শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১০ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাতের আঁধারে মুষলধারে বৃষ্টির মধ্যেই চলছে সড়কের ঢালাই কাজ!

news-image

একদিকে মুষলধারে বৃষ্টি অন্যদিকে রাত। তারপরও থেমে নেই সড়কের নির্মাণ কাজ। সড়ক বিভাগের কর্মকর্তা না থাকলেও শ্রমিকরা রাতের আঁধারে বৃষ্টিতেই চালিয়ে যাচ্ছেন শ্যামগঞ্জ বিরিশিরি মহাসড়কের নির্মাণ কাজ। একাজের একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ায় স্থানীয়দের মাধ্যমে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

নেত্রকোণা সড়ক বিভাগ জানায়, গুরুত্বপূর্ণ শ্যামগঞ্জ-বিরিশিরি সড়কের সাড়ে ৩৬ কিলোমিটার নির্মাণের জন্য সরকার বরাদ্দ দিয়েছে তিনশো ষোলো কোটি টাকা। প্রতি কিলোমিটারে প্রায় সাড়ে আট কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। এদিকে দুর্গাপুরে দায়সারা ভাবে রাস্তার কাজ করায় জনমনে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। এ অঞ্চলের মানুষের প্রাণের দাবি ছিলো দুর্গাপুর থেকে শ্যামগঞ্জ পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার করা। এই দাবির প্রেক্ষিতেই টেকসই রাস্তা তৈরির লক্ষ্যে তিনশত ষোল কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে এই রাস্তা।

জানা যায়, শুক্রবার রাতে প্রচন্ড বৃষ্টির সময় দুর্গাপুর নাজিরপুর মোড়ে পিছ ঢালাই এর কাজ চলতে থাকায় জনমনে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। বৃষ্টি চলাকালীন সময়ে রাস্তায় কাজ চলছে এমন একটি ভিডিও ফেইসবুকে আপলোড হলে এলাকার মানুষের মাঝে এটি ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করেন। রাস্তার কাজ শুরু হওয়ার সময় থেকেই নানা অনিয়মের জন্য এলাকার মানুষ প্রতিবাদ করে আসলেও কোন কাজ হচ্ছে না। দায়সারা ভাবেই এগিয়ে চলছে দুর্গাপুর শ্যামগঞ্জ আঞ্চলিক মহা সড়কের উন্নয়ন কাজ।

নেত্রকোণার দুর্গাপুর উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক তোবারক হোসেন খোকন জানান, তিনশো ষোলো কোটি টাকার কাজের শুরু থেকেই কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। বারবার এনিয়ে প্রশ্ন তুললেও টিকাদার কিংবা সড়ক বিভাগের টনক নড়েনি। গত শুক্রবার রাতের আঁধারে মুষলধারে বৃষ্টির মধ্যেই চলছিল রাস্তার ঢালাই কাজ। স্থানীয়রা প্রতিবাদ করলেও শ্রমিকরা কাজ বন্ধ করেনি। কাজটির তদন্ত হওয়া দরকার।

নেত্রকোণা সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী দিদারুল আলম তরফদার জানান, এই সড়কের কাজ শেষ হয়ে গেছে। সড়কটির নাজিরপুর মোড়ে একটু জায়গা বাকি ছিল। এই কাজটি শুক্রবার রাতে ঢালাই দেওয়ার সময় বৃষ্টি শুরু হলে কাজ বন্ধ করে দেয়া হয়। এই স্থানটি পুনরায় করে দেয়ার কথা বলা হয়েছে টিকাদারকে।