শুক্রবার, ২৪শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ৯ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঈদযাত্রায় সড়কে এবার স্বস্তি নাও মিলতে পারে

news-image

তাওহীদুল ইসলাম
পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় এবার ঈদযাত্রায় দেশের অন্যান্য অংশের মতো দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সড়কপথেও চাপ বাড়বে। লঞ্চে-ফেরিতে ভিড় কমই থাকবে। পুরো চাপ সড়কপথে পড়লেও যাত্রা কতটা নির্বিঘ্ন হবে তা নিয়ে দুশ্চিন্তা রয়েই গেছে। বন্যা-বৃষ্টি, যানজট ও রাস্তা খারাপের কারণে গত রোজার ঈদের মতো স্বস্তির না-ও হতে পারে এবার ঈদুল আজহায় ঘরে ফেরা। সড়ক-মহাসড়কের পাশে বসা অস্থায়ী গরুর হাটগুলোও বরাবরের মতোই যানজটের বড় কারণ হবে। সড়কপথ, রেল ও নৌপথে ঘরমুখী মানুষের চাপ সামলাতে বৈঠক করে করণীয় নির্ধারণ করেছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলো। মহাসড়কের ধারে পশুর হাট বসানো ঠেকাতে পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তা ছাড়া মোটরসাইকেল মহাসড়কে চলতে না দেওয়ারও চিন্তা আছে।

সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) প্রধান প্রকৌশলী একেএম মনির হোসেন পাঠান বলেন, এবারের ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন হবে। সব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে ঢাকা থেকে বের হতে কিছু স্থানে যানজট হতে পারে। তা ঠেকানোর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিচ্ছে। ফলে যানজট নিয়ে দুশ্চিন্তার কারণ নেই।

তিনি আরও বলেন, এবার পদ্মা সেতুর কারণে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষ সড়কপথে বেশি যাবেন। তাই পদ্মা সেতুমুখী গাড়ির চলাচল নির্বিঘ্ন করতে মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারের নিচের রাস্তা মেরামত ও দখলমুক্ত রাখার অনুরোধ করা হয়েছে। এ ছাড়া যাত্রাবাড়ীর জিরো পয়েন্টের আগে ধোলাইপাড়ে ৫০০ মিটার রাস্তা পুনর্নির্মাণ করতে হবে।

পরিবহনসংশ্লিষ্টরা বলছেন, পদ্মা সেতু চালু হওয়ার ফলে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের রুটগুলোয় যাত্রা সহজ ও দ্রুততর হবে। কিন্তু রাজধানী থেকে পদ্মা সেতুর দিকে যাওয়ার পথ মাত্র একটি হওয়ায়- সায়েদাবাদ, যাত্রাবাড়ী ও কাঁচপুরে তীব্র যানজটের আশঙ্কা রয়েছে। বঙ্গবন্ধু এক্সপ্রেসওয়েতে টোল চালুর পর গত দুদিন টোল প্লাজায় ব্যাপক যানজট দেখা গেছে। সওজ বলছে, মোহাম্মদপুর থেকে বেড়িবাঁধ হয়ে বছিলা ব্রিজ দিয়ে এক্সপ্রেসওয়েতে যাওয়ার পথ প্রশস্ত করা হয়েছে। সেদিক দিয়ে কিছু গাড়ি যেতে পারবে। তবে সরেজমিন দেখা গেছে, এ পথ দিয়ে বেশি গাড়ি চলাচলের সুযোগ কম। গাড়িগুলোকে শেষ পর্যন্ত যাত্রাবাড়ী দিয়েই পদ্মা সেতুতে যেতে হবে।

গত ঈদে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দুর্ভোগ ছিল না। এবারও তেমন আশঙ্কা নেই বলে সওজ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তবে বন্যায় সিলেট অঞ্চলে সড়ক-মহাসড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উত্তরের জেলা কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, বগুড়াতে সড়ক ভেঙেছে বন্যা বৃষ্টিতে। সওজের হিসাবে ৪৭২ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আগে থেকেই ভাঙাচোরা ছিল সারাদেশের দুই হাজার ৭৭ কিলোমিটার জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়ক এবং জেলা সড়ক। যা দেশের সড়ক-মহাসড়কের ১০ দশমিক ৩৬ শতাংশ। এর মধ্যে প্রায় ৪৫৭ কিলোমিটার রাস্তার অবস্থা খুবই খারাপ, চলাচলের অযোগ্য।

