,

রংপুরে অনুমোদনহীন কিন্ডার গার্টেনে বেহাল শিক্ষা ব্যবস্থা : দিশেহারা অভিভাবকরা

news-image

রংপুর ব্যুরো : রংপুর সিটি কর্পোরেশনসহ জেলার আট উপজেলায় গড়ে ওঠেছে প্রায় ৫শতাধিক শতাধিক অনুমোদনহীন কিন্ডার গার্টেন। এসব প্রতিষ্ঠান কোনো নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে প্লে-গ্রুপ থেকে পঞ্চম শ্রেণি ও তদূর্ধ্ব শ্রেণির শিক্ষার্থীদের থেকে উচ্চহারে বেতন নির্ধারণ করে তা দিতে বাধ্য করা হয় অভিভাবকদের। একেকটি স্কুলে একেক রকম বেতন আদায় করা হয়। সংশ্লিষ্ট সিটি কর্পোরেশন ও ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ট্রেড লাইসেন্স নেয় না তারা। ফলে রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে সরকার। দিনে রাতে হঠাৎ গড়ে উঠা এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের শিক্ষা মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠেছে।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, রংপুর সিটি কর্পোরেশনের ধাপ, কামাল কাছনা, শালবন, গণেশপুর, টার্মিনাল, সাতমাথা, মাহিগঞ্জ, তামপাট, মর্ডাণ ও রংপুর সদর উপজেলার পাগলাপীরে কিন্ডারগার্টেন স্কুলের সংখ্যা সবচেয়ে বেশী। সদর উপজেলার হরিদেবপুর, শিবের বাজার ও পাগলাপীর, সেন্টারের হাট, মমিনপুর হাট, খলেয়া, ধনতোলা, ক্লাব, চন্দনপাট, লাহিড়িরহাট পালিচড়া, সদ্যপুস্করনীতে প্রায় ২শতাধিক কিন্ডারগার্টেন স্কুল রয়েছে। এছাড়াও জেলার আট উপজেলায় বিভিন্ন নামে আরও ৩শতাধিক কিন্ডারগার্টেন স্কুল প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

প্রতিটি স্কুলে প্লে গ্রুপ থেকে দশম শ্রেণি পর্যর্ন্ত প্রতিজন ছাত্র- ছাত্রী থেকে ভর্তি ফি নেয়া হয় হাজার টাকার ওপর। বেতন নেয়া হয় ৫৫০ টাকা। সেশন ফি ১ হাজার টাকা। মাসিক পরীক্ষার ফি ২০০ টাকা। এ ছাড়া রয়েছে কোচিং ফিসহ নানা ধরনের ফি। এভাবে আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান আরও বেশি হারে এসব ফি নিয়ে থাকে।

সেলিম মিয়া নামের এক অভিভাবক জানান, একটি কেজি স্কুলে তার ছেলে পড়ে। প্রথম শ্রেণির একজন শিক্ষার্থীর সেশন ফি ধরা হয়েছে ১ হাজার ৮০০ টাকা। তিনি এর প্রতিবাদ করলে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক তাকে জানান, সবাই দিচ্ছে, আপনাকেও দিতে হবে। এটির কোনো নিয়ম ও নীতিমালা আছে কি-না জানতে চাইলে তিনি তাকে পরে জানাবেন বলে কেটে পড়েন। সেলিম জানান, তিনি এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসন ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ করবেন।

রোকেয়া বেগম নামের একজন অভিভাবক জানান, কিন্ডার গার্টেন স্কুল গুলোর শিক্ষকরা এখনো ছাত্র। ছাত্র পাঠদান করে কীভাবে গুণী-মেধাবী শিক্ষার্থী বের করবে? ফলে বেহাল শিক্ষা ব্যবস্থা দেখতে হচ্ছে।

এদিকে রংপুর সদরসহ জেলার আট উপজেলায় গড়ে ওঠা কিন্ডারগার্টেন শিক্ষা বাণিজ্যে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে মাদরাসা কেন্দ্রিক বেশ কিছু কিন্ডারগার্টেন মাদরাসা চালু হয়েছে।

এ ব্যাপারে রংপুর সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আকতারুজ্জামান জানান, তাদের কাছ থেকে সদর ও সিটি এলাকা থেকে ২৮১টি কিন্ডারগার্টেন সরকারি বই নিয়েছে। এই বই তারা কীভাবে নেয় জানতে চাইলে তিনি জানান, সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী কোনো শিক্ষার্থী বই থেকে যাতে বঞ্চিত না হয় সে আলোকে তারা বই পেয়ে থাকে। ২০১৯ সালে আরও কয়েকটি নতুন প্রতিষ্ঠান বই নিতে এলে তারা বই দেননি বলে জানান।

অনুমোদনহীন এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো সরকারি বই নিয়ে নানাভাবে এগুলো অপচয় করে। তাদের কোনো নীতিমালা ও সরকারি নিবন্ধন নেই।

রংপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত সাদিয়া সুমি জানান, অনুমোদনহীন এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ওপর থেকে নির্দেশ দিলে অচিরেই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ জাতীয় আরও খবর

বিতর্কের জেরে সরানো হলো মেহজাবীন-পরীমণির ভুয়া ভিডিও

দিল্লিতে বিক্ষোভ ঘিরে ২৫ হাজার পুলিশ মোতায়েনের প্রস্তুতি

দুর্গাপূজা বাঙালির অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রতীক: জি এম কাদের

সেরা তরুণদের জাতিসংঘে পাঠাতে সহযোগিতা করবে সরকার

ভারত থেকে দেশে পৌঁছাল উন্নত প্রযুক্তির ১৮ রেলকোচ

রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় রিমান্ড শেষে কারাগারে দুই অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা

দুই মাস পর বড়পুকুরিয়া খনিতে আবারও কয়লা উত্তোলন শুরু

‘নুর হাসিনার পুত্র হলে, আসিফ-নাহিদরা নাতি’: আবু হানিফ

ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ডে দারিদ্র্য হ্রাসের আশা বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের

ইংল্যান্ড নারী কাবাডি দলের অধিনায়ক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আনিসা

নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়ম, পরীক্ষার্থীর এক মাসের কারাদণ্ড

শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে: আইজিপি