,

জামায়াতের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণায় উদ্বিগ্ন ভারত

news-image
অনলাইন ডেস্ক : বাংলাদেশে ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীদের বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। এ নিয়ে উদ্বিগ্ন ভারত। অন্তত দেশটির বাংলা সংবাদপত্র আনন্দবাজার পত্রিকায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এমনটাই বলা হয়েছে।

রাজনৈতিক দল হিসাবে নিবন্ধন হারানো মৌলবাদী জামায়াতের প্রার্থীরা বিএনপির প্রতীক ‘ধানের শিষ’ নিয়ে প্রার্থী হওয়ায় কমিশনে আপত্তি জানিয়েছিল ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। কিন্তু রোববার রাতে নির্বাচন কমিশন জানায়, কোনও নিবন্ধিত দল বাইরের কাউকে প্রার্থী করলে আইনত তা নাকচ করার বিধান নেই।

আর বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, ‘তারা কেউ জামাতের প্রার্থী নন। বিএনপি যাদের প্রতীক দিয়ে প্রার্থী ঘোষণা করেছে তারা সবাই বিএনপির প্রার্থী।’

কিন্তু এ নিয়ে মঙ্গলবার ‘সীমান্তে জামাত, উদ্বেগে ভারত’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন ছেপেছে আনন্দবাজার পত্রিকা।

সেখানে জামায়াতের প্রার্থিতা নিয়ে ভারতের উদ্বেগের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে পত্রিকাটি বলছে, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করে পাকিস্তানের পক্ষ নেওয়া কট্টর মৌলবাদী দল জামায়াতে ইসলামী আজও পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠ। পাক গুপ্তচর সংগঠন আইএসআইয়ের সহযোগিতায় ভারতের সীমান্ত বরাবর যাবতীয় অপকর্মের হোতা এই দলের নেতারা। গরু, মাদক, সোনা ও জাল নোটের কারবারের নাটের গুরু তারা। ২০০১-২০০৬ বিএনপির শরিক হিসেবে ক্ষমতায় থেকে সীমান্তবর্তী এলাকাকে জঙ্গিদের ঘাঁটিতে পরিণত করেছিল জামাত। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরুর পরে বসিরহাট সীমান্তের উল্টো দিকে সাতক্ষীরা এবং মালদহ-মুর্শিদাবাদের সংলগ্ন রাজশাহী ও চাঁপাই নবাবগঞ্জের বিস্তীর্ণ এলাকাকে বিচ্ছিন্ন করে ‘মিনি পাকিস্তান’ তৈরি করেছিল জামাতের সশস্ত্র কর্মীরা।’

বিএনপি এবার যে ২৫টি আসনে জামাতের নেতাদের প্রার্থী করেছে, তাদের অধিকাংশই ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও আসামের সীমান্তবর্তী এলাকা সাতক্ষীরা, খুলনা, বগুড়া, চাঁপাই নবাবগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও, সিলেট এবং চট্টগ্রামে।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রশংসা করে পত্রিকাটি বলছে, ক্ষমতায় আসার পর শেখ হাসিনা জঙ্গি ও মাদকের বিরুদ্ধে ‘জ়িরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেন। ধারাবাহিক অভিযানে সীমান্তের চোরাচালানে অনেকটাই লাগাম পরানো সম্ভব হয়। ভারতের অর্থনীতিকে দুর্বল করার জন্য পাকিস্তানে ছাপা জাল ভারতীয় নোট বাংলাদেশের চাঁপাই নবাবগঞ্জের সীমান্ত দিয়ে যে ভাবে ঢুকতো, তাকেও অনেকটা বাগে আনা গিয়েছে।

‘কিন্তু বিএনপি জামাতের নেতাদের এই সব এলাকায় প্রার্থী করায় তাদের জেতাতে চোরাচালানিরা ফের সক্রিয় হয়েছে’ বলে মনে করছে আনন্দবাজার। গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে পত্রিকাটি বলছে, ‘বাংলাদেশে ধারাবাহিক অভিযানে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতের নানা জায়গায় লুকিয়ে থাকা জামায়াতের জঙ্গি কর্মীরাও দলের নেতাদের জেতাতে সক্রিয় হয়েছে।’

পত্রিকাটির দাবি, ‘বাংলাদেশের গোয়েন্দারা তথ্য পেয়েছেন, আইএসআইয়ের নির্দেশেই জামায়াতের এই ২৫ নেতাসহ বেশ কয়েক জনকে প্রার্থী করেছে বিএনপি। তাদের অনেকের বিরুদ্ধেই জঙ্গি-ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ রয়েছে। যুদ্ধাপরাধীদের পরিবারের কয়েক জনও এর মধ্যে রয়েছেন। পাকিস্তানের আশা, এই প্রার্থীরা জয়ী হলে ফের সীমান্তে ভারত-বিরোধী অপকর্ম জোরদার করা যাবে। এই তথ্য ভারতকেও দিয়েছে বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলি।’

এই পরিস্থিতিতে ভারতের সীমান্তরক্ষীরাও নজরদারি জোরদার করেছে। সোনা ও মাদক নিয়ে বেশ কয়েক জন চোরাচালানিকে সম্প্রতি সীমান্তে আটক করা হয়েছে।

ভোটের আগে অস্ত্র ও অর্থ যাতে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে যেতে না-পারে, সে বিষয়ে বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হয়েছে।

সূত্র আনন্দবাজার

এ জাতীয় আরও খবর

সিলেটে ট্যাংকলরি-অটোরিকশা সংঘর্ষে একই পরিবারের তিনজনসহ নিহত ৪

কাজের পরিধি ও গতি বাড়াতেই পররাষ্ট্রে দুই প্রতিমন্ত্রী : শামা ওবায়েদ

অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ কর্মকর্তাদেরও শাস্তি হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রহমতপুর-হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ-ভোলা রুটে মহাসড়ক নির্মাণের সিদ্ধান্ত

কসবায় নিখোঁজের ২দিন পর কলাবাগানের পাশ্ববর্তী ডোবায় মিললো বৃদ্ধের লাশ

প্রধানমন্ত্রীর লক্ষ্য মানবসম্পদ ও শিক্ষার উন্নয়ন: কসবায় মুশফিকুর রহমান এমপি

নবীনগরে প্রতিরোধমূলক ওরাল কলেরা টিকা কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন

কচু খেয়ে গলা চুলকালে তেঁতুল ছাড়াই মিলবে সমাধান

নায়করাজের শূন্যতা আজও সমান অনুভব করি: শাকিব খান

নতুন রাষ্ট্রপতিকে শুভকামনা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বার্তা

জাতীয় স্মৃতিসৌধে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা

আস্থার ঘাটতিতে অনিশ্চিত প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর