শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১০ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভিডিওবার্তায় কিশোরী জানালেন পালাক্রমে ধর্ষনের কথা

news-image

অনলাইন ডেস্ক : আর্জেন্টিনায় এক ঘরোয়া পার্টিতে গণধর্ষণের শিকার হলেন ১৭ বছরের এক কিশোরী। তাকে পালাক্রমে ১০ জন ধর্ষণ করেছে বলে এক ভিডিও ফুটেজে পুরো ঘটনা বর্ণনা করেছেন তিনি।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইলের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর এই তথ্য।

সম্প্রতি এক ভিডিওতে ওই কিশোরী জানান, সেদিনের ভয়ঙ্কর আক্রমণে তার গায়ে অনেক আঘাতের চিহ্ন রয়ে গেছে। ঘটনার পর তিনি যখন বেডে নগ্ন অবস্থায় পড়ে ছিলেন, সে অবস্থায় তাকে দেখতে পান তার এক বন্ধু। কথিত ওই বন্ধু কিছু না বলেই অট্টহাসি দিয়ে রুম থেকে বের হয়ে যান।

পুলিশ জানিয়েছে, বুয়েন্স আইরেস প্রদেশের ফ্লোরেন্সিও ভরেলা শহরে ঘটে এ ঘটনা। ইতিমধ্যেই এ ঘটনায় ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৪ বছরের এক কিশোরও ছিল।

এ ছাড়া ২১ বছরের এক তরুণের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করা হয়েছে বলে জানায় পুলিশ।

৪০ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে ঘটনার বর্ণনায় কিশোরী বলেন, ‘আমরা সেখানে মদ্যপান করছিলাম। সেখানে হঠাৎ করেই মানুষের সংখ্যা বাড়তে থাকে। এক পর্যায়ে তারা আমাকে আঁকড়ে ধরে এবং ধাক্কা দিতে থাকে। তারা আমার গায়ে অনেক আঘাতের চিহ্ন রেখে গেছে। আমি অনেক ব্যথা পেয়েছি।’

ওই কিশোরী অভিযোগ করেন, এ ঘটনার পর তাকে সাহায্য করতে কেউ এগিয়ে আসেননি। তিনি বলেন, ‘আমার কথিত বান্ধবী আমাকে বিছানায় নগ্ন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেছে। সে আমার দিকে তাকিয়ে একটা হাসি দিয়ে বের হয়ে যায়। এর পর একের পর একজন আসতে থাকে। আর আমি ধর্ষিত হতে থাকি।’

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১০ জনের অধিক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

এদিকে আদালত সূত্র জানিয়েছে, ধর্ষকদের মধ্যে একজন বাড়ির উপরের তলার একটি কক্ষে প্রায় জ্ঞানহীন অবস্থায় কিশোরীকে নিয়ে যান। পরবর্তীতে আরও যোগ হন ৯ জন। শেষে তাকে ধর্ষণ করেন বাড়ির মালিক। ধর্ষণের পর কিশোরীকে গোসল করার কথা বলে চলে যান ওই ব্যক্তি।

ঘটনার পর পরই কিশোরী তার এক বন্ধুর নিকট শরণাপন্ন হন এবং তাকে নিয়ে পুলিশের কাছে মামলা দায়ের করেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ধর্ষণের শিকার ওই কিশোরী ইতিমধ্যেই সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করেছেন। তাদের ডাক্তারি পরীক্ষায় ধর্ষণের আলামতও পাওয়া গেছে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, কিশোরীকে গণধর্ষণের দায়ে এখন পর্যন্ত ৯ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে।