,

‘আমরা সারাজীবন একজন ভুল মানুষকে সম্মান করেছি’

news-image

মিয়ানমারে গোপনীয়তা আইন লঙ্ঘনের অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত রয়টার্সের দুই সাংবাদিকের স্ত্রীরা ওই রায়ের বিরুদ্ধে আদালতে আপিল করবেন। মঙ্গলবার ইয়াঙ্গুনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এ কথা জানিয়েছেন। এ সময় তারা মিয়ানমারের ডি প্যাক্টে নেত্রী অং সান সু চির তীব্র সমালোচনা করেন। তারা বলেন, ‘আমরা সারাজীবন একজন ভুল মানুষকে সম্মান করেছি।’

সোমবার গোপনীয়তা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ইয়াঙ্গুনের এক আদালত রিপোর্টার ওয়া লোন (৩২) এবং কিয়াও সোয়ে (২৮)‘কে ৭ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেন। তবে প্রকৃত ঘটনা হচ্ছে, মিয়ানমার সেনাদের হাতে রোহিঙ্গা গণহত্যার ওপর একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করার কারণে তাদের এই শাস্তি দেয়া হয়।

সাজাপ্রাপ্ত ওই দুই সাংবাদিক বিবাহিত এবং তাদের দুজনেরই দুটি কন্যাসন্তান আছে। তবে গত ডিসেম্বরে আটক হওয়ার পর তাদের পরিবারকে একবারও মামলার শুনানির সময় আদাতলে কিংবা কারাগারে আসতে দেখা যায়নি।

সাংবাদিক কিয়াও সোয় ‘র মেয়ের বয়স তিন। আর গত মাসে একটি কন্যশিশুর জন্ম মা হয়েছেন ওয়া লোনের স্ত্রী পান ই মন। এটি তাদের প্রথম সন্তান। মঙ্গলবার ইয়াঙ্গুনে প্রথমবারে মত একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন ওই দুই কারাবন্দি সাংবাদিকের স্ত্রীরা। এ সময় ওয়া লোনের ভাই থুরা অং এবং তাদের পক্ষের আইনজীবীরাও উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে দুই সাংবাদিকের আইনজীবীরা বলেন, তারা তাদের মক্কেলদের ছাড়িয়ে আনার সম্ভাব্য সব বিকল্প বিবেচনা করে দেখছেন।

এ সময় কিয়া সোয়ের স্ত্রী চিট সু উন বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি তারা মুক্তি পাবেন এবং আমরা একসঙ্গে বাড়ি ফিরবো।’

তিনি আরো বলেন, ওই দুই সাংবাদিক নির্দোষ। সাংবাদিক হিসেবে তারা কেবল তাদের দায়িত্ব পালন করছিলেন। এই রায়ের ঘটনায় তাদের একমাত্র কন্যা মোয়ে থিন ওয়া জান মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে যেতে পারে।

দুই সাংবাদিকের মুক্তি দাবি করে ওয়া লোনের স্ত্রী পান ই মোন বলেন,‘এতবড় কঠিন সাজা দেয়া হবে তা আমি চিন্তাও করতে পারিনি।’

তিনি আরো বলেন, ‘গর্ভবতী অবস্থায় আমি শুধু এই আশাই করেছিলাম যে, ওয়া লোনকে ছেড়ে দেয়া হবে। কিন্তু গতকালকের (সোমবার) রায় শোনার পর আমার সব আশা ভেঙে গেছে।’

এ নিয়ে দেশটির নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী ডি ফ্যাক্টো নেত্রী অং সান সু চির নীরবতায় হতাশা ব্যক্ত করেন পান ই মন। তিনি বলেন, ‘আমাকে দুঃখের সঙ্গে বলতে হচ্ছে যে, ওই ব্যক্তির (সু চি) আচরণে আমি পুরোপুরি হতাশ। সারা জীবন ধরে আমরা ওই মানুষকে সম্মান করেছি, আর এটাই ছিলো আমাদের সবচেয়ে বড় ভুল।’

এই রায় নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো মুখ খুলেননি মিয়ানমার সরকার কিংবা সুচি।

তবে গত জুনে এক জাপানি টেলিভিশনে দেয়া সাক্ষাৎকারে সাংবাদিক আটকের পক্ষে সাফাই গেয়েছিলেন সু চি। তখন তিনি বলেছিলেন, রাখাইনের ঘটনা নিয়ে রিপোর্ট করায় তাদের আটক করা হয়নি। তাদের আটক করা হয়েছে দেশের গোপনীয়তা আইন লঙ্ঘন করায়।

সূত্র: আরব নিউজ

এ জাতীয় আরও খবর

অফিসার্স ক্লাবের নির্মাণাধীন ভবনে সাবেক অতিরিক্ত সচিবের মরদেহ

ডেঙ্গু প্রতিরোধে তরুণদের এগিয়ে আসার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

সাংবাদিক তারিকুল ইসলামের মায়ের মৃত্যুতে মাহ্‌দী আমিনের শোক

শিশু হাসপাতালে কক্ষে ধূমপান, চিকিৎসককে বরখাস্তের নির্দেশ

কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে অসন্তুষ্ট প্রধানমন্ত্রী, উন্নয়নে ৭ দিনের সময়

উচ্চশিক্ষায় দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির আহ্বান রাষ্ট্রপতির

হামের উপসর্গে আরও ৩ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ৮৫

শিশু গৃহকর্মী নির্যাতন: বিমানের সাবেক এমডিসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র

নওগাঁয় কুড়ালের আঘাতে গণেশ প্রতিমা ভাঙচুর, আটক যুবক

পরীমণির ক্ষোভ, ‘সব দায় আপনাদের’

প্রধান তথ্য কমিশনার হলেন অধ্যাপক নাহরিন ইসলাম খান

সাড়ে ৪ ঘণ্টায় ১৩ স্থান পরিদর্শন প্রধানমন্ত্রীর