,

দুই বন্ধুকে হত্যার রোমহর্ষক জবানবন্দি

news-image

দিনাজপুর বীরগঞ্জের জোড়া খুনের প্রধান আসামি তরিকুল ইসলাম (২৭) গ্রেফতারের পর দুই বন্ধুকে হত্যা করার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে। দিনাজপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট মনিরুজ্জামান এই জবানবন্দি গ্রহণ করেন। শনিবার (১৫ জুন) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে দিনাজপুর পুলিশ সুপার সৈয়দ আবু সায়েম সংবাদ সম্মেলন করে জোড়া খুনের একমাত্র আসামীকে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জোড়া খুনের একমাত্র আসামি তরিকুল ইসলাম দিনাজপুর জেলার বীরগঞ্জ উপজেলার শতগ্রাম ইউনিয়নের পালপাড়া গ্রামের গিয়াস উদ্দীনের ছেলে।

বীরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ শাকিলা পারভীন জানান, গত ১৩ই জুন বৃহস্পতিবার জোড়া খুনের একমাত্র আসামি তরিকুল ইসলামকে বীরগঞ্জের শালবাগান এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর তরিকুল ইসলামের দেয়া তথ্য অনুয়ায়ী হত্যাকা-ে ব্যবহৃত চাকুটি ঘোড়াঘাট উপজেলার এক ভুট্টা ক্ষেত থেকে উদ্ধার করা হয়।

দিনাজপুর পুলিশ সুপার সৈয়দ আবু সায়েম জানান,হত্যাকারী তরিকুল ইসলাম ও নিহত হানিফুর রহমান এবং নিহত বিল্পব চন্দ্র রায় তিন বন্ধু ছিলেন। তারা তিন জনই মাদক বিক্রেতা ও সেবনকারী ছিলেন।

নিহত হানিফুর রহমান আসামি তারিকুল ইসলামের কাছ থেকে বিভিন্ন সময় ১৮ হাজার টাকা ধার নেন। সেই টাকা ফেরত দিতে টালবাহানা শুরু করেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। ঘটনার আগের দিন নিহত হানিফুর রহমান ও বিল্পব চন্দ্র রায় মোটরসাইকেল যোগে বীরগঞ্জের ঝাড়বাড়ী বাজারে আসামি তরিকুলের সঙ্গে দেখা করতে যান।

দেখা করে আলাপ আলোচনার এক পর্যায়ে তিন বন্ধু একই মোটরসাইকেলযোগে নীলফামারী জেলার দেবীগঞ্জ বাজারে যান। সেখানে দুই বন্ধুর অজান্তে তরিকুল ইসলাম দেবীগঞ্জ বাজারের কামারের দোকান থেকে একটি ধাড়ালো চাকু ক্রয় করে নিজের কোমড়ে লুকিয়ে রাখে।

সেখান থেকে আবার তিন বন্ধু মিলে একই মোটরসাইকেলযোগে দিনাজপুর হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিদ্যালয়ে আসে। সেখান থেকে ইয়াবা ট্যাবলেট ও ২টি ফেন্সিডিল বোতল ক্রয় করে তারা। সেই ফেন্সিডিল তিন বন্ধু মিলে সেবন করার পর আবার বীরগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।

বীরগঞ্জে পৌঁছানোর পর আবার তিন বন্ধু মিলে ইয়াবা সেবন করার জন্য সিদ্ধান্ত নেয়। এরপর তারা নিজ পাড়ার যদুর মোড়ের দিকে রওনা দেন। ঘটনাস্থলে পৌঁছার পূর্বেই চলন্ত মোটরসাইকেলের পিছনে বসা তরিকুল ইসলাম কোমড় থেকে ধারালো চাকু নিয়ে প্রথমে বিপ্লব চন্দ্রের গলায় কয়েকটা টান মারে এবং মোটর সাইকেল চালক হানিফুর রহমানকে মোটর সাইকেল শ্লো করার কথা বলেই হানিফুরের গলায় চাকু দিয়ে কয়েকটি টান মারে।

এতে মোটরসাইকেলসহ তিনজনই পড়ে যায়। বিপ্লব চন্দ্র রায় ও হানিফুর রহমান ঘটনা স্থলেই মারা যায়। পরে মোটরসাইকেল নিয়ে তরিকুল ইসলাম পালিয়ে যায়। গ্রেফতারের পর তরিকুল ইসলাম হত্যাকা-ের দায় স্বীকার করে সিআরপিসির ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তি জবানবন্দি প্রদান করেছে।

উল্লেখ্য , গত ৩০ মে ২০১৯ ইং তারিখে দিনাজপুর বীরগঞ্জের ৬ নং নিজপাড়া ইউনিয়নের দেবিপুর গ্রামের বালাপাড়ার যদুর মোড়ের যশো মোহাম্মদের বাড়ীর খড়ের গাঁদার নিকট থেকে হানিফুর রহমান (২৪) ও তার বন্ধু বিল্পব চন্দ্র রায় (২৩) গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ জাতীয় আরও খবর

নবীনগরে প্রতিরোধমূলক ওরাল কলেরা টিকা কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন

কচু খেয়ে গলা চুলকালে তেঁতুল ছাড়াই মিলবে সমাধান

নায়করাজের শূন্যতা আজও সমান অনুভব করি: শাকিব খান

নতুন রাষ্ট্রপতিকে শুভকামনা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বার্তা

জাতীয় স্মৃতিসৌধে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা

আস্থার ঘাটতিতে অনিশ্চিত প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর

আরেক দফা বাড়ল স্বর্ণের দাম, ভরি কত?

সাজুর মরদেহ বাড়ি ফিরেছে, রেবতি সরকার দাহ হয়েছেন ভারতে

কলেরার টিকা শুরু, পাবেন না অন্তঃসত্ত্বারা

রাভেন্নায় ফিরছেন রোনালদিনহো

খাগড়াছড়িতে ভারী বৃষ্টিতে সাজেকের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ

শরিফুলের ৬ উইকেটে ঘুরে দাঁড়াল বাংলাদেশ