দুর্ঘটনা রোধে এবার ঈদে মহাসড়কে মোটরসাইকেল বন্ধের চিন্তা রয়েছে। সরকার এ প্রস্তাবে অনুমোদন দিলে বাসে যাত্রীর চাপ বাড়বে। সে ক্ষেত্রে পরিবহন সংকটের আশঙ্কা রয়েছে। এ ছাড়া যাত্রাবাড়ী ও কাঁচপুর ছাড়া রাজধানীর অন্য দুই প্রবেশপথ গাবতলীতে সেতু এবং টঙ্গীতে বাস র‌্যাপিড ট্রানজিটের (বিআরটি) নির্মাণকাজ ভোগাতে পারে।

ঈদুল আজহায় সড়কের জন্য বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায় পশুর হাট। ঢাকা থেকে ময়মনসিংহ অঞ্চলে যেতে টঙ্গীর হাটের কারণে যানজট সৃষ্টি হয়। গত বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সভাপতিত্বে বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, মহাসড়কের পাশে কোরবানির হাট বসতে দেওয়া হবে না। যদিও প্রতি ঈদেই এমন সিদ্ধান্ত হয়। পশুবাহী গাড়ি থামিয়ে চাঁদাবাজির কারণেও মহাসড়কে যানজট হয়। এবারও বলা হয়েছে, মহাসড়কে পশুবাহী গাড়ি থামাবে না পুলিশ।

গত ঈদে সড়কে দুর্ভোগ না হলেও ব্যাপক ভুগিয়েছে ফেরি ঘাট। পদ্মা সেতু চালুর পর মাওয়া ঘাটে ফেরি পারাপার কার্যত বন্ধ। পদ্মা পারাপারের আরেক নৌরুট পাটুরিয়া-দৌলতদিয়ায় গত ঈদে দীর্ঘ যানজট ছিল। দক্ষিণবঙ্গের গাড়ি পদ্মা সেতু হয়ে যাবে। ফলে পাটুরিয়ায় তেমন একটা চাপ থাকবে না। মাওয়ার ফেরি পাটুরিয়া-দৌলতদিয়ায় পাঠানো হয়েছে। ফলে এ ঘাট দিয়ে আগের চেয়ে বেশি গাড়ি পারাপার করা যাবে।

গত ঈদে এলেঙ্গা থেকে যমুনার বঙ্গবন্ধু সেতু পর্যন্ত রাস্তা একমুখী করা হয়েছিল। এতে ওই এলাকায় যানজটে পড়তে হয়নি। ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে গত শনিবার যমুনার দুই পারের জেলা টাঙ্গাইল ও সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছে সওজ। এবারও ওই সড়ক একমুখী করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে একজন সওজ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, রোজার ঈদের আগে গাড়ি শুধু উত্তরের দিকে গেছে। এসেছে কম। কিন্তু কোরবানির ঈদে ঢাকামুখী পশুবাহী গাড়ির চাপ থাকবে বঙ্গবন্ধু সেতুর এপারে। ফলে সড়ক একমুখী করে যানজট মোকাবিলা কঠিন।

এলেঙ্গা থেকে রংপুর পর্যন্ত ১৯০ কিলোমিটার দুই পাশে সার্ভিস লেনসহ মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণের (সাসেক-২) কাজ চলছে। রোজার ঈদের আগে নকলা সেতুর উত্তরবঙ্গমুখী লেন চালু এবং সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুলে সড়ক প্রশস্ত করা হয়। এতে যানজট থেকে রেহাই মিলেছিল।

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিমানবন্দর থেকে জয়দেবপুর অংশে বিশেষায়িত রাস্তা বিআরটির নির্মাণকাজ পাঁচ বছর ধরে ভোগাচ্ছে। গত ঈদের আগে বিআরটির লেন এবং পাশে মহাসড়কের দুই লেন নির্মাণ সম্পন্ন হয়। দুই মাসে কাজ আর এগোয়নি। এতে যানজটের শঙ্কা রয়েছে।

 

এ জাতীয় আরও খবর

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ হলে সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

মালদ্বীপের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশ হাইকমিশনারের বৈঠক

বোয়ালখালীতে ৫ শ্রমিকের মৃত্যু, মামলা ছাড়াই চলছে সমঝোতার চেষ্টা

১৭ বছর পর ইংল্যান্ড সফরে বাংলাদেশ, টেস্ট হবে লর্ডসে

২৭ জুলাই থেকে চট্টগ্রাম বোর্ডের HSCপরীক্ষা শুরু

ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে তারেক রহমানকে মোদির আমন্ত্রণ

গাজী নজরুলের বহিষ্কার জানিয়ে ইসিকে চিঠি জামায়াতের

ইরান ইস্যুতে কঠিন কূটনৈতিক চাপে ট্রাম্প

মানবিক সহায়তায় আলোচনায় ‘আমরা বিএনপি পরিবার’

২০৩৪ সালে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্য বাংলাদেশের

শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ড. খলিলুরের বৈঠক

তথ্যমন্ত্রীর নামে ভুয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্ট, সতর্কবার্তা