,

তিস্তার পানি বিপদসীমা ছুঁই ছুঁই ,রংপুর অঞ্চলে বন্যার আশঙ্কা

news-image

হারুন উর রশিদ সোহেল,রংপুর : রংপুর অঞ্চলে এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে ঝড়-বৃষ্টি হচ্ছে। রাত হলেই বাড়ছে কালো মেঘের ডাকাডাকি। বজ্রপাতসহ ভারী বর্ষণ আর উজানের ঢলে তিস্তা, ঘাঘট, ধরলা ও বক্ষ্রপূত্রসহ বিভিন্ন নদ- নদীতে বেড়েছে পানি। এ কারণে তিস্তাপাড়ে দেখা দিয়েছে বন্যা আতঙ্ক। সেখানকার ডালিয়া তিস্তা ব্যারেজ পয়েন্টে পানি বেড়ে বিপৎসীমা ছুঁই ছুঁই করছে।

কিছু কিছু এলাকায় উজান থেকে ধেয়ে আসা ঢল তিস্তা তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে ঢুকে পড়েছে। এতে চরাঞ্চলে চাষ করা বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষকেরা। পানিতে তলিয়ে গেছে নিম্নাঞ্চল। কোথাও কোথাও হাঁটু পানিতে ডুবে আছে ঘর-বাড়িসহ উঠতি ফসল। আর ৩৬ ঘণ্টা বৃষ্টি হলেই তিস্তার পানি বিপৎসীমা ছাড়িয়ে বন্যায় রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন পাউবো। এজন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড সর্তকতা জারি করে জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন, ত্রাণ বিভাগ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের বার্তা দিয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, রোববার দুপুর ১২ টার ডালিয়া পয়েন্টে পানির প্রবাহ ছিল ৫২ দশমিক ৫০ সেন্টিমিটার। এই পয়েন্টে বিপদসীমা ধরা হয় ৫২ দশমিক ৬০ সেন্টিমিটার। এই পয়েন্টে বিপদ সীমা ছুঁই ছুঁই করছে। একই সময় কাউনিয়া পয়েন্টে পানি বৃদ্ধি পেয়ে ২৮ দশমিক ৭২ সেন্টমিটারে প্রবাহিত হচ্ছিল। তিস্তার ডালিয়া পয়েন্টে ব্যারাজের ৪৪টি গেট খুলে রাখা হয়েছে। ভারি বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢলে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে শঙ্কা করা হচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধির কারেণ শঙ্কিত রংপুরের গঙ্গাচড়া, কাউনিয়া ও পীরগাছা উপজেলার চরাঞ্চলের চাষিরা। কারণ এই সব এলাকার উঠতি বাদাম, আমনের চারা, পাট, সবজি, ধান, মিস্টি কুমড়াসহ বিভিন্ন ফসল প্লাবিত হয়েছে। বড় বন্যার আশঙ্কায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে এখানকার মানুষজন।

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলা লক্ষীটারী ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হাদী বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের বার্তা পেয়েছি। এছাড়া মাইকিং করে সর্তক করার প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, কদিন আগে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় তার ইউনিয়নে অনেকের ফসল ও ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেই দুর্ভোগ এখনো কাটেনি। তার ওপর আবার পানি বৃদ্ধি পেলে মানুষের দুর্ভোগের শেষ থাকবে না। শুধু তার ইউনিয়ন নয় গঙ্গাচড়া উপজেলার আরও কয়েকটি ইউনিয়নের নি¤œাঞ্চল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশংকা রয়েছে।

রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান হাবীব জানান, বৃষ্টিপাত এবং উজানের ঢলের কারণে তিস্তায় গত বুধবার রাত ৯টা থেকে পানি বাড়তে শুরু করেছে। রোবার বিকেল ৩টার দিকে ডালিয়া তিস্তা ব্যারেজ পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ৫২ দশমিক ৬০ এর মাত্র ১২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। পানি বিদপসীমার কাছাকাছি চলে এসেছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কাছে বার্তা পাঠানো হয়েছে।

এদিকে রংপুর আবহাওয়া অফিস জানায়, গত ৪ জুন শনিবার সকাল ছয়টা থেকে ১২ জুন রোববার সকাল ৬টা পর্যন্ত ১৬৮ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে এই অঞ্চলে। এর মধ্যে রোববার সকাল ৬টার আগের ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাত হয়েছে ৪৮ মিলিমিটার। দুপুরেও বেশ কিছু জায়গায় বৃষ্টিপাত হয়েছে।

এ জাতীয় আরও খবর

বিদায়ি বক্তব্যে কাঁদলেন মির্জা ফখরুল

গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ১৪ কার্গো এলএনজি কিনবে সরকার

১২ জেলায় ঝড়ো হাওয়ার সতর্কতা

ময়মনসিংহে এনসিসি ব্যাংকের স্টুডেন্ট ব্যাংকিং ক্যাম্পেইন ও বৃক্ষবিতরণ অনুষ্ঠিত

বিএসইসির ১৭ কর্মকর্তা বাধ্যতামূলক অবসরে

অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশকে ঘিরে বাড়ছে আগ্রহ

প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একনেকের সভা

জিয়া-খালেদার সমাধিতে বিএনপির নতুন ৪ নেতার শ্রদ্ধা

সমাজের সবাই এগিয়ে এলে বড় সমস্যার সমাধান সম্ভব: প্রধানমন্ত্রী

ইসলামি ব্যাংকগুলোর আমানতে বড় পতন

রাষ্ট্রপতি হলেও জনগণের পাশে থেকে সেবা করতে চাই: মির্জা ফখরুল

গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাসে যা করবেন, যা করবেন না