বৃহস্পতিবার, ২৩শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ৮ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গাদ্দাফির ছেলে জীবিত, প্রেসিডেন্ট হওয়ার আকাঙ্ক্ষা

news-image

নিউজ ডেস্ক : লিবিয়ার একনায়ক মুয়াম্মার গাদ্দাফির ছেলে সাইফ আল-ইসলাম আদৌ বেঁচে আছেন কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা কেটে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মতে, ২০১৪ সাল থেকে সাইফ আল-ইসলাম আল-গাদ্দাফির বেঁচে থাকার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় না। লিবিয়ার সাধারণ মানুষের মধ্যেও সাইফের বেঁচে থাকা বা মৃত্যু নিয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য ছিল না।

তবে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে সেই সাইফের বেঁচে থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। শুক্রবারের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাইফ রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে প্রেসিডেন্ট হওয়ার বাসনা পোষণ করছেন। ওই সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, লিবিয়ার হারানো ঐক্য ফিরিয়ে আনতে চান।

২০১১ সালে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে আলোচিত ‘আরব বসন্তের’ সময় লিবিয়ার শাসক গাদ্দাফির বিরুদ্ধেও বিক্ষোভ হয়। পরে নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদনে মার্কিন সমর্থনপুষ্ট অ্যাংলো-ফ্রেঞ্চ সেনাদের অভিযানে গাদ্দাফির পতন ঘটে। দেশটির বিদ্রোহীদের হাতে নিহত হন গাদ্দাফি। সে সময় লিবিয়ার একটি মরুভূমি থেকে আটক হন সাইফ। ২০১৪ সাল থেকে ধারণা করা হয়, তার মৃত্যু হয়েছে। তবে তিনি বেঁচে আছেন।

নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েক মাস আগে লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলির দক্ষিণ-পশ্চিমে নাফুশ পার্বত্যাঞ্চলের জিনতান মালভূমি এলাকায় ওই সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদক ও আলোকচিত্রীর সঙ্গে সাইফের দেখা হয়। সেখান থেকে ২০ মিনিটের দূরত্বে একটি দোতলা বাড়িতে সাংবাদিকদের স্বাগত জানান সাইফ। তবে ওই বাড়িতেই তিনি থাকেন কি না, এ বিষয়ে নিশ্চিত করা হয়নি। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে সাইফ নিজের বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে দীর্ঘ সময় কথা বলেন।

নিউ ইয়র্ক টাইমস বলছে, সাইফের চেহারায় সে সময় বয়সের ছাপ লক্ষ্য করা গেছে। তার চুলও খানিকটা পেকে গেছে। সাক্ষাৎকারের সময় সাইফ আরব শেখদের মতো পোশাক পরে ছিলেন। তার মাথায় পাগড়ি ছিল। সাংবাদিকদের যে কক্ষে বসানো হয়, সেটি বেশ রাজকীয়ভাবে সাজানো ছিল। ওই সময় বাড়িতে অন্য কেউ ছিল না। ডান হাতের বৃদ্ধাঙ্গুল ও তর্জনী বিচ্ছিন্ন ছিল। সাইফ সাংবাদিকদের বলেন, ২০১১ সালে এক বিমান হামলায় তার এই দুই আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়।

সাইফকে জিজ্ঞেস করা হয়, তিনি বন্দী কি না। জবাবে বলেন, তিনি এখন মুক্ত এবং রাজনৈতিক ক্ষমতা ফিরে পেতে কাজ করছেন। এক দশক আগে যারা তাকে গ্রেফতার করেছিল, পরে তারা হতাশ হয়ে পড়ে। একসময় সেই বিপ্লবীরা উপলব্ধি করে, সাইফ তাদের শক্তিশালী মিত্র হতে পারে। সাইফ বলেন, ‘আপনি কল্পনা করতে পারেন? যারা আমাকে বন্দী হিসেবে পাহারা দিয়ে রাখার কথা ছিল, তারা এখন আমার ভালো বন্ধু।’

দীর্ঘদিনপর গণমাধ্যমে প্রকাশ্য হয়ে সাইফ জানিয়েছেন, লিবিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লড়তে চান। তিনি বলেন, ‘আমি দশ বছর ধরে লিবিয়ার জনগণ থেকে দূরে রয়েছি। ধীরে ধীরে ফিরে আসতে হবে। জনগণের মন জয় করতে হবে’।

বাবার মৃত্যুর পর ২০১৫ সালে সাইফের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়। আন্তর্জাতিক অপরাধী আদালতেও (আইসিসি) যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত সাইফ। তার রাজনীতিতে ফেরার বাঁধা হয়ে দাঁড়াতে পারে আইসিসি।

এ জাতীয় আরও খবর

গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে সিদ্ধান্ত সংসদের চিঠির পর

দিল্লির আন্দোলনের প্রভাব, মুম্বাইয়ে সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা

দিল্লির বিক্ষোভ তীব্র, প্রশ্নপত্র ফাঁসে কঠোর ব্যবস্থা নেবেন মোদি

ঢাকায় বৃষ্টির সম্ভাবনা, বাড়তে পারে তাপমাত্রা

ঢাকার বায়ুমানে উন্নতি, দূষিত শহরের তালিকায় ৫৫তম

নতুন নৌপ্রধান পেলেন ভাইস অ্যাডমিরাল পদমর্যাদা

মেসির বিদায়ী ম্যাচ চায় স্পেন

বহিষ্কারের পর গাজী নজরুলের এমপি পদ থাকবে কি না

১০ জেলায় ঝড়ের সতর্কতা, নদীবন্দরে ১ নম্বর সংকেত

১০৭ ঘণ্টা পর বন্ধ কাপ্তাই বাঁধের ১৬ জলকপাট

ইয়ামালকে মেসির অনুপ্রেরণার বার্তা

প্রবাসীদের পাসপোর্ট সংশোধনের সময় বাড়ল