,

যত বাঁধা দিবেন বেগম খালেদা জিয়া’র মুক্তির আন্দোলন ততোই তরান্বিত হবে : মির্জা আব্বাস

news-image

হারুন উর রশিদ সোহেল, রংপুর : বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী মির্জা আব্বাস বলেছেন, এক সময় পাকিস্থানী হায়ানার বিরুদ্ধে তৎকালীন পুর্ব পাকিস্থানের মানুষ যেভাবে জেগেছে। যেই ভাবে ১৪৪ ধারা ভেঙ্গে আন্দোলন করেছে। ঠিক সেইভাবে আজ আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশেও মানুষ ১৪৪ ধারা ভাঙ্গছে। ইতিমধ্যেই দেশের বিভিন্ন স্থানে বিএনপির সমাবেশ বাঁধাগ্রস্ত করতে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছিল। কিন্তুু জনগণ তা রুখে দিয়েছে। ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে সমাবেশ হয়েছে। সরকারের উদ্দেশ্যে তাই একটি কথা বলছি আপনারা যত বাঁধা দিবেন, বিএনপি নেতাকর্মীরা তত চাঙ্গা হবে। বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলন তত তরান্বিত হবে।

বুধবার বিকেলে রংপুরের গঙ্গাচড়ার বুড়িরহাট ঈদগাহ মাঠে জেলা বিএনপি আয়োজিত বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং বিদেশে সু-চিকিৎসার দাবিতে সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, এই সরকার দেশকে মাফিয়া রাজ্যে পরিনত করেছে। দেশের সেনাবাহীনির সাবেক প্রধান জেনারেল আজিজ সেনাবাহিনীকে কলংকিত করেছেন। তাঁর দুই ভাই হারেস ও জোসেফ মৃত্যুদÐ প্রাপ্ত আসামী। তাদের রাষ্ট্রপতি মাফ করে দেন। অথচ একটি ছোট মামলায় তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি হয় না। এটা মেনে নেয়া যায় না।

মির্জা আব্বাস বলেন, দেশে আজ মাফিয়ার রাজত্ব চলছে। দেশের মানুষের নিরাপত্বা নেই। বেড়াতে গেলেও নারীরা ধর্ষণের শিকার হচ্ছে। কোথাও নিরাপত্তা নেই। দ্রব্যমুল্যের উর্ধ্বগতির কারণে জনগণ আজ নার্ভিশ্বাস হয়ে পড়েছে। প্রতিনিয়তই দেশে বেকার মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। তারপরও এই ভোটার বিহীন আওয়ামী সরকার দেশের মানুষের উপর জুলুম নির্যাতন করছে। দেশকে অপরাধে স্বর্গরাজ্যে পরিনত করেছে।

তিনি বলেন, ভোটার বিহীন সরকার বিএনপিকে ভয় পায়। তাই এই অবৈধ সরকার করোনার দোহাই দিয়ে বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলোর সভা-সমাবেশের ও্পর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। যদি সত্যিই করোনা বেড়ে থাকে তাহলে বিএনপি দেশের মানুষের কথা ভেবে এমনিতেই তা বন্ধ রাখবে। কারণ বিএনপি এই দেশ ও দেশের মানুষকে ভালোবাসে।

ঢাকা সিটির সাবেক এই মেয়র বলেন, ১৯৭১ সালে দেশে একটা মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল। সেই মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমরা পেয়েছিলাম স্বাধীন ও স্বার্ভভৌর্ম বাংলাদেশ। বর্তমানে দেশে আরেকটা যুদ্ধ শুরু হয়েছে। সেই যুদ্ধে নেতৃত্ব দিবেন তারেক রহমান। আমরা তার নেতৃত্বেই এই যুদ্ধে জয়ী হয়ে দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনবো। দেশে মানুষের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দেবো। তাই সকল নেতাকর্মীকে ঐক্যবদ্ধভাবে এই যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার আব্বান জানাচ্ছি।

সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসাবে বক্তব্য রাখেন বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও রংপুর জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাবিব উন নবী খান সোহেল। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, সারাদেশের মানুষ আজ জেগেছে। তারা একটি দাবিই করছে সেটা হলো দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও সু-চিকিৎসা। কিন্তুু ভোটার বিহীন এই সরকার দেশের মানুষের সেই চাওয়াকে গুরুত্ব না দিয়ে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা মুলক মামলা দেখিয়ে তাকে আটক করে রেখেছে। উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করছে না। বেগম খালেদা জিয়াকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে। যদি বেগম খালেদা জিয়ার কিছু হয় তাহলে এই সরকারের টিকিও খুঁজে পাওয়া যাবে না।

তিনি আরও বলেন, রংপুরে বিএনপি রাজনৈতিক ভাবে অনেক শক্তিশালী। আজকের এই জনসভাই তরা প্রমাণ। পথে পথে নেতাকর্মীর বাঁধা দেয়া হয়েছে। হয়রানী করা হয়েছে। পুলিশ-প্রশাসনের বাঁধা ডিঙিয়ে আজকের এই সমাবেশ জন সমুদ্রে পরিনত হয়েছে।

রংপুর জেলা বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন বিএনপির রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক, সাবেক উপমন্ত্রী অধ্যক্ষ আসাদুল হাবীব দুলু, সহ-সাংগঠনিক সম্পদাক সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম ও আব্দুল খালেক, যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি চৌধুরী মেহেবুল্লাহ আবু নুর, স্বেচ্ছাসেবক দল কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ, কৃষক দল কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পদাক উম্মে হাবিবা, ছাত্রদলের রংপুর বিভাগীয় টিম প্রধান সহ-সভাপতি মামুন খান প্রমুখ। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন রংপুর মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সামসুজ্জামান সামু, সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম মিজু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনিছুর রহমান লাকু, গঙ্গাচড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি ওয়াহেদুজ্জামান মাবু, জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়ান হোসেন শাহান, জেলা যুবদল সভাপতি নাজমুল আলম নাজু, সাধারণ সম্পাদক সামসুল হক ঝন্টু, মহানগর যুবদল সভাপতি মাহফুজ উন নবী ডন, সাধারণ সম্পাদক লিটন পারভেজ, মহানগর কৃষক দল আহবায়ক শাহ নেওয়াজ লাবু, মহিলা দল মহানগর কমিটির সভাপতি রেজেকা সুলতানা ফেন্সি, সাধারণ সম্পাদক সাবেক কাউন্সিলর আরজানা বেগম, ওলামা দল কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহবায়ক ও রংপুর জেলা সভাপতি মাওলানা ইনামুল হক মাজেদী, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মমিন জিহাদী, মহানগর ছাত্রদল সভাপতি নুর হাসান সুমন, সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া ইসলাম জিম, সাংগঠনিক সম্পাদক রাজিব চৌধুরী, জেলা ছাত্রদল সভাপতি মনিরুজ্জামান হিজবুল, সাধারণ সম্পাদক শরীফ নেওয়াজ জোহা প্রমুখ। সমাবেশে রংপুর জেলা ও মহানগর বিএনপিসহ অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং বিভাগের বিভিন্ন জেলার নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।

এ জাতীয় আরও খবর

ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের জন্মদিন আজ

মাদ্রাসা শিক্ষককে থাপ্পড় দেওয়া রুমিকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশের অভিযান

এভারটনকে হারিয়ে ম্যানসিটিকে ধরে ফেলল আর্সেনাল

নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে টি-টোয়েন্টিতে অনন্য মাইলফলক ভারতের

রূপপুরের প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তুতি সম্পন্ন

সংবিধান সংশোধনে নোট অব ডিসেন্ট পরিবর্তনের প্রস্তাব দিতে বললেন সালাহউদ্দিন আহমদ

তারেক রহমানের সফরে বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের প্রত্যাশা

সৃজনশীল শিল্পকে অর্থনীতির চালিকাশক্তি করতে চায় সরকার: অর্থমন্ত্রী

আপনার পানির বোতল কতদিন পরপর পরিষ্কার করবেন?

হুথি হামলার জেরে তেলের দাম গত ৬ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ

একজন চট্টগ্রাম থেকে বিমানে করে শিউলি ফুল পাঠিয়েছে : পরীমনি

কক্সবাজারে স্বস্তি খুঁজে পায় মিমের মন