,

রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসনের জন্য প্রস্তুত ভাসানচর

news-image

ডেস্ক রিপোর্ট: নীরব নিস্তব্ধ গহীন চরে নেই পশু পাখির সুরেলা ডাক, আছে লোকের কোলাহল, ইট পাথর লোহার উপর হাতুড়ি পেটানোর আওয়াজ। কেওড়া বাগান নেই, আছে দালানকোঠা। ঘাটে জেলে নৌকার পরিবর্তে আছে ইট পাথর বালু বোঝাই কার্গো ট্রলার। মহিষ বাথানের আওয়াজ নেই, আছে নির্মাণ শ্রমিকের কষ্ট আড়াল করার গানের আওয়াজ। এক সময় রাত হলেই যেখানে নেমে আসতো ঘোর অন্ধকার, এখন সেখানে বিদ্যুতের আলোর ঝলকানি। নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসনের জন্য নির্ধারিত ভাসানচরের চিত্র এটি।

নোয়াখালীর ভাসানচর দ্রুত প্রস্তুত হচ্ছে রোহিঙ্গা পুনর্বাসনের জন্য। ভাসানচরে কর্মরত নৌবাহিনীর কর্মকর্তাদের সাথে আলাপ করে জানা যায়, চরটির দৈর্ঘ্য ১২ কিলোমিটার এবং প্রস্থ ১৪ কিলোমিটার। এ চরের একপাশে হাতিয়া ও অন্য পাশে চট্টগ্রামের সন্দীপ উপজেলা। এখানে ৯ মাস যাবত প্রতিদিন প্রায় ২০ হাজার শ্রমিক কাজ করছে। প্রাথমিকভাবে ১ লাখ রোহিঙ্গাকে পুনর্বাসন করা হবে এখানে। বসবাসের উপযোগী করে গড়ে তোলা হচ্ছে বিশাল এ চরকে। এখানে নির্মাণ করা হচ্ছে থাকার ঘর, খেলার মাঠ, পুকুর, মসজিদ, হাসপাতাল, সড়ক, লাইট হাউজ, গার্ডেন, সাইক্লোন শেল্টার, সোলার সিস্টেম ইত্যাদি।

জানা গেছে, এখানে তৈরী হচ্ছে ১ হাজার ৪ শত ৪০টি টিনশেড পাকাঘর। প্রতিটি শেডে রয়েছে ১৮টি রুম। শেডের দুই পাশে আছে বাথরুম আর কিচেন। প্রতি ৪ সদস্য বিশিষ্ট পরিবারকে দেয়া হবে ১টি রুম। প্রতি রুমে থাকছে দোতলা বিশিষ্ট ২টি বেড। মেঘনা নদীর বুকে জেগে ওঠা এ চরকে ঝড়-জলোচ্ছ্বাস থেকে নিরাপদ করতে নির্মাণ করা হয়েছে ১৪ কিলোমিটার বেঁড়িবাঁধ আর চারতলা বিশিষ্ট ১২০টি সাইক্লোন শেল্টার। মাটি থেকে ৪ ফিট উঁচুতে হচ্ছে বাসস্থান। খুব দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে ভাসানচরের নির্মাণ কাজ। ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে প্রকল্পের ৮০ ভাগ কাজ।

নির্যাতনের মুখে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মধ্যে ১ লাখ রোহিঙ্গাকে নোয়াখালীর হাতিয়ার ভাসানচরে অবকাঠামো নির্মাণসহ সরকার যে আশ্রায়ণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে আগামী মাসের প্রথমে তা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধন করার কথা রয়েছে বলে জানান হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নূর-এ আলম।

এই লক্ষ্যে ২০১৭ সালের ২৮ নভেম্বর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) আশ্রায়ণ-৩ প্রকল্পের অনুমোদন দেয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অধীনে ২ হাজার ৩ শত ১২ কোটি টাকার এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। এই প্রকল্পের কাজ ২০১৯ সালের নভেম্বর মাসের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ের আগে শেষ হচ্ছে। এই প্রকল্পের অধীনে রোহিঙ্গাদের জন্য থাকার ঘর, আশ্রয়কেন্দ্র, মালামাল রাখার গোডাউন, বাঁধ নির্মাণ এবং সমুদ্র থেকে মালামাল ওঠানামা করতে জেটি তৈরি করা হয়েছে।

ভাসানচরে নির্মাণ কাজে নিয়োজিত এম আলী করপোরেশনের প্রতিনিধি নিপু জানান, প্রকল্প বাস্তবায়নের সময়সীমা ১ বছরের বেশি সময় থাকলেও প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে দিন রাত কাজ করে যাচ্ছে নির্মাণ শ্রমিকরা। প্রতিদিন কোনও না কোনও অংশে নতুন নতুন শ্রমিক এসে কাজে যোগ দিচ্ছেন।

নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার মেঘনা নদীর বুকে জেগে ওঠা ভাসানচর প্রায় প্রস্তুত রোহিঙ্গাদের জন্য। ইতোমধ্যে বেড়িবাঁধ, বাসস্থান, সাইক্লোন শেল্টার, অভ্যন্তরীণ সড়ক, লাইট হাউজসহ প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে ৮০ ভাগ।

স্থানীয় সংসদ সদস্য আয়েশা ফেরদৌস জানান, ভাসানচরে কেবল ১ লাখ নয় ১০ লাখ রোহিঙ্গা পুনর্বাসনের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা আছে। কক্সবাজারে স্থানীয়দের জীবন-জীবিকায় যে ধরনের বিরুপ প্রভাব পড়েছে, ভাসানচর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ হওয়ায় রোহিঙ্গারা নোয়াখালীতে কোনও প্রভাব ফেলতে পারবে না।সূত্র: আরটিভি অনলাইন

এ জাতীয় আরও খবর

সিলেটে ট্যাংকলরি-অটোরিকশা সংঘর্ষে একই পরিবারের তিনজনসহ নিহত ৪

কাজের পরিধি ও গতি বাড়াতেই পররাষ্ট্রে দুই প্রতিমন্ত্রী : শামা ওবায়েদ

অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ কর্মকর্তাদেরও শাস্তি হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রহমতপুর-হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ-ভোলা রুটে মহাসড়ক নির্মাণের সিদ্ধান্ত

কসবায় নিখোঁজের ২দিন পর কলাবাগানের পাশ্ববর্তী ডোবায় মিললো বৃদ্ধের লাশ

প্রধানমন্ত্রীর লক্ষ্য মানবসম্পদ ও শিক্ষার উন্নয়ন: কসবায় মুশফিকুর রহমান এমপি

নবীনগরে প্রতিরোধমূলক ওরাল কলেরা টিকা কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন

কচু খেয়ে গলা চুলকালে তেঁতুল ছাড়াই মিলবে সমাধান

নায়করাজের শূন্যতা আজও সমান অনুভব করি: শাকিব খান

নতুন রাষ্ট্রপতিকে শুভকামনা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বার্তা

জাতীয় স্মৃতিসৌধে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা

আস্থার ঘাটতিতে অনিশ্চিত প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর