,

অপরাধ লুকাতে বন্ধ রাখা হয় সিসিটিভি ক্যামেরা

news-image

গোলাম সাত্তার রনি
চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অপরাধের তথ্য গোপন করতে বন্ধ রাখা হচ্ছে ক্লোজড সার্কিট টেলিভিশন (সিসিটিভি) ক্যামেরা। পরিকল্পনা করেই ক্যামেরার সচল ডিভাইসগুলো অচল করে দেওয়া হচ্ছে। বিমানবন্দরের চারপাশে বড় বড় গাছ থাকায় দুর্বৃত্তরা ভেতরে প্রবেশ করতে পারছে সহজেই। কাঁটাতারের বেড়াগুলো জরাজীর্ণ। দ্রুত মেরামত না করলে বড় ধরনের অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটার আশঙ্কা করা হচ্ছে। সম্প্রতি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) একটি চিঠিতে এসব চিত্র ফুটে উঠেছে।

বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মফিদুর রহমান বলেন, বিমান বন্দরগুলোতে কঠোর নিরাপত্তার বলয় তুলতে যা যা করা দরকার তা-ই করা হচ্ছে। কোনো অপরাধী চক্র বিমানবন্দরে চাকরি করতে পারবে না। তাদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রতিটি বিমানবন্দরের চারপাশে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া আছে। আর যেখানে প্রয়োজন সেখানেই কাজ করা হচ্ছে। নিরাপত্তার বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

বেবিচকের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, দেশের সবকটি বিমানবন্দরেই নিরাপত্তার ঘাটতি আছে। বিশেষ করে শাহ আমানত, সিলেটের ওসমানী, যশোর, কক্সবাজার, সৈয়দপুর ও বরিশাল বিমানবন্দরে নিরাপত্তার ঘাটতি সবচেয়ে বেশি। ওই সব বিমানবন্দরের চারপাশে কাঁটাতারের বেড়াগুলোর অবস্থা ভালো নয়।

গত ২৬ এপ্রিল বেবিচক একটি গোপন প্রতিবেদন দাখিল করে। বেবিচকের সদস্য (পরিচালনা ও পরিকল্পনা) এয়ার কমোডর সাদিকুর রহমান চৌধুরী স্বাক্ষরিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশের সবকটি বিমানবন্দরের মধ্যে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তাব্যবস্থা ভালো নয়। বিমানবন্দরের চারপাশের কাঁটাতারগুলো নষ্ট। বেশিরভাগ তার ছিঁড়ে গেছে। সীমানাপ্রাচীরের উভয় পাশের বড় গাছ ও আবাসিক ভবনের ছাদ ব্যবহার করছে দুষ্কৃতকারীরা। তারা এসব স্থান ব্যবহার করে সহজেই ভেতরে প্রবেশ করতে পারছে। তারা বিমানবন্দরের সবচয়ে গুরুত্বপূর্ণ এলাকা অ্যাপ্রোন, টারমাক এরিয়া, ট্যাক্সিওয়ের পাশাপাশি রানওয়েতে আসা-যাওয়া করছে। এমনকি অপরাধ ঠেকাতে সিসি ক্যামেরাগুলো ত্রুটির অজুহাত তুলে বন্ধ করে রাখা হচ্ছে। তা ছাড়া শাহ আমানতে সাতটি ভিডিও রেকর্ডিংয়ের মধ্যে পাঁচটি নষ্ট করে রেখেছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ওই বিমানবন্দরের পাশে পদ্মা অয়েল কোম্পানির রিজার্ভ ট্যাংকসংলগ্ন এলাকায় সীমানাপ্রাচীরের উচ্চতা ৭ ফুটের কম। ওই এলাকায় বেবিচকের সিসি ক্যামেরা নেই বললেই চলে।

এ প্রসঙ্গে বেবিচকের কর্মকর্তারা বলেন, শাহ আমানত দিয়ে উদাহরণস্বরূপ বোঝানো হয়েছে। অন্য বিমানবন্দরের প্রায় একই অবস্থা। প্রতিবেদনটি বেবিচক চেয়ারম্যান, প্রকৌশল শাখাসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বেশ কিছু সুপারিশ করা হয়েছে। সুপারিশের একটি অংশে বলা হয়েছে, যেসব বিমানবন্দরে কাঁটাতার নষ্ট আছে, সেগুলো দ্রুত মেরামত করার ব্যবস্থা নিতে হবে। শাহ আমানতের যেসব সিসি ক্যামেরা নষ্ট, সেগুলো দ্রুত ঠিক করতে হবে। সার্বক্ষণিক মনিটরিং বাড়াতে হবে। রানওয়ের চারপাশে সিসি ক্যামেরা বসাতে হবে। পদ্মা অয়েল কোম্পানির পাশের দেয়াল আরও উঁচু করতে হবে। তা ছাড়া বিমানবন্দরের পাশে যেসব ভবনের ছাদ আছে, সেখানে উঁচু দেয়াল তৈরি করতে হবে। সীমানাপ্রাচীর ঘেঁষা বড় গাছগুলো কেটে ফেলতে হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে ওই কর্মকর্তা বলেন, দেশের সবকটি বিমানবন্দরে দায়িত্বরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। তা ছাড়া বিমানবন্দরে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়াতে বলা হয়েছে।

 

এ জাতীয় আরও খবর

ডাকসুর সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি কেন, জানালেন জিএস ফরহাদ

শিশুদের সম্ভাবনা বিকশিত করতে মুক্ত পরিবেশ নিশ্চিতের আহ্বান জুবাইদা রহমানের

‘বৃত্তি-উপবৃত্তিতে সমতা নয়, প্রয়োজনের ভিত্তিতে অগ্রাধিকার’

রাজউকে দুদকের হানা

বীমা খাতে ৭ হাজার কোটি টাকার দাবি বকেয়া

অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দ্বারস্থ ৭ সাবেক অধিনায়ক

ট্রাম্পের সমঝোতার ঘোষণার পরই কিয়েভে পেট্রল স্টেশনে হামলা

এস কে সুরের স্ত্রীর দুই বছরের কারাদণ্ড

সাদ্দাম-ইনানসহ ৭ আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায়ে ঢাবিতে মিষ্টি বিতরণ

সৎ থাকাটাই সবচেয়ে বড় অপরাধ: আসিফ মাহমুদ

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির প্রভাবে সংকটে গরুর মাংসের বাজার

যেসব অভিযোগে ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনের মৃত্যুদণ্ড