরত ৬১ ব্যাংকের ৫৬টিরই এডি শাখা রয়েছে। তাদের এডি শাখার সংখ্যা এখন ৯৮১টি। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৫৮টি এডি শাখা রয়েছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের। এর পরই রয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকের ৫৭টি। তৃতীয় অবস্থানে থাকা সোনালী ব্যাংকের রয়েছে ৪৬টি। এ ছাড়া বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনে দেশে ২৩৫টি মানি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠানের অনুমতি রয়েছে। তবে অবৈধ মানিচেঞ্জারের সংখ্যা হাজারেরও ওপরে।

দেশে পাঁচ মাসের বেশি সময় ধরে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। আমদানি ব্যয়ের অস্বাভাবিক উলম্ফন ও প্রবাসী আয়ের নিম্নমুখী প্রবণতার কারণে ডলারের সংকটকে কেন্দ্র করেই এ অস্থিরতা তৈরি হয়। অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে খোলাবাজারে ডলারের দাম ওঠে ১২০ টাকা। ব্যাংকেও নগদ ডলারের দাম ১১৫ টাকা ছাড়িয়ে যায়। ডলার দামে এমন অস্থিরতার পরিপ্রেক্ষিতে গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধিদের নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের ১০টি টিম গত ২৭ জুলাই থেকে রাজধানীর বিভিন্ন মানিচেঞ্জার ও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোয় অভিযান পরিচালনা করে। তাদের অভিযানে ডলার লেনদেনে অসঙ্গতি পাওয়ায় পাঁচটি মানিচেঞ্জারের লাইসেন্স স্থগিত করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ ছাড়া ৪২টি প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শাতে বলা হয়। এ ছাড়া লাইসেন্স ছাড়া ব্যবসা করায় ৯টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বলা হয়েছে। অন্যদিকে, ডলারের দাম বৃদ্ধির পেছনে কারসাজির প্রমাণ পাওয়ায় ছয় ব্যাংকের ট্রেজারি বিভাগের প্রধানকে অপসারণ করা হয়। একই কারণে ওই ছয়টি ব্যাংকের এমডিকে সম্প্রতি কারণ দর্শনোর নোটিশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংকগুলো হলো- ব্র্যাক ব্যাংক, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, সাউথইস্ট ব্যাংক এবং বিদেশি খাতের স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক। এ ছাড়া গত সপ্তাহে ব্যাংক ও মানিচেঞ্জার প্রতিষ্ঠানগুলোর ডলার কেনাবেচার ক্ষেত্রে মুনাফার সিলিং বেঁধে দেওয়া হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে ব্যাংকগুলো যে দামে ডলার কিনবে, তার চেয়ে ১ টাকা বেশি দামে বিক্রি করতে পারবে। আর মানিচেঞ্জারগুলো সর্বোচ্চ দেড় টাকা লাভে ডলার বিক্রি করতে পারবে। আমাদের সময়

এ জাতীয় আরও খবর

বিদায়ি বক্তব্যে কাঁদলেন মির্জা ফখরুল

গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ১৪ কার্গো এলএনজি কিনবে সরকার

১২ জেলায় ঝড়ো হাওয়ার সতর্কতা

ময়মনসিংহে এনসিসি ব্যাংকের স্টুডেন্ট ব্যাংকিং ক্যাম্পেইন ও বৃক্ষবিতরণ অনুষ্ঠিত

বিএসইসির ১৭ কর্মকর্তা বাধ্যতামূলক অবসরে

অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশকে ঘিরে বাড়ছে আগ্রহ

প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একনেকের সভা

জিয়া-খালেদার সমাধিতে বিএনপির নতুন ৪ নেতার শ্রদ্ধা

সমাজের সবাই এগিয়ে এলে বড় সমস্যার সমাধান সম্ভব: প্রধানমন্ত্রী

ইসলামি ব্যাংকগুলোর আমানতে বড় পতন

রাষ্ট্রপতি হলেও জনগণের পাশে থেকে সেবা করতে চাই: মির্জা ফখরুল

গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাসে যা করবেন, যা করবেন না