,

‘আমি গুলি খাওয়ার জন্য প্রস্তুত আছি’

news-image

নিজস্ব প্রতিবেদক : নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমানো এবং মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিতের আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। এ সময় নিজে গুলি খাওয়ার জন্য প্রস্তুত আছেন বলেও জানান তিনি। আজ শনিবার নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে অনুষ্ঠিত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘এখানে যারা পুলিশ প্রশাসনের লোকজন আছেন, হয়তোবা তারাও আমাদের কর্মসূচির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করতে এসেছেন। কারণ আমাদের দাবিটা একটা মৌলিক বিষয়, এর সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করতে হবে। ঘুষ, দুর্নীতি আছে। সরকারি প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে পুলিশের নাম বেশি শোনা যায়। তারপরও কয়জন পুলিশ ঘুষ পায় বা খায়? ৯৭ ভাগ পুলিশই ঘুষ পান না। এই পুলিশের লোকজন বাজারে গেলে তাদের কাছ থেকে কম নেয় না। এমন তো না আমার কাছ থেকে বেশি নেয়, পুলিশের কাছ থেকে কম নেয়। সরকারকে বলব, মানুষ অভাবের কথা বলবে, তার সুযোগ কেন থাকবে না?’

এর আগে নিপুণ রায় চৌধুরী বলেন, ‘গতকাল শুক্রবার রাতে সমাবেশের জন্য জিনজিনরা পার্টি অফিসের পাশে একটি মঞ্চ করলে তা ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়ে ভেঙ্গে দেয়। এ সময় সেখানে আমার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করা নেতাকর্মীদেরও মারধর করা হয়। এতে ২৫ জনের মতো নেতাকর্মী আহত হয়। খবর পেয়ে রাত ১টার দিকে ঘটনাস্থলে ছুটে যান আমাদের নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। রাতভর জিনজিনরা পার্টি অফিসে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে অবস্থান করেন তিনি। ’

কেরানীগঞ্জের সেই ঘটনা তুলে ধরে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘সুস্থভাবে আমরা রাজনীতি করতে চাই। কেরানীগঞ্জের মানুষগুলো একসঙ্গে বসবাস করতে চাই। আমরা হিন্দু সম্প্রদায় যেমন পূজার সময় পূজা করি, তেমনি মুসলমানরা নামাজের সময় নামাজ পড়ে। রাজনীতিতেও আওয়ামী লীগের কথা থাকলে মিটিং করবে, আমাদের সমালোচনা করবে। আমরা তার প্রতি উত্তর দিবো আরেকটি সভা করে। কিন্তু কারও সভা ভেঙ্গে নয়। ’

এ সময় স্মরণ করিয়ে দিয়ে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে মরিনি। ২০১৮ সালের ২৫ ডিসেম্বরের হামলায়ও মরিনি। যারা এই হামলা করে তাদের দেখাতে চাই, মানুষের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করলে মানুষ সম্মান করে। মানুষ একবারই মরে। আজকে এই কেরানীগঞ্জে এসেছি মরার জন্য। আওয়ামী লীগ লোকজন অথবা পুলিশেরও কারও কারও খায়েশ থাকে শার্টের বোতামগুলো খুলে দিচ্ছি। সরকারকে বলব, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমান, মানুষের জীবনের নিরাপত্তা দিন। আমি গুলি খাওয়ার জন্য প্রস্তুত আছি। ’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, ‘গণমাধ্যমসহ সবাই বলে বাংলাদেশ থেকে মাত্র ১০ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে। এই টাকা যদি পাচার না হতো, বাংলাদেশে বিনিয়োগ হতো। তাহলে অনেক শিল্পকলকারখানা হতো, কর্মসংস্থান হতো। আমাদের চাহিদা পূরণের পরও বিদেশে রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারতাম। আমাদের যুবক ভাইদের বৈধ অথবা অবৈধ উপায়ে বিদেশে যেতে হতো না। ভূমধ্যসাগরে পানিতে ডুবে মরতে হতো না। ’

এই সরকারের নানা মানুষ নানা দায়িত্বে। কেউ সীমান্তে নিরাপত্তার দায়িত্বে। যারা সীমান্তের দায়িত্বে তাদের কাছে অস্ত্র আছে, তারা অন্যায় দেখলেও গুলি করতে পারে না। অপরদিকে ভারতের বিএসএফ পাখির মতো আমাদের দেশের মানুষকে একের পর এক গুলি করে মারছে। সে ক্ষেত্রে কিন্তু সরকারের কোনো প্রতিবাদ নেই’, যোগ করেন গয়েশ্বর।

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ফারাক্কার পানি অনেক আগে থেকে পাই না। এমনকি তিস্তার পানিও আমরা পাচ্ছি না। কিন্তু উত্তর-পূর্ব ভারতে আমাদের ফেনী নদীর পানি মানবিক কারণে দেওয়া হচ্ছে। আমরা মানবিক কারণে পানি দিচ্ছি, যদিও আমাদের যথেষ্ট পানির অভাব রয়েছে। তাহলে ভারত থেকে পানি আনতে পারছি না কেন? এর জবাব কে দিবে?’

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘আজকে সব জিনিসের দাম বাড়ছে। দুটি জিনিসের দাম কমছে। একটা হচ্ছে মানুষের জীবনের দাম, অন্যটি হচ্ছে নারী ও শিশুর দাম। আজকে অবুঝ শিশুরা ধর্ষণের শিকার হন, মা বোনকে তার ইজ্জত হারাতে হয়।’

আজকে ঘরে থাকলে মরতে হয়, বাইরে গেলে গুম হয়ে যেতে হয় উল্লেখ করে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘কখনো কখনো গুলি খেয়ে মরতে হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় রাষ্ট্রের অনেক টাকা ব্যয় হয়, অনেক লোক নিয়োগ করা হয়েছে। আগে থানাতে একটি জিপ ছিল না। এখন প্রায় সব থানার সাব ইন্সপেক্টরই গাড়িতে চড়ে। তাদের কাজ কী? জগণের নিরাপত্তা দেওয়া। তারা সরকারের লোকদের নিরাপত্তা দিতে দিতেই ব্যস্ত, সুতরাং জনগণ নিরাপত্তা পায় না। সে কারণে নারী-শিশুসহ জনগণের নিরাপত্তার দিকে খেয়াল রাখতে পারে না। ’

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘এই কেরানীগঞ্জে কতটা মাদক স্পট আছে? নিশ্চয় গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন জানেন। থানার কর্মকর্তাদেরও না জানার কথা না। কিন্তু মাদক ব্যবসা কিন্তু অহরহ চলছে। এদিকে একটু নজর দেন। তাতে কিছু যুব সমাজ বাঁচুক। একটি পরিবারের একজন মাদক গ্রহণ করলে সেই পরিবারটা ধ্বংস হয়ে যায়। সেদিকে একটু নজর দেন। তা দিবেন না। ভূমি দখল, জায়গা দখলের কোনো শেষ নেই। বৃহত্তর ঢাকা জেলার যে প্ল্যান আছে, সেখানে খাল বিল, নিচু জমি ও কৃষি জমি ভরাট করা নিষেধ। একটা শস্য শ্যামল এলাকা কেরানীগঞ্জ ছিল, আজকে বালুতে ঢাকা। কার জমিতে এই বালু কে ফেলে ভরাট করে? আবার বালু ভরাটের টাকা দিতে না পারলে জমি দিয়ে দিতে হয়। এতে করে কেরানীগঞ্জের মানুষ ভূমিহীন হচ্ছে। হাউজিং করে প্লট বিক্রি করা হচ্ছে। কিন্তু জমির মালিকের কাছ থেকে জমি কেনা হয়েছে কিনা সেদিকে কোনো খেয়াল নেই। এসবের কোনো বিচার নেই। আইনশৃঙ্খলাসহ সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্তরা কেউই নজর দেন না। ’

‘এই জমি বিক্রি বা কেনা যে কত কঠিন সংশ্লিষ্ট ছাড়া অন্য কেউ বুঝতে পারেন না। সরকারি রেজিস্ট্রি ফি’র বাইরেও কত টাকা দিতে হয় তার হিসাব নেই। ইশারা ছাড়া ইচ্ছে করলেই জমির মালিক জমি বিক্রি করতে পারেন না’, যোগ করেন গয়েশ্বর।

সকাল সাড়ে ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত জিনজিনরায় দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট নিপুণ রায় চৌধুরীর সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন- দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, স্থানীয় নেতা হাজী ওমর শাহ নেওয়াজ, আব্দুল মান্নান রতন, ইশা খান, যুবদলের মোকাররম হোসেন সাজ্জাদ, স্বেচ্ছাসেবক দলের সোহেল রানা, মহিলা দলের নার্গিস হক, ছাত্রদলের পাভেল মোল্লা প্রমুখ।

 

এ জাতীয় আরও খবর

ঘরেই বানান জিভে জল আনা ‘চিড়া-মুগ ক্ষীর’

হাঁটতে বেরিয়ে সড়কে প্রাণ গেল ২ নারীর

‘সুখের মতো অসুখ’র দিনগুলোতে রবীন্দ্রনাথ

দুর্গাপূজাকে ঘিরে অপশক্তি চক্রান্ত করতে পারে: রিজভী

নবীনগরে সততা ব্রিকস ফিল্ডে ডাকাতি, নাইটগার্ড ও ম্যানেজারদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি, মামলা করলে হত্যার হুমকি

ঢাকায় আজ বৃষ্টি হবে কি?

জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভা রোববার

দুর্নীতিবাজ গ্রেপ্তারে আবার সক্রিয় হচ্ছে দুদক

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ, জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান

সংখ্যালঘু নয়, সবার পরিচয় হবে বাংলাদেশি: মাহ্‌দী আমিন

কুমিল্লায় স্কুলছাত্রী হত্যায় অটোরিকশাচালক গ্রেপ্তার

প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত, বিক্ষোভে প্রার্থীরা