,

থাইরয়েড গ্রন্থিতে ক্যানসার

news-image

অধ্যাপক ডা. মো. ইয়াকুব আলী
থাইরয়েড গ্রন্থির কোনো অংশের কোষ সংখ্যা অস্বাভাবিক ও অনিয়ন্ত্রিতভাবে বেড়ে গেলে তাকে বলে থাইরয়েড ক্যানসার। এটি একটি হরমোন গ্রন্থি। গলার সামনের অংশের নিচের দিকে এটির অবস্থান। এ গ্রন্থি কোনো কারণে বড় হলে তাকে বলে গলগ-। থাইরয়েড গ্রন্থির কোনো অংশে টিউমারের মতো ফুলে উঠলে বলে থাইরয়েড নডিউল। এর ১ শতাংশ থেকেও হতে পারে থাইরয়েড ক্যানসার। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এর অংশবিশেষ ফুলে ওঠা ক্যানসার নয়।

থাইরয়েড ক্যানসারের কারণ : এ ক্যানসার গলা বা থাইরয়েডের ওপর রেডিয়েশন দিলে বা পড়লে ধরা পড়ে। কখনো অন্য স্থান থেকে ক্যানসার সেল এসে থাইরয়েড ক্যানসার হতে পারে। আবার জীবনধারার স্বাভাবিক গতিতেও এ ক্যানসার দেখা দিতে পারে। বয়স বাড়ার সঙ্গে ক্যানসার প্রবণতা বাড়ে। যে কোনো বয়সেই এ রোগ হতে পারে। এ রোগে নারীরাই বেশি আক্রান্ত হন। রেডিয়েশনের কারণেও থাইরয়েড ক্যানসার দেখা দিতে পারে। এ ছাড়া বিভিন্ন ধরনের অদৃশ্য শক্তি, যেমন- রেডিও, টেলিভিশন ও মোবাইল ফোন টাওয়ারের অস্বাভাবিক পরিমাণ মাইক্রোওয়েভ, থাইরয়েড ক্যানসারসহ বিভিন্ন রোগের কারণ হতে পারে।

লক্ষণ : গলার সামনের অংশ ফুলে ওঠে। ফোলা অংশ বেশ শক্ত হয়। এক বা একাধিক টিউমার হতে পারে। উভয় পাশে টিউমার হতে পারে। আশপাশের লিম্ফ নোডগুলো ফুলে উঠতে পারে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ব্যথা হতে পারে। স্থানটি লাল হতে পারে। এটির ভেতরে রক্তক্ষরণ হতে পারে। ওজন কমে যায়। খেতে অরুচি হয়। কোনো কিছু খেতে বা ঢোক গিলতে অসুবিধা হয়। কাশি হতে পারে, গলার ভেতর চুলকাতে পারে। স্বর মোটা বা ফ্যাসফেসে হতে পারে। তবে থাইরয়েড নডিউল বা ক্যানসার ছাড়াও গলার সামনে ফুলে উঠতে পারে। শ্বাসনালির ওপর চাপ সৃষ্টির ফলে শ্বাসকষ্ট হতে পারে।

চিকিৎসা : ক্যানসার শুনে অনেকে চমকে ওঠেন। কিন্তু থাইরয়েড ক্যানসার সময়মতো চিকিৎসা করালে ৯৫ শতাংশ ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ আরোগ্য সম্ভব। তবে অবশ্যই সময়মতো চিকিৎসা করাতে হবে। গলার সামনে ফুলে উঠলে দ্রুত চিকিৎসককে দেখাবেন। আল্ট্রাসনো করে বোঝা যায়, এটি টিউমার, না কোনো পানি, না রসের থলি। যদি আল্ট্রাসনোয় তা ক্যানসারের মতো মনে হয়, তবে এফএনএসি বা বায়োপ্সি করা উচিত। রিপোর্ট বা অভিজ্ঞতার আলোকে সার্জন মনে করলে কখনো কখনো সব থাইরয়েড গ্রন্থি ফেলে দেওয়ার পরামর্শ দিতে পারেন। প্রয়োজনীয় অংশ অপারেশন করে ফেলে দেওয়ার পর সেখানে যাতে আর কোনো ক্যানসার সেল না থাকে, সে জন্য রেডিও আয়োডিন থেরাপি বা রেডিওথেরাপি দেওয়ার প্রয়োজন হয়। কোনো কোনো রোগীকে আজীবন থাইরয়েড হরমোন খাওয়া লাগতে পারে।

প্রতিরোধ ব্যবস্থা : থাইরয়েড ক্যানসার প্রতিরোধের ভালো উপায় হলো- থাইরয়েড নডিউল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা। ক্যানসার প্রবণতা আছে কিনা, তা শনাক্ত করা। গলা বা তার আশপাশে রেডিয়েশনের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা। শিশু-কিশোরদের একান্ত প্রয়োজন ছাড়া রেডিও থেরাপি না দেওয়া। ভেজাল খাবার না খাওয়া। মনে রাখতে হবে, থাইরয়েড ক্যানসারের সঙ্গে জড়িয়ে আছে পারিবারিক ইতিহাসও। তাই যে পরিবারে বাবা-মায়ের থাইরয়েড ক্যানসার আছে, তাদের পরিকল্পিত পরিবার গঠন করা উচিত।

লেখক : রেডিয়েশন ও মেডিক্যাল অনকোলজিস্ট এবং অধ্যাপক ও প্রধান অনকোলজি বিভাগ, এনাম মেডিক্যাল কলেজ

ও হাসপাতাল সাভার, ঢাকা

চেম্বার : আল-রাজি হাসপাতাল, ফার্মগেট, ঢাকা

০১৯১৫৭২৮২৬৬; ০১৭৪৫৩৪৯৪১৫

 

এ জাতীয় আরও খবর

বিদায়ি বক্তব্যে কাঁদলেন মির্জা ফখরুল

গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ১৪ কার্গো এলএনজি কিনবে সরকার

১২ জেলায় ঝড়ো হাওয়ার সতর্কতা

ময়মনসিংহে এনসিসি ব্যাংকের স্টুডেন্ট ব্যাংকিং ক্যাম্পেইন ও বৃক্ষবিতরণ অনুষ্ঠিত

বিএসইসির ১৭ কর্মকর্তা বাধ্যতামূলক অবসরে

অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশকে ঘিরে বাড়ছে আগ্রহ

প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একনেকের সভা

জিয়া-খালেদার সমাধিতে বিএনপির নতুন ৪ নেতার শ্রদ্ধা

সমাজের সবাই এগিয়ে এলে বড় সমস্যার সমাধান সম্ভব: প্রধানমন্ত্রী

ইসলামি ব্যাংকগুলোর আমানতে বড় পতন

রাষ্ট্রপতি হলেও জনগণের পাশে থেকে সেবা করতে চাই: মির্জা ফখরুল

গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাসে যা করবেন, যা করবেন না