,

মাথার চুলে শতাধিক নারীর ভাগ্যবদল

news-image

অনলাইন ডেস্ক : নারীরা সাধারণত মাথা আঁচড়ানোর সময় উঠে আসা বা ছিঁড়া চুল কেউ ফেলে দেন বা কেউ কেউ জমিয়ে রাখেন। আর সেই চুল কিনে থাকেন ফেরিওয়ালারা।

ফেরিওয়ালারা বাচ্চাদের বিভিন্ন খেলনা, বেলুন, বুট-বাদাম, খাবার আঁচার ও প্রসাধনী বা প্লাস্টিক সামগ্রীর বিনিময়ে নারীদের পরিত্যক্ত চুল সংগ্রহ করে চুলের কারখানায় চার হাজার থেকে পাঁচ হাজার টাকা কেজি দরে বিক্রি করেন।

পরিত্যক্ত চুলের কারখানায় চুলগুলো বিশেষ প্রক্রিয়াজাত করে দেশ-বিদেশে রপ্তানি করা হয়। ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলাতেও গড়ে উঠেছে ছোট-বড় তিনটি চুলের কারখানা। সেসব কারখানায় চুলের প্রক্রিয়াজাত কাজ করায় এলাকার শতাধিক নারী, যুবক-যুবতীর ভাগ্য বদলে গেছে।

সরেজমিন খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আনোয়ার হোসেন এন্টারপ্রাইজ নামে উপজেলার আচারগাঁও ইউনিয়নের গারুয়া, হাওলাপাড়া ও নান্দাইল ইউনিয়নের ঝালুয়া গ্রামে পরিত্যক্ত চুলের তিনটি কারখানায় বিধবা, স্বামী পরিত্যক্তাসহ বেকার নারী, যুবক-যুবতীরা চুলের প্রক্রিয়াজাতকরণের কাজ করছেন।

দেখা গেছে, ফেরিওয়ালার কাছ থেকে ক্রয় করা চুলগুলো কারখানার কর্মীরা বাছাই করছেন। পরে সেগুলোকে বিশেষভাবে ওয়াশ করার পর কিছু শ্রমিক কাটা মেশিনে চুলের জট ছুটিয়ে চুলের কাছি তৈরি করছেন, আবার অনেক শ্রমিক সারিবদ্ধভাবে বসে চুলের ক্যাপ তৈরি করছেন।

এভাবেই প্রসেসিং শেষে কার্টন করা হয়। ইঞ্চিভেদে প্রক্রিয়াজাত করা এসব চুল ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়। প্রক্রিয়াজাত এ চুল যাচ্ছে চীন, জাপান, থাইল্যান্ড, মিয়ানমার, আমেরিকা, ভারতসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে।

কারখানার তদারকি কর্মকর্তা (পরিচালক) আনোয়ার হোসেন জানান, আমার এ কারখানাকে কেন্দ্র করে কর্মসংস্থান হয়েছে এলাকার অনেক নারী-পুরুষের। বেঁচে থাকার অবলম্বন খুঁজে পেয়েছেন প্রতিবন্ধীসহ এলাকার তরুণ-তরুণীরা।

কারখানা শুরুতেই যোগদানকারী স্বর্ণা আক্তার, খাদিজা আক্তার, উর্মী ও সীমাসহ একাধিক নারী শ্রমিক জানান, উক্ত চুলের কারখানাই তাদের একমাত্র রোজগারের পথ।

এখানে কাজ করে তারা তাদের ভাগ্য পরিবর্তন করে পরিবারের সদস্যদের মুখে হাসি ফুটিয়েছেন। গ্রামে থেকেও মাসে ৮ থেকে ১০-১২ হাজার টাকা পর্যন্ত তুলে দিতে পারছি পরিবারের হাতে, এর চেয়ে আর সৌভাগ্য কী আছে?

সুপারভাইজার পদে থাকা স্বর্ণা আক্তার জানান, তার পঙ্গু বাবা যখন সংসারের হাল ছেড়ে দিয়েছেন তখন উক্ত চুলের কারাখানায় কাজ করে আমি সংসারের হাল ধরেছি। ভালোই বেতন পাচ্ছি।

কারখানার ম্যানেজার এহসান জানান, মাত্র ৬ মাসে ৩টি কারখানায় কর্মরত কারিগরসহ প্রায় দুই শতাধিক কর্মী রয়েছেন। দক্ষতা অনুযায়ী ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত মাসিক বেতন পেয়ে থাকেন কর্মীরা। এসব চুল প্রক্রিয়াজাত করে ঢাকায় পাঠানো হয়।

পরে সেখান থেকে বিভিন্ন জায়গায় রপ্তানি করা হয়। আর বৈধপথে সরকারি অনুমোদন নিয়েই স্বাস্থ্যবিধি মেনে শ্রমিকদের নিয়ে কাজ করছি। শ্রমিকরাও এখানে কাজ করে নিয়মিত বেতন পেয়ে খুশি।

পরিত্যক্ত চুল প্রক্রিয়াজাত করার ফলে একদিকে যেমন পরিবেশ দূষণ হচ্ছে না, অন্যদিকে আর্থিক লাভবান হচ্ছেন এলাকার বেকার তরুণ-যুবক ও উদ্যোক্তারা। সরকারি সুযোগ-সুবিধা পেলে আরও বেকার যুবক-যুবতীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ইনসান আলী বলেন, চুলের মতো পরিত্যক্ত জিনিসকে নিয়ে কিছু মানুষ অর্থ উপার্জন করে স্বাবলম্বী হওয়ার যে পথ বেঁচে নিয়েছেন, তা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার।

সূত্র : যুগান্তর

এ জাতীয় আরও খবর

ডেঙ্গু রোধে জনসচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান ডা. রফিকুল ইসলামের

হাইতিতে জাতিসংঘ মিশনে যাচ্ছে সেনাবাহিনীর ৫০ সদস্যের দল

ক্যাম্পাসে গণতন্ত্র দমনের অভিযোগ বিএনপি-ছাত্রদলের বিরুদ্ধে: ডাকসু জিএস

মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগ শুরু, অনুমোদিত এজেন্সির মাধ্যমে যাওয়ার সুযোগ

ডেঙ্গুতে এক দিনে আরও ১০ জনের মৃত্যু

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কমিটি গঠন স্থগিত

যুব উন্নয়নের নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস, গ্রেপ্তার ৫

ক্রিকেটারদের ৮ লাগেজ চুরি, আটক ৪

সাজেকে অবরোধ স্থগিত, পর্যটকদের জন্য খুলল সব কেন্দ্র

শিল্পে গ্যাস সংযোগের অগ্রাধিকার ঠিক করতে কমিটি গঠন

স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে কেনাকাটা ও দরপত্র বন্ধের নির্দেশ

গাজীপুরে পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা, আহত ২ সদস্য