,

ক্যালসিয়ামের চাহিদা পূরণ ও মৌসুমী ভাইরাসের আক্রমণ থেকে রক্ষা করে আমড়া

news-image

স্বাস্থ্য ডেস্ক।। দেশজ ফল আমড়া। হলকা টক-মিষ্টি স্বাদ যুক্ত মুখ রোচক এই ফলটি কমবেশি ছোট-বড় সকলেই পছন্দ করে। সারা দেশের স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে রাস্তাঘাট-বাজার সর্বত্র পাওয়া যায়। সুস্বাদু এ ফলটি দেখতে ছোট হলেও এর রয়েছে অনেক ঔষধি গুণ। মূলত বছরের জুলাই-আগস্ট মাস হলো এই ফলের প্রকৃত মৌসুম।

আমড়াতে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা মানবদেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে। এছাড়া ক্যালসিয়ামের চাহিদা পূরণ ও মৌসুমী ভাইরাসের আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতেও দারুন ভূমিকা রাখে। এ ফলে ক্ষতির কিছু নেই, মানুষের শরীরের জন্য যথেষ্ট উপকারী একটি ফলই হলো আমড়া।

আমড়ার ইংরেজি নাম Hog Plum। এই ফলটি ধরে এক প্রকার মাঝারি আকারের পর্ণমোচী বৃক্ষে। এর বৈজ্ঞানিক নাম Spondias pinnaata Kurz বা Spondias mombin, পরিবার- Anacardiaceae। বাংলাদেশ ছাড়াও আফ্রিকা, ভারত, শ্রীলংকা এবং ইন্দোনেশিয়ায় এই গাছটি জন্মে। আমড়া গাছ গুলো ২০-৩০ ফুট উঁচু হয়, প্রতিটি যৌগিক পাতায় ৮-৯ জোড়া পত্রক থাকে, পত্রদন্ড ৮-১২ ইঞ্চি লম্বা এবং পত্রক গুলো ২-৪ ইঞ্চি পর্যন্ত লম্বা হয়। কাঁচা ফল টক বা টক মিষ্টি হয়। কিন্তু পাঁকার পর টকভাব কমে আসে এবং মিষ্টি হয়। গাছ লাগনোর ৫-৭ বছরের মধ্যেই ফল দিতে শুরু করে। আমড়া কাঁচা ও পাকা অবস্থায় রান্না বা আচার বানিয়েও খাওয়া যায়।

মৌসুমী এই ফলের প্রায় ৯০ ভাগই পানি, ৪-৫ ভাগ কার্বোহাইড্রেট ও সামান্য প্রোটিন রয়েছে। এছাড়াও ভিটামিন-সি, ক্যারোটিন, সামান্য ভিটামিন-বি, ক্যালসিয়াম, আয়রন আছে। আমড়াতে যথেষ্ট পরিমাণ পেকটিনজাতীয় ফাইবার এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্টজাতীয় উপাদান থাকে। প্রতি ১০০ গ্রাম আমড়ায় শর্করা ১৫ গ্রাম, আমিষ ১.১ গ্রাম, চর্বি ০.১ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ৫৫ মিলিগ্রাম, আয়রন ৩.৯ মিলিগ্রাম, ক্যারোটিন ৮০০ মাইক্রোগ্রাম, ভিটামিন বি ১০.২৮ মিলিগ্রাম, ভিটামিন সি ৯২ মিলিগ্রাম, অন্যান্য খনিজ পদার্থ ০.৬ মিলিগ্রাম, খাদ্যশক্তি ৬৬ কিলোক্যালরি।

দেশিয় এই ফলটি নিয়ে চিকিৎসকরা বলছেন, মৌসুমী ফলমূল গুলোতে সেই সময়ের রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে। বর্ষা সংক্রান্ত যাবতীয় রোগের যেমন উপকার করে তেমনি আমড়া মানুষের শরীরকে বিভিন্ন রোগ থেকে সুরক্ষাও দেয়। আমড়া যে সব রোগের ক্ষেত্রে মহাঔষধ হিসেবে কাজ করে:

১. ক্যালসিয়ামের অভাবে হাড়ের রোগ, মাংস পেশীর খিঁচুনিসহ অনেক রোগ হতে পারে। তাই প্রতিদিনের ক্যালসিয়ামের চাহিদা পূরণে আমড়া খাওয়া যেতে পারে। ২. ত্বকের ব্রণ কমাতে এবং ত্বক সুস্থ ও উজ্জ্বল রাখতে আমড়া দারুণ উপকারী। আমড়ায় প্রচুর ভিটামিন-সি রয়েছে, যা ত্বক উজ্জ্বল রাখতে সাহায্য করে। ৩. আমড়ায় প্রচুর পরিমাণে আয়রন রয়েছে, যা রক্তস্বল্পতা রোধে কার্যকরী। আয়রন রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রাও ঠিক রাখে।

৪. আমড়ায় বিভিন্ন দ্রবণীয় ফাইবার রয়েছে, যা পাকস্থলীর কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখে। তাই বদহজম, পেট ফাঁপা ও কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো রোগ থেকে বাঁচতে নিয়মিত আমড়া খেতে পারেন। ৫. আমড়া বিভিন্ন ভাইরাসের আক্রমণ থেকে রক্ষা করে এবং সর্দি-কাশি ও ইনফ্লুয়েঞ্জা রোগের জীবাণুর বিরুদ্ধে কাজ করে। তাই আমড়ার সিজনে প্রতিদিন এই ফল খেলে আপনি নানা সংক্রমণ থেকে সহজেই রক্ষা পেতে পারেন।

৬. আমড়ায় অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে, যা ক্যান্সারসহ অন্যান্য রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে। ফলে সহজেই সুস্থ থাকা সম্ভব হয়। ৭. অসুস্থ ব্যক্তিদের মুখের স্বাদ ফিরিয়ে আনতে আমড়ার দারুণ কার্যকর। আমড়া খেলে মুখের অরুচিভাব দূর হয় ও ক্ষুধা বৃদ্ধি পায়। তাই রুচি বাড়াতে নিয়মিত ফলটি খাওয়া যেতে পারে। ৮. আমড়া রক্তের ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়। তাই আমড়া খেলে স্ট্রোক ও হৃদরোগের ঝুঁকি কমে। এতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি রয়েছে যা দাঁত ও মাড়ির বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ করে।

এ জাতীয় আরও খবর

নবীনগরে প্রতিরোধমূলক ওরাল কলেরা টিকা কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন

কচু খেয়ে গলা চুলকালে তেঁতুল ছাড়াই মিলবে সমাধান

নায়করাজের শূন্যতা আজও সমান অনুভব করি: শাকিব খান

নতুন রাষ্ট্রপতিকে শুভকামনা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বার্তা

জাতীয় স্মৃতিসৌধে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা

আস্থার ঘাটতিতে অনিশ্চিত প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর

আরেক দফা বাড়ল স্বর্ণের দাম, ভরি কত?

সাজুর মরদেহ বাড়ি ফিরেছে, রেবতি সরকার দাহ হয়েছেন ভারতে

কলেরার টিকা শুরু, পাবেন না অন্তঃসত্ত্বারা

রাভেন্নায় ফিরছেন রোনালদিনহো

খাগড়াছড়িতে ভারী বৃষ্টিতে সাজেকের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ

শরিফুলের ৬ উইকেটে ঘুরে দাঁড়াল বাংলাদেশ