শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১০ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অপরাধী বড় ভাই, জেলে নির্দোষ ‘ছোট ভাই’

news-image

রাজশাহী প্রতিনিধি : যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি ফজল দীর্ঘদিন ধরেই পলাতক। আদালতের নির্দেশে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নিয়ে তাঁর বাড়িতে হানা দেয় পুলিশ। ‘সফলতার’ সঙ্গে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তামিল করে পলাতক ‘আসামিকে’ কারাগারেও পাঠানো হয়।

কিন্তু বিপত্তি বেধেছে গ্রেপ্তার সেই আসামির মুক্তির আবেদন নিয়ে। রাজশাহীর একটি আদালতে গত ২৬ মে আইনজীবীর মাধ্যমে করা আবেদনে গ্রেপ্তার আসামি বলছেন, তিনি ফজল নন; তাঁর নাম সজল। তিনি ফজলের ছোট ভাই। ১১ জুন তাঁর আবেদনের শুনানির দিন ধার্য করেছেন আদালত।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, সজল মিয়ার (৩৪) বাড়ি রাজশাহী মহানগরীর ছোটবনগ্রাম পশ্চিমপাড়া মহল্লায়। সজলের বড় ভাইয়ের নাম সেলিম ওরফে ফজল। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের একটি মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ফজল দীর্ঘদিন ধরে পলাতক। তাঁর অনুপস্থিতিতেই ২০০৯ সালের ২৮ আগস্ট মামলার রায় হয়।

এদিকে সেলিমকে ধরতে গত ৩০ এপ্রিল গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নিয়ে সজলের বাড়িতে অভিযান চালায় নগরের শাহ মখদুম থানার পুলিশ। সেদিন সজলকে গ্রেপ্তার করে ফজল নাম দেখিয়ে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়। তবে পুলিশের দাবি, তারা সঠিক আসামিকেই চিনেছে। যাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাঁর নামই সেলিম ওরফে ফজল।

সজলের পক্ষ থেকে মুক্তি চেয়ে রাজশাহীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ ট্রাইব্যুনালে যে আবেদন করা হয়েছে, তাতে সজলের চার ভাই এবং চার বোনেরও জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি জমা দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর সেগুলো সত্যায়িত করেছেন।

সজলের আইনজীবী মোহন কুমার সাহা বলেন, অপরাধী না হয়েও সজল সাজা ভোগ করছেন। বিষয়টি জানিয়ে তাঁর মুক্তির জন্য আবেদন করা হয়েছে।

শাহমখদুম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এস এম মাসুদ পারভেজ বলেন, ‘আমরা ঠিক আসামিকেই ধরেছি। মামলার সাক্ষীরা আসামিকে শনাক্ত করেছেন। এ নিয়ে তাঁরা দুজন সাক্ষীর এফিডেফিটও করে দিয়েছেন। সেটি আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে। তবে যদি প্রমাণ হয় তাঁরা ভুল আসামি গ্রেপ্তার করেছেন, তাহলে তাঁরাও চান নির্দোষ ব্যক্তি খালাস পান।’