,

এখন ৫০ টাকার দিনমজুর মেডিকেল শিক্ষার্থী!

news-image

নিউজ ডেস্ক : রাজকুমার শীল। নামের সঙ্গেই রাজা রাজা ভাব। চেহারায় রয়েছে সেই ছাপ। মেধার খেলায় চমক দেখিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজে ভর্তি হতে পাড়ি দিয়েছিলেন বেশ কয়েকটি কঠিন ধাপ। অবশেষে রাজার মতো যাত্রা থেমে গেল তার। রাজুকুমার এখন ৫০ টাকার দিনমজুর।

রাজকুমার দিনাজপুরের বিরামপুরের বাসিন্দা। ঢাকা বোর্ড থেকে বিজ্ঞান বিভাগে সম্মিলিত মেধা তালিকায় উচ্চ স্থান পেয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজে ভর্তি হয়েছিলেন। তবে স্বাস্থ্য বিড়ম্বনায় জীবনের করুণ পরিণতিতে পড়ে যান তিনি। সেই বিড়ম্বনা এড়াতে পারলে হয়ত তিনি হতে পারতেন মানবসেবার অন্যতম সেরা পেশার একজন মানুষ। তার অবিশ্বাস্য মেধার অর্জন ও করুণ পরিণতির কথা ‘আমাদের বন্ধু রাজকুমার শীল’ নামের একটি লেখায় তুলে ধরেন ডা. বেলায়েত হোসেন ঢালী।

তিনি জানান, বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহিঃবিভাগে কয়েকজন মেডিকেল অফিসার ডিউটি রুমে ছিলেন। রোগী আসা প্রায় শেষের দিকে। এমন সময় প্রায় ৭০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধা আসলেন। সঙ্গে ছিলেন ৫২ আর ৪৮ বছরের দুই ছেলে। সমস্যার কথা জানতে চাইলে বৃদ্ধার হাতে থাকা কাগজগুলো এগিয়ে দেন।

ওই বৃদ্ধা বলেন, ছেলেদের জন্য প্রতিবন্ধী ভাতার জন্য দরখাস্ত করবেন। অনেক কাগজের সঙ্গে পাবনা মানসিক হাসপাতালের দুটি ছাড়পত্র পেলেন চিকিৎসকরা। প্রথমে কে রোগী বুঝতেই পারেননি তারা। পরে বৃদ্ধা দুই ছেলের জন্যই দরখাস্ত করবেন বলে জানান। দুইজনেরই একই রোগ। পরে একজনের জাতীয় পরিচয়পত্রের স্বাক্ষর দেখে কিছুটা আশ্চর্য হলেন ডা, বেলায়েত। পরিচয়পত্রে নাম লেখা ছিল রাজকুমার শীল। হাতের লেখার সঙ্গে চেহারার মিল পাচ্ছিলেন না তিনি। সুন্দর লেখা দেখে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘আপনি কতদূর পর্যন্ত পড়াশুনা করেছেন’।

রাজকুমার শীল ডা. বেলায়েতকে জানান, তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজের ছাত্র ছিলেন। তখন ডা. বেলায়েত নিজের কানকে বিশ্বাস করাতে পারছিলেন না। একে একে সব ঘটনা বললেন। রাজকুমার কে-৪০ ব্যাচের ছাত্র ছিলেন। ঢাকা কলেজ পাস করে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি হয়েছিলেন। দ্বিতীয় প্রফেশনাল পরীক্ষায় ফার্মাকোলজিতে অকৃতকার্য হলেও কয়েকবার পরীক্ষা দেন। তারপর মানসিক অসুস্থতার (সিজোফ্রেনিয়া) জন্য বাড়ি ছাড়া ছিলেন ১৪ থেকে ১৫ বছর। ওই সময় একটি কারখানায় কাজ করতেন। পাবনার হাসপাতালেও ভর্তি ছিলেন এক বছর।

রাজকুমার শীলের মা পার্বতী রাণী শীল জানান, প্রাথমিক ও জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় বৃত্তি অর্জন করেছিল রাজকুমার। তার বাবা নরসুন্দর হলেও চার ছেলে মধ্যে তিন ছেলেকে নিজের পেশায় আনেননি। এখন রাজকুমার ওষুধ খাওয়ায় মেডিকেলের পড়াশোনার কথা মনে করতে পারে।

ডা. বেলায়েত আরো জানান, অনুমতি নিয়ে রাজকুমার শীলের একটি ছবি তুললেন। কে-৪০ ব্যাচের এক শিক্ষকের ছবি দেখিয়ে বললেন চিনতে পারেন কিনা? রাজকুমার মাথা দোলালেন।

এদিকে রাজকুমারের ভাইয়ের একই রোগ। তিনি রাজধানীর তিতুমীর কলেজ থেকে এইচএসসি পাসের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। তবে অসুস্থতার কারণে স্নাতক সম্পন্ন হয়নি তার। রাজকুমার এখন একটি ভূষি কারখানায় কাজ করে ৫০ টাকা মজুরি পান।

এ জাতীয় আরও খবর

হৃতিক-সাবাকে শুভেচ্ছা জানালেন সুজান

ইরানকে ‘উড়িয়ে দেওয়ার’ হুমকি ট্রাম্পের

স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিলেন এমপি মিষ্টি

সেন্ট মার্টিনে রাত্রিযাপনের সুযোগ বাড়ছে, আসছে নতুন গাইডলাইন

তীব্র তাপপ্রবাহে গলছে সুইজারল্যান্ডের হিমবাহ, প্রাকৃতিক দুর্যোগের শঙ্কা

শিক্ষা ও ক্রীড়ার উন্নয়নে নবীনগরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানদের সঙ্গে এমপি আব্দুল মান্নানের মতবিনিময়

পে স্কেল বাস্তবায়নে নতুন নির্দেশনা

মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে বিষাক্ত ইনজেকশন পুশ, তা সত্ত্বেও বেঁচে আছেন নারী

হুথিরা অরাজকতা বেছে নিয়েছে, নিরাপত্তায় ছাড় দেবে না সৌদি

মিরপুরে উচ্ছেদে ভাঙচুর-আগুন: ৪ মামলায় আসামি ১০০০

ন্যাটো-রাশিয়া উত্তেজনা, পরমাণু হামলার হুঁশিয়ারি মস্কোর

আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বিমান হামলা, নারী-শিশুসহ নিহত ৯