,

রোহিঙ্গাদের কাছে আমরা দায়বদ্ধ : পিটার মাউরা

news-image

বাংলাদেশে সফররত আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির (আইসআরসি) প্রেসিডেন্ট পিটার মাউরা বলেছেন, মিয়ানমার সফরকালীন সময়ে যেখান দিয়ে আমরা গাড়ি চালিয়ে গিয়েছি সেখানে এক সময় গ্রাম ছিল। সামান্য যা কিছু অবশিষ্ট আছে তার মধ্যে দ্রুত বেড়ে উঠছে গাছ-গাছালি। স্কুল ও স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলি পরিত্যক্ত অবস্তায় পড়ে আছে। গ্রামটির মূল জনসংখ্যার এক-চতুর্থাংশেরও কম এখন সেখানে আছে।

সেখানে সকল সম্প্রদায়ের মানুষের সাথে কথা বলে তাদের মুখেই শুনেছি কিভাবে সামাজিক ব্যবস্থা আর স্থানীয় অর্থনীতিকে ধ্বংস করা হয়েছে। কিভাবে তারা দিনের পর দিন মানবিক সাহায্যের উপর পুরোপুরি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। এরকম যাতে না হয় এ জন্য আমরা তাদের কাছে দায়বদ্ধ। মানবিক কারণেই একটা পরিবর্তন জরুরী প্রয়োজন। এক্ষেত্রে আইসিআরসি তার দায়িত্ব পালন করতে আগ্রহী। আইসিআরসি প্রেসিডেন্ট পিটার মাউরা’র মিয়ানমার ও বাংলাদেশ সফর পরবর্তী মঙ্গলবার ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন।

আইসিআরসি প্রেসিডেন্ট বলেন, মানবিক সংকটের কারণে ক্ষতিগ্রস্থ মানুষের ভবিষ্যতের জন্য দীর্ঘমেয়াদী সহায়তা প্রয়োজন। কক্সবাজরে গত সপ্তাহে ক্ষতিগ্রস্থ স্থানীয় মানুষদেও জন্য আমরা ক্ষুদ্র-অর্থনৈতিক কর্মসূচি শুরু করেছি। কিন্তু একমাত্র মানবিক সহায়তা এই সংকটের সমাধান দিতে পারবে না। ক্ষতিগ্রস্থ মানুষগুলোর নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজন তাদেরকে সাথে নিয়ে রাজনৈতিক সমাধান, টেকসই পরিবেশ, অর্থনৈতিক বিনিয়োগসহ আন্তর্জাতিক মানবিক আইন ও মানবাধিকার বজায় রাখতে হবে।

পিটার মাউরা বলেন, রোহিঙ্গাদের এখনও রাখাইনে ফেরার পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। আমি এখানে কার কি দোষ তা বলতে আসি নি। মানবিক সংকটের এই চিত্র দেখে মনে হয়েছে ২০ বছর পরও কি ঠিক একই অবস্থা দেখতে হবে। আমি এই অঞ্চলের একটি নিবিড় মূল্যায়ন ও পর্যবেক্ষণ নিয়ে ফিরছি। আমি সীমান্তের দুই পাশেই গিয়েছি। তাদের জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপদ আশ্রয়,ঔষধ, স্বাস্থ্য সেবা, ল্যাট্রিন, বিদ্যুৎ কমতি রয়েছে। জরুরী অবস্থায় কোনো সাহায্য ছাড়াই জীবন যাপন করার জন্য আয় উপার্জন করার ক্ষেত্রে খুব সামান্য বিকল্পই রয়েছে। প্রায় দশ লাখেরও বেশি মানুষ দুর্ভোগ ও দুর্দশার মধ্যে জীবনযাপন করছে। দীর্ঘমেয়াদী বিরোধপূর্ণ পরিস্থিতির তারা জিম্মি হয়ে আছে। বর্ষাকাল আসার সাথে সাথে পরিস্থিতি আরো খারাপ হতে শুরু করবে।

তিনি বলেন, আমার এই সফরে আমি মাননীয় স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চি, মাননীয় প্রেসিডেন্ট উ উইন মিন্ট, এবং সেনাবাহিনীর কমান্ডার-ইন-চিফ সিনিয়র জেনেরাল উ মিন অং হ্লাইয়াং এবং বাংলাদেশে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে দেখা করেছি। আমি সুইজারল্যান্ডে ফিরে যাবার আগে মাননীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী জনাব আবুল হাসান মাহমুদ আলী, এমপি ও মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান এমপি’র সাথে দেখা করব। কফি আনান কমিশনের সুপারিশগুলো আমরা আমরা সমর্থন করি। মানবিক সংকট নিরসনে আইসিআরসি মিয়ানমার ও বাংলাদেশে তার কার্যক্রম চালিয়ে যাবে।

এ জাতীয় আরও খবর

জিন্নাহর ভূমিকা অস্বীকারের সুযোগ নেই: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

শাহজালালের ৩য় টার্মিনালে ১২ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে মেনজিস

রাজশাহীতে পদ্মায় হঠাৎ উঁচু ঢেউ, দেবে গেছে ৭৫ মিটার বাঁধ

জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ: প্রেস সচিব

৯৯ বিচারককে একযোগে বদলি

ডাকসু থেকে কোনো টাকা নেননি ভিপি-জিএস-এজিএস

প্রবাসীদের ভোটাধিকার হরণের চেষ্টার অভিযোগ জামায়াত আমিরের

৬ জুনের আগেই ইউপি নির্বাচন শেষ করার তাগিদ ইসির

বাদশাকে নিয়ে ইশার বিস্ফোরক দাবি

প্রোপাগান্ডাকে অভিযোগ হিসেবে নেওয়ায় দুদকের দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন নাহিদের

অডিও ফাস: ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসি প্রত্যাহার

এসআই আলতাফ হত্যায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর