,

করোনার জিন নকশা উন্মোচনে বাংলাদেশ ‘যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে এগিয়ে’

news-image

নিউজ ডেস্ক : নভেল করোনাভাইরাসের নমুনা সংগ্রহ করে তার জিন নকশা উন্মোচন বা জেনেটিক সিকোয়েন্স করতে বাংলাদেশের চেয়েও বেশি সময় নষ্ট করছে যুক্তরাষ্ট্র। আন্তর্জাতিক ডেটাবেইজ তালিকায় দেশটি ৬১তম অবস্থানে রয়েছে।

গ্লোবাল জিনোম ডেটাবেইজে (জিআইএসএআইডি) এর তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে ৬১তম স্থানের উপরে বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কার মতো দেশ রয়েছে। গবেষণাকাজে তুলনামূলক পিছিয়ে থাকা দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশ দুটিতে যেখানে ৮০ দিনের কম সময়ের মধ্যে নতুন ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হচ্ছে, সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানীরা সময় নিচ্ছেন ৮৫ দিনের মতো।

বেলর কলেজ অব মেডিসিনের অধ্যাপক ড. পিটার হোটেজ একটি সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের এই ঘটনাকে বেদনাদায়ক বলে মন্তব্য করেছেন।

একজন রোগীর নাক থেকে নমুনা সংগ্রহ করে জেনেটিক সিকোয়েন্স করে তার তথ্য-উপাত্ত জিআইএসএআইডি-তে পোস্ট করে থাকেন বিজ্ঞানীরা। জমা দেয়ার আগ পর্যন্ত মধ্যবর্তী সময় বিবেচনা করে হিসাবটি করা হয়।

হোটেজ বলছেন, ‘৮৫ দিন অপেক্ষা করলে নতুন ভ্যারিয়েন্ট একটা জনগোষ্ঠীর অর্ধেক মানুষকে পর্যন্ত আক্রান্ত করে থাকতে পারে। যত দ্রুত জিন নকশা উন্মোচন হবে, তত দ্রুত একে মোকাবিলার পথ জানা যাবে।’

জিনোম হলো প্রাণী বা উদ্ভিদের জেনেটিক বৈশিষ্ট্যের বিন্যাস বা নকশা। কোনো প্রাণী বা উদ্ভিদের জিনোমে নিউক্লিওটাইডগুলো কীভাবে বিন্যস্ত আছে তা লিপিবদ্ধ করাকে বলে জিনোম সিকোয়েন্স বা জিন নকশা । এই নকশার ওপরই নির্ভর করে ওই প্রাণী বা উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য।

সাধারণত ভাইরাসের সিকোয়েন্সিং কিছুটা দুঃসাধ্য। সেখানে নভেল করোনাভাইরাসের মতো একটি সংক্রমণশীল ভাইরাসের সিকোয়েন্সিং আরও কঠিন।

নতুন মিউটেশন শনাক্ত করতে কোনো ভাইরাসের জিন নকশা উন্মোচন খুব গুরুত্বপূর্ণ। কীভাবে ভাইরাসটি ছড়ায়, শরীরকে আক্রমণ করে, কতটা ক্ষতি করে, কীভাবে ওষুধ তৈরি করা যাবে-এসব বিষয় বুঝতে নকশা উন্মোচনের বিকল্প নেই।

জিআইএসএআইডি-এর সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, পৃথিবীতে সবচেয়ে দ্রুত জেনেটিক সিকোয়েন্স জমা দেয়া দেশ যুক্তরাজ্য। ব্রিটিশ বিজ্ঞানীরা মাত্র ২৪ দিনের মধ্যে জমা দিচ্ছেন।

যুক্তরাষ্ট্র এত সময় নেয়ায় সিডিসি’র সাবেক কর্মকর্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। আগের পরিচালক ড. ন্যান্সি কক্স বলছেন, ‘বেশ কিছু দেশ যেখানে দারুণ সফলতা দেখাচ্ছে, আমরা সেখানে অনেক সময় নিচ্ছি। এটি ব্যর্থতা ছাড়া আর কিছু নয়।’