,

৪ বছর ধরে শিকলবন্দী জীবন এমদাদুলের

news-image

সাদুল্লাপুর (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি : গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে লোহার শিকলবন্দী জীবন অতিবাহিত করছেন এমদাদুল হক (৩৩)। চার বছর আগে হঠাৎ মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন তিনি। এর কিছুদিন পর তার স্ত্রীও তাকে ছেড়ে যায়। এরপর থেকে শিকলবন্দী জীবন কাটছে এই যুবকের।

এদিকে, এমদাদুল দীর্ঘদিন শিকলবন্দী জীবন কাটালেও অভাবের সংসারে তার চিকিৎসার কোনো ব্যবস্থা করতে পারেননি বিধবা মা মর্জিনা বেগম। মানুষকে মারধর, বাড়িঘর ভাঙচুর ও ঢিল ছোড়ার হাত থেকে বাঁচতে বাধ্য হয়ে তিনি ছেলের হাত-পায়ে দিয়েছেন শিকল। ছেলেকে সুস্থ করে স্বাভাবিক জীবনে ফেরাতে সরকার, সমাজের বিত্তবান ও সরকারি-বেসরকারি দানশীল সংগঠনের কাছে আর্থিক সাহায্যের আবেদন জানান এই মা।

সরেজমিনে উপজেলার দামোদরপুর ইউনিয়নের কিশামত বড়বাড়ি গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, হাত-পায়ে শিকল পরিহিত এমদাদুল বাড়ির উঠানেই দাঁড়িয়ে আছে। প্রতিবেদককে দেখেই এগিয়ে আসেন মা মর্জিনা বেগম। এ সময় তিনি জানান, এমদাদুলের বাবা ছিলেন একজন দিনমজুর। তিনি ১০ বছর আগে মারা যান। ছয় ভাইয়ের মধ্যে এমদাদুল হক সবার ছোট। তার ভাইয়েরা দিনমজুর এবং কৃষি কাজ করেন। বিয়ের পর ভাইয়েরা সবাই আলাদা সংসার করছেন। এমদাদুলও কৃষি কাজ করতেন। গত ৫ বছর আগে এমদাদুলের বিয়ে হয়।

কিন্তু বিয়ের কিছুদিন যেতে না যেতেই হঠাৎ করেই এমদাদুল মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েন। বিভিন্ন হাসপাতাল ও কবিরাজের কাছে চিকিৎসা করেও সুস্থ হননি তিনি। এরপর তিনি দিন দিন অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করলে তাকে ফেলে তার স্ত্রী চলে যায়।

মর্জিনা বেগম আরও বলেন, ওর বাবা মারা যাওয়ার পর ওকে নিয়ে আমি এই ঘরটিতে থাকি। সম্পদ বলতে আমাদের এই সামান্য বাড়িটুকু। শুরুতে সাধ্যমতো ছেলেকে সুস্থ করতে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন জায়গায় চিকিৎসা করেছি। পরীক্ষা-নীরিক্ষা করে এমদাদুল মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগছেন বলে জানান চিকিৎসকরা। তারা উন্নত চিকিৎসার পরামর্শ দিয়েছেন। কিন্তু অর্থের অভাবে তা সম্ভব হয়নি।

বর্তমানে আমি অন্যের বাড়িতে কাজ করে কোনো রকমে তার মুখে দুই বেলা খাবার তুলে দিচ্ছি। অনেক সময় খাবার জোটে না চিকিৎসার টাকা পামু কই? এ সময় ছেলেকে সুস্থ্য করে সাভাবিক জীবনে ফেরাতে সরকার, সমাজের বিত্তবান ও সরকারি-বেসরকারি দানশীল সংগঠনের কাছে আর্থিল সাহায্যের করুন আকুতি তার।

এ ব্যাপারে সাদুল্লাপুর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মানিক চন্দ্র রায় জানান, ইতোমধ্যে এমদাদুলকে প্রতিবন্ধী হিসেবে শনাক্ত করে জরিপের আওতায় আনা হয়েছে। খুব শিগগিরই তাকে ভাতা সুবিধাভোগীর তালিকভুক্ত করা হবে। একই সঙ্গে তার উন্নত চিকিৎসা এবং পাশাপাশি তার পরিবারকে সব ধরনের সহযোগিতার কথাও জানান তিনি।

 

এ জাতীয় আরও খবর

ডাকসুর সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি কেন, জানালেন জিএস ফরহাদ

শিশুদের সম্ভাবনা বিকশিত করতে মুক্ত পরিবেশ নিশ্চিতের আহ্বান জুবাইদা রহমানের

‘বৃত্তি-উপবৃত্তিতে সমতা নয়, প্রয়োজনের ভিত্তিতে অগ্রাধিকার’

রাজউকে দুদকের হানা

বীমা খাতে ৭ হাজার কোটি টাকার দাবি বকেয়া

অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দ্বারস্থ ৭ সাবেক অধিনায়ক

ট্রাম্পের সমঝোতার ঘোষণার পরই কিয়েভে পেট্রল স্টেশনে হামলা

এস কে সুরের স্ত্রীর দুই বছরের কারাদণ্ড

সাদ্দাম-ইনানসহ ৭ আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায়ে ঢাবিতে মিষ্টি বিতরণ

সৎ থাকাটাই সবচেয়ে বড় অপরাধ: আসিফ মাহমুদ

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির প্রভাবে সংকটে গরুর মাংসের বাজার

যেসব অভিযোগে ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনের মৃত্যুদণ্ড