শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১০ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এ যেন আরেক নয়ন বন্ড!

news-image

নিউজ ডেস্ক।। উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের থলপাড়া গ্রামের হতদরিদ্র পরিবারের অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়েকে সেই প্রাইমারি স্কুলে পড়াকালীন থেকেই রাস্তাঘাটে উত্ত্যক্ত করতো একই গ্রামের মোশারফ হোসেনের ছেলে সজিব মিয়া (২৫) নামের এক বখাটে। দিনকে দিন সে উত্ত্যক্তের মাত্রা বাড়তেই থাকে। মাত্রা এতটা চরমে পৌঁছায় যে গত শনিবার মেয়েটি স্কুলে যাওয়ার পথে গতিরোধ করে জোরপূর্বক তাকে মোটরসাইকেলে উঠানোর চেষ্টা করে।

মেয়েটি কোনোমতে নিজেকে রক্ষা করে দৌড়ে বাড়ি যায়। তারপর বাড়ির সবাইকে ঘটনা বললে তারা স্থানীয় মাতব্বর মারফত বিষয়টি বখাটে সজিবের ভগ্নিপতিকে জানায়। এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে যায় সজিব। এরপরই মেয়েটির বাড়ি গিয়ে সবাইকে গালিগালাজ ও একপর্যায়ে বাড়ির সবাইকে বেধড়ক পেটায় ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে মেয়ের দাদাকে আঘাত করে আহত করে। এ ঘটনার পরপরই মেয়েটির পরিবার থানায় অভিযোগ দিলে শনিবার দিনগত রাতে সজিবকে আটক করে পুলিশ।

কিন্তু সজিব গ্রেপ্তার হলেও আতঙ্ক কাটেনি মেয়েটির পরিবারের। মেয়েটির মা ভয়ার্ত কণ্ঠে এই প্রতিবেদককে বলেন, ঘটনার পর থেকেই আমরা বাড়ি ছাড়া। বখাটে সজিবের হামলার পর কোনোমতে নদী পার হয়ে বেঁচে ফিরেছি। আমরা হিন্দু মানুষ। ওর (মেয়ে) বাবা বিদেশে থাকে। ভবিষ্যতে কি হইবো জানি না। আমরা এলাকায় থাকতে পারবোতো?

এদিকে ওই এলাকার স্থানীয়দের বরাত ও থানা পুলিশের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সজিব ছোট বেলা থেকেই বখাটে স্বভাবের। ইতিপূর্বে সে একই গ্রামের আরেকটি মেয়ের বাড়িতে হামলা চালিয়েছিল। এ ছাড়াও বিভিন্ন সময় নানা কারণে মারামারির রেকর্ড রয়েছে সজিবের।
মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা একেএম মিজানুল হক জানান, উত্ত্যক্তকারী সজিবকে আটকের পর রোববার তার বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। উৎস: মানবজমিন।