,

৭০ বছর পর শতবর্ষী  মায়ের বুকে ফিরলেন হারানো  ছেলে

news-image

তৌহিদুর রহমান নিটল ও ফয়সল আহমেদ খান ,ব্রাহ্মণবাড়িয়া : ১০ বছর বয়সে চাচার সঙ্গে নওগাঁর আত্রাইয়ে গিয়ে হারিয়ে যায় আব্দুল কুদ্দুছ মুন্সি। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খুঁজেও তার সন্ধান পায়নি। অবশেষে সামাজিক যোগাযোগ মার্ধ্যমে দীর্ঘ ৭০ বছর পর হারিয়ে যাওয়া সেই ছেলেকে ফিরে পেয়েছেন তার শতবর্ষী মা।শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার আশ্রাফবাদ গ্রামে কুদ্দুছের বোন ঝরনা বেগমের বাড়িতে প্রায় সাত দশক পর মা-ছেলের দেখা হয়। মাকে পেয়ে জড়িয়ে ধরে কেঁদে ফেলেন ছেলে। আবেগাপ্লুত হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন মা মঙ্গলের নেছাও। এ দৃশ্য দেখে গ্রামের উপস্থিত নারী-পুরুষের চোখে পানি চলে আসে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মঙ্গলের নেছা ছেলেকে লেখাপড়া করাতে নবীনগর উপজেলার দীর্ঘশাইল গ্রামের আব্দুল আউয়াল মিয়ার সঙ্গে নওগাঁর আত্রাইয়ে পাঠান। সেখানে গিয়ে ১০ বছরের কুদ্দুছ হারিয়ে যায়। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও তার সন্ধান পাননি আউয়াল মিয়া। কুদ্দুছকে ছাড়াই গ্রামের বাড়িতে ফিরেন তিনি। কুদ্দুছের পরিবারকে জানান হারিয়ে যাওয়ার কথা।
এদিকে, আত্রাইয়ের সিংশাইর গ্রামের নিঃসন্তান সাদেক মিয়ার স্ত্রী কুদ্দুছকে লালন-পালন করেন। ৩০ বছর বয়সে রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার সবেদ মিয়ার মেয়ে শুরুজ্জাহানকে বিয়ে করে শ্বশুরবাড়িতেই স্থায়ীভাবে বসবাস করতে থাকেন কুদ্দুছ। বর্তমানে তিনি তিন ছেলে ও পাঁচ মেয়ের জনক। বড় ছেলে রাজ্জাক ইরাকে ও মেজো ছেলে জান্নাত সৌদি আরবে থাকেন। ছোট ছেলে হাফেজ সোহেল থাকেন বাড়িতেই। এছাড়া পাঁচ মেয়ের সবাকেই বিয়ে দিয়েছেন কুদ্দুছ-শুরুজ্জাহান দম্পতি।ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে থাকা নবীনগরের বাড্ডা গ্রামের বাসিন্দারা সাড়া দিতে থাকেন।ভিডিওর সূত্র ধরে গত ৫ সেপ্টেম্বর কুদ্দুছের গ্রামের কয়েকজন আইয়ূবের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তারা সেখানে গিয়ে কুদ্দুছের সঙ্গে ভিডিওকলে মায়ের কথা বলিয়ে দেন। হাতে কাটা চিহ্ন দেখে ছেলেকে শনাক্ত করেন মা।
শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কুদ্দুছ মুন্সি নিজের ছেলে ও তার স্ত্রীদের নিয়ে মায়ের সঙ্গে দেখা করতে বোন ঝরনার বাঞ্ছারামপুরের আশ্রাফবাদ গ্রামের বাড়িতে আসেন।
কুদ্দুছ মুন্সির বোন ঝরনা বেগম বলেন, ‘আমার মা সবসময় বলতেন, একদিন আমার ছেলে ফিরে আসবে। আল্লাহ আমার মায়ের দোয়া কবুল করেছেন। আমরা ভাইকে ফিরে পেয়েছি।’
আব্দুল কুদ্দুছ মুন্সি বলেন, ‘সবসময় মনে মনে মা ও বোনদের খোঁজার চেষ্টা করেছি। বিশ্বাস ছিল একদিন আমার মায়ের সন্ধান পাবো।’ ‘মায়ের বুকে ফিরতে পেরে নিজেকে পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষ মনে করছি।

এ জাতীয় আরও খবর

ডেঙ্গু রোধে জনসচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান ডা. রফিকুল ইসলামের

হাইতিতে জাতিসংঘ মিশনে যাচ্ছে সেনাবাহিনীর ৫০ সদস্যের দল

ক্যাম্পাসে গণতন্ত্র দমনের অভিযোগ বিএনপি-ছাত্রদলের বিরুদ্ধে: ডাকসু জিএস

মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগ শুরু, অনুমোদিত এজেন্সির মাধ্যমে যাওয়ার সুযোগ

ডেঙ্গুতে এক দিনে আরও ১০ জনের মৃত্যু

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কমিটি গঠন স্থগিত

যুব উন্নয়নের নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস, গ্রেপ্তার ৫

ক্রিকেটারদের ৮ লাগেজ চুরি, আটক ৪

সাজেকে অবরোধ স্থগিত, পর্যটকদের জন্য খুলল সব কেন্দ্র

শিল্পে গ্যাস সংযোগের অগ্রাধিকার ঠিক করতে কমিটি গঠন

স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে কেনাকাটা ও দরপত্র বন্ধের নির্দেশ

গাজীপুরে পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা, আহত ২ সদস্য