,

নাসিরনগরে অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নেই

news-image

আকতার হোসেন ভুইয়া,নাসিরনগর : ভাষা আন্দোলনের দীর্ঘ ৬৮ বছর পরেও ব্রাহ্মণবাড়িয়া নাসিরনগর উপজেলায় অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এখনো গড়ে উঠেনি শহীদ মিনার। শহীদ মিনার না থাকার ফলে এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মহান ভাষা আন্দোলন ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস সম্পর্কে ধারণাও তাই স্পষ্ট নয়। অনেক কোমলমতি শিক্ষার্থী আছে যারা এ বিষয়ে কিছুই জানেনা। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনোটিতে অস্থায়ীভাবে শহীদ মিনার বানিয়ে দিবসটি পালন করা হয়। আবার কোনো প্রতিষ্ঠানে দিবসটি পালনই করা হয় না।

উপজেলা প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে,উপজেলায় ১২৬টি সরকারি প্রাথমিক, একটি নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়,১৬টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়,দুটি স্কুল এন্ড কলেজ ও দুইটি কলেজসহ ছয়টি আলিয়া মাদ্রাসা রয়েছে।এর মধ্যে শুধুমাত্র তিনটি কলেজ,১০টি মাধ্যমিক ও ছয়টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার রয়েছে। এছাড়া বাকি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোনো শহীন মিনার নেই।এমনকি উপজেলার একমাত্র সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়েও শহীদ মিনার নেই।সরেজমিন ঘুরে শহীদ মিনার নেই এ রকম কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে দেখা যায়,অমর একুশে,ভাষা আন্দোলন,আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস সম্পর্কে তাদের অনেকেই ধারণা নেই। এর মধ্যে কয়েকজনে যা জানে তাও ভাসা-ভাসা। তারা এও জানান একুশে ফেব্রুয়ারির দিন ইশকুল বন্ধ থাকে।স্যারেরা কলাগাছ দিয়া শহীদ মিনার বানায়। আমরা সকালে উঠে ফুল দেই।ভূবন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সগির আহমেদ বলেন,বিদ্যালয়ে কোন শহীদ মিনার না থাকায় নিজেরা তৈরি করে নতুবা পার্শ্ববতী বিদ্যালয়ে গিয়ে ছাত্রছাত্রীরা ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করে।

কালিউতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লুবনা বেগম বলেন,বিদ্যালয়ে চার শতাধিকের বেশি শিক্ষার্থী রয়েছে।কলা গাছ অথবা বাশেঁর তৈরি একটি অস্থায়ী শহীদ মিনারে বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা উম্মে সালমা বলেন,উপজেলায় ১২০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কোনোটিতেই শহীদ মিনার না থাকার কথা স্বীকার করে জানান বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নির্মাণে সরকারি কোনো আদেশ ও বরাদ্দ নেই। তবে স্থানীয়ভাবে জনগনকে উদ্বুদ্ধ করে ও জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করে প্রতিটি স্কুলে একটি করে শহীদ মিনার তৈরির চেষ্টা করছি ।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ মাকসুদুর রহমান জানান মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পযার্য়ে ১৩টি প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার রয়েছে। এরমধ্যে একমাত্র সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়সহ একটি কলেজ ও ৫টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ৬টি মাদ্রাসায় শহীদ মিনার নেই।সরকার অর্থ বরাদ্দ দিলে অবশ্যই শহীদ মিনার নির্মাণ করা হবে। তবে প্রত্যেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার থাকা উচিত। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)মোহাম্মদ সাইফুল কবির বলেন,সকল ছাত্রছাত্রী যেন নিজ বিদ্যালয়ে শহীদদের স্মরণ ও শ্রদ্ধা জানাতে পারে সে লক্ষ্যে আমরা বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখছি। বিদ্যালয়গুলোতে শহীদ মিনার নির্মাণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।

 

এ জাতীয় আরও খবর

সিলেটে ট্যাংকলরি-অটোরিকশা সংঘর্ষে একই পরিবারের তিনজনসহ নিহত ৪

কাজের পরিধি ও গতি বাড়াতেই পররাষ্ট্রে দুই প্রতিমন্ত্রী : শামা ওবায়েদ

অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ কর্মকর্তাদেরও শাস্তি হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রহমতপুর-হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ-ভোলা রুটে মহাসড়ক নির্মাণের সিদ্ধান্ত

কসবায় নিখোঁজের ২দিন পর কলাবাগানের পাশ্ববর্তী ডোবায় মিললো বৃদ্ধের লাশ

প্রধানমন্ত্রীর লক্ষ্য মানবসম্পদ ও শিক্ষার উন্নয়ন: কসবায় মুশফিকুর রহমান এমপি

নবীনগরে প্রতিরোধমূলক ওরাল কলেরা টিকা কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন

কচু খেয়ে গলা চুলকালে তেঁতুল ছাড়াই মিলবে সমাধান

নায়করাজের শূন্যতা আজও সমান অনুভব করি: শাকিব খান

নতুন রাষ্ট্রপতিকে শুভকামনা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বার্তা

জাতীয় স্মৃতিসৌধে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা

আস্থার ঘাটতিতে অনিশ্চিত প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর