,

পুলিশ কর্মকর্তারা নির্বাচনের আগেই সুপারনিউমারারি পদ চান

news-image

নিউজ ডেস্ক।। পুলিশ ক্যাডারে সুপারনিউমারারি (সংখ্যাতিরিক্ত পদ) পদ সৃষ্টি করা হচ্ছে। জাতীয় নির্বাচনের আগেই পুলিশের বিভিন্ন ব্যাচের বঞ্চিত অতিরিক্ত পুলিশ সুপারদের পদোন্নতি দিতেই মূলত এই উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (পুলিশ ও এনটিএমসি) নুরুল ইসলামকে প্রধান করে কমিটিও করা হয়েছে।

নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই এটি কার্যকর করতে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সরকারের শীর্ষমহলে যোগাযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সুপারনিউমারারি পদের জন্য সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব চেয়ে পুলিশ সদর দফতরে চিঠি দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। খবর সংশিষ্ট সূত্রের।

এ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল শনিবার যুগান্তরকে বলেন, বিষয়টি প্রশাসনিক বিধায় প্রস্তাবের যৌক্তিকতা যাচাই-বাছাই করতে একটি কমিটি কাজ করছে। আশা করছি, এ ব্যাপারে একটি ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আসবে।

জানা গেছে, ৪ জুলাই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সারা দেশের ৪৯৫ জন পুলিশ কর্মকর্তাকে সুপারনিউমারারি পদে পদোন্নতি দিতে প্রস্তাব পাঠায় পুলিশ সদরদফতর। প্রস্তাবে বলা হয়, প্রশাসন ক্যাডারে উপসচিব থেকে তদূর্ধ্ব পর্যায়ে সুপারনিউমারারি পদোন্নতি দিয়ে এ সংক্রান্ত জট নিরসন করা হয়েছে। অন্যান্য ক্যাডারেও এ পদোন্নতির প্রচলন রয়েছে।

এমন বাস্তবতায় পুলিশের যোগ্য ও দক্ষ কর্মকর্তাদের সুপারনিউমারারি পদোন্নতি প্রদানের প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের অনুরোধ করা হয় প্রস্তাবে। এ প্রস্তাব পাওয়ার পর করণীয় নির্ধারণে জননিরাপত্তা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (পুলিশ ও এনটিএমসি) নুরুল ইসলামকে প্রধান করে একটি কমিটি করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এরই মধ্যে কমিটি বৈঠকও করেছে। সর্বশেষ ২৬ সেপ্টেম্বর সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব চেয়ে পুলিশ সদরদফতরে চিঠি দেয়া হয়।

এতে বলা হয়, ৪৯৫ জন কর্মকর্তাকে সুপারনিউমারারি পদে পদোন্নতি প্রদানের জন্য প্রস্তাব প্রেরণ করা হয়েছে। জনস্বার্থে কোন কোন পদকে জরুরি ভিত্তিতে সুপারনিউমারারি পদ সৃজন করা প্রয়োজন, তার সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দ্রুত প্রেরণের জন্য অনুরোধ করা হল।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, পুলিশ ক্যাডারে পুলিশ সুপার পর্যায়ে সুপারনিউমারারি পদ সৃজন করা হলে তা হবে প্রথম নজির। কারণ এ পর্যায়ে প্রশাসন ক্যাডারেও সুপারনিউমারারি পদ নেই। তবে সরকারের উপসচিব থেকে অতিরিক্ত সচিব পর্যন্ত পদে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের জন্য ৪৩০টি সুপারনিউমারারি পদ সংরক্ষিত রয়েছে।

আর এসব পদে পদোন্নতি পান প্রশাসনসহ অন্যান্য ক্যাডারের কর্মকর্তারা, যারা সরকারের উপসচিব, যুগ্ম সচিব ও অতিরিক্ত সচিব পদে আগ্রহী। তবে প্রশাসন ক্যাডারের বেশির ভাগ কর্মকর্তা এসব পদে পদোন্নতি পান বলে এ পদ শুধু প্রশাসন ক্যাডার কর্মকর্তাদের জন্য সংরক্ষিত হিসেবে অনেকে মনে করেন। কিন্তু বাস্তবে এসব পদ সরকারের। বিষয়টি নিয়ে এ সংক্রান্ত কমিটির বৈঠকেও আলোচনা হয়েছে।

পুলিশের বঞ্চিত কর্মকর্তাদের দাবি, বর্তমানে পুলিশ ক্যাডারে যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন ব্যাচের শতাধিক কর্মকর্তা পদোন্নতি পাননি। যারা এখনও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে কর্মরত রয়েছেন, এর মধ্যে ১৭, ১৮, ২০ ও ২২ ব্যাচের প্রায় ৪০ জন এবং ২৪ ব্যাচের ৯২ জন কর্মকর্তা রয়েছেন। পাশাপাশি নিয়মিত হিসেবে ২৫তম ব্যাচের ১৮২ জন কর্মকর্তা পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতি পাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছেন।

পদ খালি না থাকায় এসব কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেয়া যাচ্ছে না। এছাড়া এসব কর্মকর্তার পদোন্নতির ক্ষেত্রে সরকারের অতিরিক্ত কোনো অর্থেরও প্রয়োজন হবে না। কারণ তারা এরই মধ্যে পদোন্নতি পাওয়ার পর যে স্কেলে বেতন পাবেন, তা বর্তমানেই পাচ্ছেন। এসব যুক্তি তুলে ধরে এরই মধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও জননিরাপত্তা বিভাগের সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে দেখা করেছেন তারা।

৩ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে দেখা করেন বঞ্চিতরা। মন্ত্রীকে নিজেদের অভিভাবক সম্বোধন করে পুলিশের ২৪ ও ২৫ ব্যাচের বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, তারা ১২-১৪ বছর একই পদে কাজ করছেন। যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও শুধু পদ না থাকায় তাদের পদোন্নতি দেয়া হচ্ছে না। অথচ জুডিশিয়াল সার্ভিস কর্মকর্তারা ‘ডিস্ট্রিক্ট জাজ’ হয়েছেন। পিছিয়ে নেই পররাষ্ট্র ও ট্যাক্স ক্যাডারের কর্মকর্তারাও।

সুপারনিউমারারি পদ সৃষ্টি করা না হলে আগামী ২০ বছরেও তাদের পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতি হবে না। এর কারণ ব্যাখ্যা করে একজন কর্মকর্তা বলেন, বর্তমানে পদ খালি রয়েছে মাত্র ১২টি, অথচ এ পদে যোগ্যতা অর্জন করে আছেন প্রায় ৩৫০ কর্মকর্তা। ফলে সুপারনিউমারারি পদ সৃষ্টি করা না হলে এর সমাধান হবে না। তাদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা সৃষ্টি হবে। পদোন্নতির সুযোগ সৃষ্টি হলে সরকারের কোনো অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় হবে না।

শুধু সামাজিক মর্যাদা দিতে মন্ত্রীর কাছে আকুতি জানান উপস্থিত পুলিশ কর্মকর্তারা। তারা এও বলেন, এটি করতে হলে আগামী এক মাসের মধ্যে করতে হবে। কারণ অক্টোবরের শুরুতেই জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হতে পারে। এটি করা হলে জাতীয় নির্বাচনে পুলিশ উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবে। উৎস: যুগান্তর।

এ জাতীয় আরও খবর

জিন্নাহর ভূমিকা অস্বীকারের সুযোগ নেই: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

শাহজালালের ৩য় টার্মিনালে ১২ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে মেনজিস

রাজশাহীতে পদ্মায় হঠাৎ উঁচু ঢেউ, দেবে গেছে ৭৫ মিটার বাঁধ

জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ: প্রেস সচিব

৯৯ বিচারককে একযোগে বদলি

ডাকসু থেকে কোনো টাকা নেননি ভিপি-জিএস-এজিএস

প্রবাসীদের ভোটাধিকার হরণের চেষ্টার অভিযোগ জামায়াত আমিরের

৬ জুনের আগেই ইউপি নির্বাচন শেষ করার তাগিদ ইসির

বাদশাকে নিয়ে ইশার বিস্ফোরক দাবি

প্রোপাগান্ডাকে অভিযোগ হিসেবে নেওয়ায় দুদকের দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন নাহিদের

অডিও ফাস: ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসি প্রত্যাহার

এসআই আলতাফ হত্যায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর