,

তৃতীয় টার্মিনাল পরিচালন পদ্ধতি নিয়ে জটিলতা

news-image

তাওহীদুল ইসলাম
ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল কোন পদ্ধতিতে পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ করা হবে এখনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না। পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন এ টার্মিনাল পরিচালনার মতো দক্ষ জনবল ও সক্ষমতা নেই বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক)। আবার বেসরকারি বিনিয়োগকারীর মাধ্যমে পরিচালনা করতে গেলে সরকারের অংশীদারত্ব কমে যায়। তা ছাড়া রাজস্ব আদায়, নিরাপত্তা সংক্রান্ত স্পর্শকাতর ইস্যুও রয়েছে। এরই মধ্যে জাপানের বিনিয়োগকারীরা সরকারের সিদ্ধান্ত জানতে চেয়েছে।

আগামী বছরের সেপ্টেম্বরে টার্মিনালের সফট ওপেনিংয়ের কথা রয়েছে। এ সময়ের মধ্যে বিনিয়োগকারী নির্বাচনও সহজ ব্যাপার নয়। পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের

দেওয়া প্রাথমিক প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি না করে সমীক্ষা শেষে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া যৌক্তিক মনে করছে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়। তাই পরামর্শ চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিবের কাছে চিঠি দিয়েছে তারা।

থার্ড টার্মিনাল পরিচালনার বিষয়ে জাইকার অর্থায়নে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিপ্পন কোই কাজ করছে। তাদের মাধ্যমে প্রি-ওরাট : অপারেশনাল রেডিনেস অ্যান্ড এয়ারপোর্ট ট্রান্সফার সমীক্ষা করা হয়েছে। সেখানে ৫টি অপশন দেখিয়ে বেশি সম্ভাবনাময় বলে উল্লেখ করা হয়েছে ‘পিপিপি অর কনসেশান’কে। কিন্তু এ ধরনে বেসরকারি বিনিয়োগকারী নির্বাচনে ৩ থেকে ৪ বছরের সময় প্রয়োজন। অথচ নতুন টার্মিনাল আগামী বছরের সেপ্টেম্বরে আংশিক শুরু হতে পারে। সে ক্ষেত্রে সার্ভিস কন্ট্রাক্টের মাধ্যমে নতুন টার্মিনাল পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ করা যেতে পারে। আর বিস্তারিত সমীক্ষার পর কনসেশনার নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে বলে মনে করছে মন্ত্রণালয়। শাহজালালের টার্মিনাল-১ ও টার্মিনাল-২-এর কার্যক্রম সার্ভিস কন্ট্রাক্টের মাধ্যমে সম্পাদন করছে বেবিচক। এ পদ্ধতিতে টেন্ডারে খুব বেশি সময়ের প্রয়োজন হয় না বলে মনে করছে কর্তৃপক্ষ।

জাইকা ও সরকারি অর্থায়নে ২১ হাজার ৩৯২ কোটি টাকায় থার্ড টার্মিনালের কাজ চলছে। নির্মাণকাজ করছে এভিয়েশন ঢাকা কনসোর্টিয়াম।

জানা গেছে, পরামর্শকের প্রি-ওরাট প্রতিবেদনে বলা হয়েছে- পিপিপি অর কনসেশান পদ্ধতির আওতায় সুগঠিত চুক্তি বিমানবন্দর রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনা সুচারুভাবে করতে সক্ষম হবে এবং সরকারের আর্থিক দায়ভার লাঘবেও সহায়ক হবে। এর পক্ষে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান জাপানের কানসাই ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট এবং আর্জেন্টিনার এজিনা ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টের দৃষ্টান্ত দিয়েছে। তবে পিপিপির মাধ্যমে বিনিয়োগকারী নির্বাচনের পদ্ধতি সময়সাপেক্ষ। তা ছাড়া পিপিপির মাধ্যমে নতুন টার্মিনাল পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ করা হলে কনসেশান মেয়াদের মধ্যে বিমানবন্দরে সরকারের কৌশলগত সিদ্ধান্তে অংশগ্রহণ কমে যাবে। এ ছাড়া পিপিপিতে সব বিষয় অর্থাৎ রাজস্ব আদায়, নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিবিধ স্পর্শকাতর ইস্যু বেসরকারি বিনিয়োগকারীর কাছে হস্তান্তর করা সমীচীন নয় বলে প্রতীয়মান। অন্যদিকে নতুন টার্মিনাল পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ করার মতো জনবল ও সক্ষমতা বেবিচকের নেই বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। উন্নত যাত্রীসেবা এবং বিমানবন্দরের পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা না হলে নতুন টার্মিনাল নির্মাণের মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে।

এদিকে প্রতিবেদনটি সম্ভাব্য জাপানি বিনিয়োগকারীদের অবহিত করার বিষয়ে মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করেছে বেবিচক। তা ছাড়া ২০১৯ সালের ১ এপ্রিল পিপিপি কর্তৃপক্ষের দ্বিতীয় বোর্ড অব গভর্নরস সভায় সিদ্ধান্ত হয় : ‘জাপানের মাধ্যমে ৩য় টার্মিনালের অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স কার্যক্রম গ্রহণের লক্ষ্যে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় কার্যক্রম এগিয়ে নেবে’। প্রি-ওরাট প্রতিবেদনটি জাপানি বিনিয়োগকারীদের অবহিত করা উচিত হবে কিনা সে জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরামর্শ চাওয়া হয়েছে। এ নিয়ে থার্ড টার্মিনালের প্রকল্প পরিচালক মাকসুদুল ইসলাম আমাদের সময়কে বলেন, বিষয়টি এখনো মন্তব্য করার পর্যায়ে আসেনি।

 

এ জাতীয় আরও খবর

বিদায়ি বক্তব্যে কাঁদলেন মির্জা ফখরুল

গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ১৪ কার্গো এলএনজি কিনবে সরকার

১২ জেলায় ঝড়ো হাওয়ার সতর্কতা

ময়মনসিংহে এনসিসি ব্যাংকের স্টুডেন্ট ব্যাংকিং ক্যাম্পেইন ও বৃক্ষবিতরণ অনুষ্ঠিত

বিএসইসির ১৭ কর্মকর্তা বাধ্যতামূলক অবসরে

অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশকে ঘিরে বাড়ছে আগ্রহ

প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একনেকের সভা

জিয়া-খালেদার সমাধিতে বিএনপির নতুন ৪ নেতার শ্রদ্ধা

সমাজের সবাই এগিয়ে এলে বড় সমস্যার সমাধান সম্ভব: প্রধানমন্ত্রী

ইসলামি ব্যাংকগুলোর আমানতে বড় পতন

রাষ্ট্রপতি হলেও জনগণের পাশে থেকে সেবা করতে চাই: মির্জা ফখরুল

গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাসে যা করবেন, যা করবেন না