,

কারাগারে আদালত বিতর্ক, গণতান্ত্রিক সরকারের সময় এমনটি হয়নি আইনজ্ঞদের অভিমত

news-image

সম্প্রতি পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতরে বসানো হয়েছে বিশেষ জজ আদালত-৫। গত ৪ সেপ্টেম্বর সরকার নিরাপত্তার কথা বলে বকশী বাজার আলীয়া মাদ্রাসার মাঠ থেকে পুরান ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডের পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারের একটি কক্ষে ওই আদালত স্থানান্তর করে।

বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ওখানে আদালত স্থাপন আইন ও সংবিধানের লঙ্ঘন। অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষ বলছে, আদালত স্থাপনের ব্যাপারে সরকার যে গেজেট প্রকাশ করেছে সেটা আইন মোতাবেকই হয়েছে। তবে আইনজ্ঞরা বলছেন অতীতে কোন গণতান্ত্রিক সরকারের সময় এমনটি হয়নি।

আইনজ্ঞরা জানান, কারাগারের ভেতরে কেবল কর্নেল তাহেরের বিচার হয়েছিল। তবে সেটি ছিল সামরিক আদালতে। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে উচ্চ আদালতে গেলে ২০১১ ওই সালে গোপন বিচার অবৈধ এবং বেআইনি ঘোষণা করা হয়। রায়ে আদালত বলেন, বিচার ছিল লোক দেখানো ও প্রহসনের নাটক। এটা কোনো বিচার হয়নি। তাই বিচারের জন্য ট্রাইব্যুাল গঠন, বিচার-প্রক্রিয়া ও সাজা ছিল অবৈধ। বিভিন্ন তথ্য পর্যালোচনা করে রায়ে বলা হয়, তাহেরের তথাকথিত বিচার ও ফাঁসি দেওয়ার ঘটনা ঠাণ্ডা মাথার হত্যাকাণ্ড।

বর্তমানে পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারের পাশের একটি ভবনে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা-মামলার বিচার কাজ চলছে। তবে এটিই প্রথম নয়। এর আগে এখানে বেশ কয়েকটি আলোচিত মামলার বিচার কাজ সম্পন্ন হয়। এর মধ্যে এরশাদের বিরুদ্ধে থাকা একটি মামলার বিচার হয়েছিল বিএনপি সরকারের সময়। পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার বিচার হয়েছিল এই ভবনে। তখন সেটির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা হলে হাইকোর্ট তা খারিজ করে দেন।

এর বাইরে ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে সংসদ ভবন এলাকায় বিশেষ জজ আদালত স্থাপন করা হয়েছিলো। এরপর পিলখানা হত্যাকাণ্ডের ঘটনার বিচারের জন্য বকশিবাজার এলাকার সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে নির্মিত ভবনটিকে অস্থায়ী আদালত হিসেবে ঘোষণা করা হয়। পিলখানার ঘটনার পর জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার বিচারও হয়েছে ওই অস্থায়ী আদালতে।

এদিকে সংবিধান প্রণেতা ও গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন এ আদালত প্রসঙ্গে বলেছেন, জেলাখানার ভেতর আদালত স্থাপন মানুষ ভাল চোখে দেখছেনা। আদালত ও জেলখানা দুটো আলাদা বিষয়। জেলখানায় আদালত অ্যাবসার্ড (হাস্যকর)। কোন কারণে জেলের ভেতর এত নাটক করা হচ্ছে? ৪০ বছর আগে কর্নেল তাহেরের বিচারে জন্য কারাগারের ভেতর আদালত স্থাপনও মানুষ ভালো চোখে দেখেনি।

জানতে চাইলে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন এ প্রতিবেদককে বলেন, এটা সংবিধান পরিপন্থী। বেগম জিয়ারটি সিভিল কেইস। বিশেষ আদালত বসিয়ে অনেক মামলা হয়েছে। কিন্তু কর্নেল তাহের ছাড়া আর কারো বিচার এভাবে কারাগারে হয়নি। আর সেটিও হয়েছিল সামরিক আইনে।

এছাড়া সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সুব্রত চৌধুরী বলেন, কোন গণতান্ত্রিক সরকারের আমলে কারাগারে আদালত বসানো হয়নি। এখন একটি গণতান্ত্রিক সরকার। সকলে ন্যায় বিচার পাবে এটাই প্রত্যাশা। বিচার বিভাগের স্বাধিনতার কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু এটাতো অস্বাভাবিক। আর খালেদা জিয়া বয়ষ্ক মানুষ। অসুস্থ, চলা-ফেরাও করতে পারেনা। টানা-হেচড়া করে কি জন্য এসব করা হচ্ছে? সরকার কি জন্য এসব করছে? এভাবে জনমত সরকারের বিরুদ্ধে চলে যাচ্ছে বলেও জানান এই আইনজীবী।

এ জাতীয় আরও খবর

সিলেটে ট্যাংকলরি-অটোরিকশা সংঘর্ষে একই পরিবারের তিনজনসহ নিহত ৪

কাজের পরিধি ও গতি বাড়াতেই পররাষ্ট্রে দুই প্রতিমন্ত্রী : শামা ওবায়েদ

অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ কর্মকর্তাদেরও শাস্তি হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রহমতপুর-হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ-ভোলা রুটে মহাসড়ক নির্মাণের সিদ্ধান্ত

কসবায় নিখোঁজের ২দিন পর কলাবাগানের পাশ্ববর্তী ডোবায় মিললো বৃদ্ধের লাশ

প্রধানমন্ত্রীর লক্ষ্য মানবসম্পদ ও শিক্ষার উন্নয়ন: কসবায় মুশফিকুর রহমান এমপি

নবীনগরে প্রতিরোধমূলক ওরাল কলেরা টিকা কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন

কচু খেয়ে গলা চুলকালে তেঁতুল ছাড়াই মিলবে সমাধান

নায়করাজের শূন্যতা আজও সমান অনুভব করি: শাকিব খান

নতুন রাষ্ট্রপতিকে শুভকামনা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বার্তা

জাতীয় স্মৃতিসৌধে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা

আস্থার ঘাটতিতে অনিশ্চিত প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর