,

বিল আদায়ে তৎপর গ্যাস বিতরণ কোম্পানিগুলো

news-image

নিউজ ডেস্ক : সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও গ্রাহকের কাছে বকেয়া বিল বাবদ সরকারি গ্যাস বিতরণ কোম্পানিগুলোর পাওনা ৮ হাজার ৭০০ কোটি টাকা। এতদিন বকেয়া আদায় নিয়ে কোম্পানিগুলোর টালবাহানা থাকলেও জ¦ালানি বিভাগের চাপে এখন তারা তৎপর হয়েছে। বকেয়া ৮ হাজার ৭০০ কোটি টাকার মধ্যে সরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে পাওনা ১ হাজার ৫৩৭ কোটি টাকা। বেসরকারি বিদ্যুৎ খাত এবং বিভিন্ন কোম্পানির কাছে পাওনা ৭ হাজার ১৬৩ কোটি টাকা।

জ্বালানি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, আন্তর্জাতিক বাজারে লিকুফাইড ন্যাচারাল গ্যাসের (এলএনজি) দাম অনেক বেশি। দেশের প্রয়োজনীয় এলএনজি আমদানি অব্যাহত রাখতে আর্থিক সংকটে পড়তে হচ্ছে সরকারকে। ফলে গ্রাহকের কাছে পড়ে থাকা বকেয়া গ্যাস বিল আদায়ে অনেক বেশি তৎপর জ¦ালানি বিভাগ। গত সোমবার দেশের সবচেয়ে বড় গ্যাস বিতরণ কোম্পানি তিতাসের কাওরানবাজারে প্রধান কার্যালয়ে আকস্মিক পরিদর্শনে যান বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। তিনি বকেয়া আদায়ের বিষয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে বলেন। সার্বিক বকেয়া আদায়ের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী আমাদের সময়কে বলেন, গ্রাহকরা নানা অজুহাতে গ্যাস বিল বকেয়া ফেলে রাখতে চান। আমরাও বিভিন্ন সময়ে গ্রাহকদের সমস্যা বিবেচনা করে সুযোগ দিয়েছি। তবে এখন আর বকেয়া গ্যাস বিল রাখা যাবে না। যাদের বকেয়া বিল আছে দ্রুত পরিশোধ করে দিতে হবে। কোম্পানিগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বকেয়া আদায়ে তৎপর হতে। বকেয়া বিল থাকলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হবে।

জ¦ালানি বিভাগের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাস বিল বকেয়া গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত ৯৯০ কোটি টাকা, বেসরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোয় বকেয়া ১ হাজার ৪১৩ কোটি টাকা। সরকারি খাতে ক্যাপটিভ পাওয়ারে ৪০ কোটি টাকা, বেসরকারি ক্যাপটিভ পাওয়ারে ১ হাজার ৪২ কোটি টাকা। সরকারি সার কারখানাগুলোয় বকেয়া ৮৩ কোটি ৪১ লাখ টাকা, বেসরকারি খাতে ৯৭ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। শিল্প খাতে ১১৫ কোটি ৪৩ লাখ টাকা, বেসরকারি খাতে ১ হাজার ৪০৪ কোটি টাকা। সরকারি পর্যায়ে বাণিজ্যিক গ্রাহকদের কাছে ৮ কোটি ২ লাখ টাকা, বেসরকারি খাতে ১৭৪ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। আবাসিক খাতে সরকারি পর্যায়ে বকেয়া ২৯৬ কোটি ১৬ লাখ টাকা, বেসরকারি খাতে আবাসিক গ্যাস বিল বকেয়া ২ হাজার ২৪৬ কোটি ৪০ লাখ টাকা। সিএনজি খাতে বকেয়া ৭৭৮ কোটি ৩২ লাখ টাকা। চা শিল্পে বকেয়া ৩ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। মৌসুমি গ্যাস খাতে বকেয়া ৪ কোটি ৫২ লাখ টাকা।

দেশে গ্যাস উত্তোলন ও বিতরণে ১১টি কোম্পানি কাজ করে থাকে। তবে ৬টি গ্যাস বিতরণ কোম্পানি সারাদেশের গ্রাহকদের কাছে বিভিন্ন শ্রেণিতে গ্যাস সরবরাহ করে থাকে। সবচেয়ে বড় কোম্পানি তিতাসের একাই বকেয়া আছে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা। এ বিষয়ে তিতাস গ্যাস কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী হারুনুর রশিদ মোল্লাহ আমাদের সময়কে বলেন, করোনা মহামারীর কারণে অনেক গ্রাহকের গ্যাস বিল বকেয়া পড়ে গেছে। সেগুলো আদায় জোরদার করতে জ্বালানি বিভাগের নির্দেশনা রয়েছে। আমরা বকেয়া বিল আদায়ে তৎপর। আশা করছি দ্রুত বকেয়া গ্যাস বিল আদায় করে বকেয়ার পরিমাণ অনেক কমিয়ে আনতে পারব। তিনি আরও বলেন, শুধু বকেয়া বিল আদায় করাই নয়, আমরা অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতেও সাঁড়াশি অভিযান চালাচ্ছি।

 

এ জাতীয় আরও খবর

ডাকসুর সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি কেন, জানালেন জিএস ফরহাদ

শিশুদের সম্ভাবনা বিকশিত করতে মুক্ত পরিবেশ নিশ্চিতের আহ্বান জুবাইদা রহমানের

‘বৃত্তি-উপবৃত্তিতে সমতা নয়, প্রয়োজনের ভিত্তিতে অগ্রাধিকার’

রাজউকে দুদকের হানা

বীমা খাতে ৭ হাজার কোটি টাকার দাবি বকেয়া

অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দ্বারস্থ ৭ সাবেক অধিনায়ক

ট্রাম্পের সমঝোতার ঘোষণার পরই কিয়েভে পেট্রল স্টেশনে হামলা

এস কে সুরের স্ত্রীর দুই বছরের কারাদণ্ড

সাদ্দাম-ইনানসহ ৭ আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায়ে ঢাবিতে মিষ্টি বিতরণ

সৎ থাকাটাই সবচেয়ে বড় অপরাধ: আসিফ মাহমুদ

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির প্রভাবে সংকটে গরুর মাংসের বাজার

যেসব অভিযোগে ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনের মৃত্যুদণ্ড