,

আদালতে ব্যস্ত রাখলে নির্বাচন করব কীভাবে : খালেদা জিয়া

news-image

বিশেষ প্রতিনিধি : বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া আদালতের উদ্দেশে বলেছেন, ‘আমাদেরকে আদালতে ব্যস্ত রাখলে নির্বাচন করব কীভাবে? অনেক প্রতিবন্ধকতার মধ্য দিয়ে আমাদের এগোতে হচ্ছে। তার ওপর বারবার আদালতে আসতে হলে বলে দেন আমরা নির্বাচনে না যাই।’

ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৯-এ নাইকো দুর্নীতি মামলার শুনানির সময় খালেদা জিয়া এসব কথা বলেন।

মামলার অন্যতম আসামি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদও নির্বাচনী কাজে ব্যস্ততার কথা বলে মামলার কার্যক্রম নির্বাচন পর্যন্ত মুলতবি রাখার আরজি জানান।

এ সময় রাষ্ট্রপক্ষে দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, ‘মাননীয় আদালত, মওদুদ সাহেবের জন্য এই মামলা প্রায় দুই বছর পিছিয়েছে। গত ৮ তারিখ উনি বলেছিলেন, আজ ওনার বক্তব্য শেষ করবেন। কিন্তু আজ উনি বলছেন মামলার কার্যক্রম মুলতবি করার কথা। নির্বাচন কিংবা রাজনীতির সঙ্গে এই মামলার সম্পর্ক নেই।’

এ সময় খালেদা জিয়া বলেন, ‘রাজনীতির সঙ্গে এ মামলার সম্পর্ক আছে। আইনজীবীরা অনেকেই নির্বাচনে প্রার্থী হবেন। অন্য আইনজীবীদেরও নির্বাচনী কাজে ব্যস্ততা থাকবে। কয়েক দিন পর এদের কেউই আদালতে আসতে পারবেন না। আমি নিজেও পারব না। আমার শরীরটা ভালো নয়। তাই মামলার তারিখ পিছিয়ে নির্বাচনের পর দেওয়া হোক।’

খালেদা জিয়ার বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, ‘আপনি আপনার অবস্থান থেকে রাজনৈতিক বক্তব্য দিয়েছেন। আমরা আদালতের কার্যক্রম চালাতে চাই।’

এ সময় আসামিপক্ষের আইনজীবীরা একযোগে রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্যের প্রতিবাদ ও হইচই শুরু করলে বিচারক মাহমুদুল কবির বলেন, ‘আপনাদের সব বক্তব্যই বিবেচনা করা হবে। এখন মওদুদ সাহেব বক্তব্য শুরু করুন।’

আদালতের নির্দেশে মওদুদ আহামদ আগের দিনের দিনের বক্তব্য পুনরুল্লেখ করেই দিনের কার্যক্রম শেষ করার আরজি জানালে আদালত বলেন, ‘আপনি আজ বক্তব্য শেষ করবেন বলেছিলেন। কিন্তু এখন আদালতের কাছে প্রতীয়মান হচ্ছে যে আপনি শেষ করতে চান না। তাই আগামী ৩ ডিসেম্বর নতুন তারিখ ধার্য করা হচ্ছে।’

মওদুদ আহামদ ৩ জানুয়ারি তারিখ ধার্য করার আরজি জানান। তিনি বলেন, ‘৩০ নভেম্বর মনোনয়নপত্র বাছাই। তারপর তো আমরা ঢাকায়ই থাকব না।’ খালেদা জিয়াও নির্বাচনের পর তারিখ নির্ধারণের জন্য বলেন। এ নিয়ে কথাবার্তার মধ্যে বিশেষ আদালতে উপস্থিত হন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি জয়নুল আবেদীন ও সম্পাদক মাহবুবউদ্দিন খোকন।

তাঁরা দুজনই নির্বাচনের পর মামলার তারিখ নির্ধারণের জন্য আদালতে আরজি জানান। জয়নুল আবেদীন বলেন, গত রোববার সুপ্রিম কোর্টে এ ধরনের যতগুলো মামলা ছিল তার একটিরও কার্যক্রম চলেনি। আদালতই বলেছেন, যেহেতু নির্বাচন, সেহেতু এই মামলাগুলো এখন শুনবেন না। তাই বিশেষ আদালতের এই মামলার শুনানিও নির্বাচনের পর ধার্য করার অনুরোধ করেন তিনি।

শেষ পর্যন্ত আদালত ৩ জানুয়ারি মামলার পরবর্তী দিন ধার্য করেন।

আজ দুপুর ১২টায় খালেদা জিয়া হুইল চেয়ারে করে নারী পুলিশ পরিবেষ্টিত অবস্থায় আদালতকক্ষে ঢোকেন। হালকা ফিরোজা রঙের শিফন শাড়ি পরা খালেদার সঙ্গে ছিলেন তাঁর পরিচারিকা ফতেমা। শুনানির পর তাঁকে আবার জেলখানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

নাইকো দুর্নীতি মামলার ১১ আসামি হচ্ছেন—সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া, সাবেক আইনমন্ত্রী মওদুদ আহমদ, সাবেক জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী এ কে এম মোশাররফ হোসেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব কামালউদ্দিন সিদ্দিকী, সাবেক ভারপ্রাপ্ত জ্বালানিসচিব খন্দকার শহীদুল ইসলাম, নাইকোর (দক্ষিণ এশিয়া) সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কাশেম শরীফ, তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী গিয়াস উদ্দিন আল মামুন, ঢাকা ক্লাবের সাবেক সভাপতি সেলিম ভূঁইয়া, সাবেক সরকারি কর্মকর্তা ইউসুফ হোসেন, মীর মঈনুল হক ও শফিউর রহমান।

এর মধ্যে কামালউদ্দিন সিদ্দিকী, কাশেম শরীফ ও মীর মঈনুল হক পলাতক। শফিউর রহমান মারা গেছেন। জামিনে থাকা খন্দকার শহীদুল ইসলাম ও সেলিম ভূঁইয়া আজ আদালতে হাজির ছিলেন না। সূত্র: প্রথম আলো

এ জাতীয় আরও খবর

সিলেটে ট্যাংকলরি-অটোরিকশা সংঘর্ষে একই পরিবারের তিনজনসহ নিহত ৪

কাজের পরিধি ও গতি বাড়াতেই পররাষ্ট্রে দুই প্রতিমন্ত্রী : শামা ওবায়েদ

অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ কর্মকর্তাদেরও শাস্তি হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রহমতপুর-হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ-ভোলা রুটে মহাসড়ক নির্মাণের সিদ্ধান্ত

কসবায় নিখোঁজের ২দিন পর কলাবাগানের পাশ্ববর্তী ডোবায় মিললো বৃদ্ধের লাশ

প্রধানমন্ত্রীর লক্ষ্য মানবসম্পদ ও শিক্ষার উন্নয়ন: কসবায় মুশফিকুর রহমান এমপি

নবীনগরে প্রতিরোধমূলক ওরাল কলেরা টিকা কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন

কচু খেয়ে গলা চুলকালে তেঁতুল ছাড়াই মিলবে সমাধান

নায়করাজের শূন্যতা আজও সমান অনুভব করি: শাকিব খান

নতুন রাষ্ট্রপতিকে শুভকামনা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বার্তা

জাতীয় স্মৃতিসৌধে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা

আস্থার ঘাটতিতে অনিশ্চিত প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর