,

রংপুরে নেক ব্লাস্টের আক্রমণে বোরো ধানে চিটা, দুশ্চিন্তায় কৃষক

news-image

রংপুর ব্যুরো : রংপুরে ধান কাটার আগ মুহূর্তে কৃষকদের রোপণকৃত ধান গাছে ছত্রাক জাতীয় নেক ব্লাস্ট রোগ ছড়িয়ে পড়েছে। ২৮ ব্রি ধানে এ রোগ সংক্রমণের সংখ্যা বেশী দেখা দিয়েছে। এতে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন রংপুর অঞ্চলের কৃষকরা।

তবে কৃষি বিভাগ বলছে, রংপুর জেলায় শতশত হেক্টর জমিতে নেক ব্লাস্ট রোগ দেখা দিলেও মাত্র সাত দশমিক ২৫ হেক্টর জমিতে আক্রমণের পরিমাণ নিরূপণ করেছে তারা। তারা নানা পরামর্শ দিয়ে রোগপ্রতিরোধে বিতরণ প্রচারপত্র করেছেন। কৃষকদের পরামর্শ নিচ্ছেন।
রংপুর কৃষি সম্পসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে রংপুর নগরীসহ জেলার আট উপজেলায় এক লাখ ৩০ হাজার ৯০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষ হয়েছে। ধানের ফলন ভালো হলেও হঠাৎ প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে এ রোগ ছড়িয়ে পড়েছে।
কৃষকরা জানান, অনেক জমির বোরো ধান সাদা হয়ে গেছে। কৃষি বিভাগের পরামর্শে ওষুধ স্প্রে করেও কোন উন্নতি হয়নি। শুধু রোগ নয়, কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে অনেক এলাকার ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মাটিতে হেলে পড়েছে ধান গাছ। এ অবস্থায় কৃষকদের দুশ্চিন্তা আরও বেড়েছে। যেভাবে ব্লাস্ট রোগ ছড়িয়ে পড়েছে তাতে অনেকের জমির ফসল ইতিমধ্যে চিটা হয়ে গেছে। তবে কিছু কৃষক ওষুধ স্প্রে করে আংশিক ফল পেলেও শতভাগ আবাদ ঘরে তুলতে পারবে না।

রংপুর নগরীর তামপাট এলাকার কৃষক নুর ইসলাম ও আশরাফুল আলম জানান, মানুষের জমি বর্গা নিয়ে বোরো ধান আবাদ করে বিপদে পড়েছি। জমির ধানের শিষ সাদা হয়ে যাচ্ছে।
পীরগাছা উপজেলার কাবিলাপাড়া গ্রামের কৃষক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, প্রায় প্রত্যেকের জমিতে এই রোগ দেখা দিয়েছে। ওষুধ প্রয়োগ করেও কাজ হচ্ছে না। এই রোগ ও শিলাবৃষ্টিতে এবার কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত। ধান চিটা হয়ে যাওয়ায় কেটে গরুকে খাওয়ানো ছাড়া কোন উপায় নেই।
একই গ্রামের রুহুল আমিন বলেন, নেক ব্লাস্ট রোগে তার পুরো ধান ক্ষেত চিটা হয়ে গেছে। ২৮ শতক জমিতে একমণ ধানও মিলবে না। চিটা ধান কেটে গোখাদ্য ছাড়া কোন উপায় নেই।
গঙ্গাচড়া উপজেলার দক্ষিণ কোলকোন্দ বাবুপাড়া গ্রামের কৃষক দুলাল মিয়া জানান, তার ৪০ শতক জমির ২৮ ব্রি ধান ক্ষেতে ব্লাস্ট রোগ আক্রমণ করেছে। কীটনাশক স্প্রে করেও ফসল রক্ষা করতে পারেনি। পুরো ক্ষেত চিটা হয়ে গেছে।

একই গ্রামের কৃষক জিতেন চন্দ্র রায় জানান, যে কৃষক ২৮ ব্রি ধান চাষ করেছেন, তাদের সবার ক্ষেত ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত হয়েছে। অনেক কৃষক একমুঠো ধানও ঘরে তুলতে পারবে না।
গঙ্গাচড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম জানান, চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ১০ হাজার ৬ শত হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। ব্লাস্ট রোগে ধানের শীষের নিচে কালো দাগ দেখা দেয় ও শীষ দ্রুত মরে যায়।

পীরগাছা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শামিমুর রহমান বলেন, আবহাওয়া প্রতিকূল হওয়ায় ব্লাস্ট রোগ দেখা দিয়েছে। আমরা এখন পর্যন্ত এক হেক্টর ক্ষেতে ব্লাস্টের আক্রমণ নিরূপণ করেছি। তবে এ রোগ প্রতিরোধে কৃষকদের নানা পরামর্শ দিয়ে প্রচারপত্র বিতরণ করা হচ্ছে।
রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক ওবায়দুর রহমান মন্ডল বলেন, জেলায় চলতি মৌসুমে এক লাখ ৩০ হাজার ৯০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষ হয়েছে। এর মধ্যে বিভিন্ন এলাকায় বিচ্ছিন্নভাবে কিছু জমিতে ব্লাস্টের আক্রমণ হয়েছে। আমরা এখন পর্যন্ত মাত্র সাত দশমিক ২৫ হেক্টর জমিতে আক্রমণের পরিমান নিরূপণ করেছি।

 

এ জাতীয় আরও খবর

ডেঙ্গু রোধে জনসচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান ডা. রফিকুল ইসলামের

হাইতিতে জাতিসংঘ মিশনে যাচ্ছে সেনাবাহিনীর ৫০ সদস্যের দল

ক্যাম্পাসে গণতন্ত্র দমনের অভিযোগ বিএনপি-ছাত্রদলের বিরুদ্ধে: ডাকসু জিএস

মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগ শুরু, অনুমোদিত এজেন্সির মাধ্যমে যাওয়ার সুযোগ

ডেঙ্গুতে এক দিনে আরও ১০ জনের মৃত্যু

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কমিটি গঠন স্থগিত

যুব উন্নয়নের নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস, গ্রেপ্তার ৫

ক্রিকেটারদের ৮ লাগেজ চুরি, আটক ৪

সাজেকে অবরোধ স্থগিত, পর্যটকদের জন্য খুলল সব কেন্দ্র

শিল্পে গ্যাস সংযোগের অগ্রাধিকার ঠিক করতে কমিটি গঠন

স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে কেনাকাটা ও দরপত্র বন্ধের নির্দেশ

গাজীপুরে পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা, আহত ২ সদস্য