শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১০ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাবেক স্ত্রীর নগ্ন ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে চাঁদা দাবি, গ্রেপ্তার ২

news-image

বরগুনা প্রতিনিধিঃ বরগুনার আমতলীতে সাবেক স্ত্রীর নগ্ন ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে চাঁদা দাবি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বিয়ের পরের ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেছেন সাবেক স্বামী বেল্লাল হোসেন। এ ঘটনায় পর্নোগ্রাফি আইনে মঙ্গলবার রাতে মামলা হলে রাতেই পুলিশ দুইজনকে গ্রেপ্তার করে বুধবার আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠিয়েছেন।

মঙ্গলবার রাতে বরগুনার আমতলী উপজেলার সোনাউটা গ্রামে ভুক্তভোগী গৃহবধূর বাবা পর্নো গ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে আমতলী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। রাতেই অভিযান চালিয়ে সাবেক স্বামী বেল্লাল হোসেন ও তার সহযোগী চাচাতো ভাই মো. মাসুদ হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার চাকামইয়া ইউনিয়নের কুরিন্দা পাড়া গ্রামের মো. ফারুক হাওলাদারের ছেলে মো. বেল্লাল হোসেনের সাথে আমতলী উপজেলার সোনাউটা গ্রামের ভুক্তভোগী নারীর সাথে ৬ মাস আগে বিয়ে হয়।

বিয়ের পরে গৃহবধূ জানতে পারে তার স্বামী বেল্লাল হাওলাদার একজন মাদকাসক্ত এবং প্রতারক। নেশা করার জন্য বেল্লাল প্রায়ই তার স্ত্রীর নিকট টাকা দাবি করে। অসহায় গৃহবধূ টাকা দিতে না পারলেই স্বামী বেল্লাল তাকে মারধর করত। গৃহবধূ তার স্বামীর মারধর সইতে না পেরে চলতি বছরের ২০ মার্চ বেল্লালকে তালাক দেয়।

তালাকের ৩-৪ দিন পর বেল্লাল ক্ষিপ্ত হয়ে চাচাতো ভাই মো. মাসুদ এর মাধ্যমে গৃহবধূর বাবার নিকট মোবাইল ফোনে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা না দিলে গৃহবধূর বিয়ের পরে স্বামী স্ত্রীর একান্ত মুহূর্তে তোলা পর্নো ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়।

কিন্ত গৃহবধুর বাবা একজন দরিদ্র কৃষক ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দিতে না পারায় বেল্লাল এবং তার চাচাতো ভাই মো. মাসুদ হোসেন এর সহযোগিতায় বিয়ের পরে একান্তে তোলা নগ্ন ছবি ‘এ্যানজেল মারিয়া’ নামের একটি ফ্যাক আইডি খুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়।

এঘটনায় এলাকাসহ বিভিন্ন মানুষের মধ্যে তোলপার শুরু হলে গৃহবধূর বাবা মঙ্গলবার রাতে আমতলী থানায় পর্নো গ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে গৃহবধূর সাবেক স্বামী মো. বেল্লাল হোসেন ও তার চাচাত ভাই মো. মাসুদ হোসেনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন।

আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল বাশার বলেন, মামলার পরপরই অভিযান চালিয়ে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে তাদের আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।