,

গর্ভপাত! ব্রাজিলে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপই এখন নারীদের একমাত্র ভরসা

news-image

বিগত দশকে বিশ্বজুড়ে গর্ভপাতের পিল খোঁজার হার আগের চেয়ে দ্বীগুণ হারে ছড়িয়ে গেছে। বিবিসির বিশ্লেষন এবং গুগল সার্চ এই তথ্য দিচ্ছে। যেসব দেশে এই আইন বেশি কঠোর সেসব দেশে গর্ভপাতের পিল সম্পর্কে আগ্রহ আরো বেশি। এমন একটি দেশ হচ্ছে ব্রাজিল। এখানে আইনগত বাধা-বিপত্তি এড়াতে মেয়েরা এখন এই পিল কিনতে তথ্যের জন্য ঝুঁকছেন প্রযুক্তির দিকে। তেমনি একটি প্রযুক্তির নাম হচ্ছে হোয়াটসঅ্যাপ। সেখানে হয়ে উঠেছে সেসব নারীদের ভরসার জায়গা।

ব্রাজিলে গর্ভপাত অপরাধ, কিছু ব্যতিক্রম ঘটনার ক্ষেত্রে যেমন ধর্ষণের মতো ঘটনার ক্ষেত্র ছাড়া এখানে অবৈধ গর্ভপাতের দায়ে জেল হতে পারে। কিন্তু তার পরেও থেমে নেই গর্ভপাতের ঘটনা।

ব্রাজিলের এক নারী বলেন, ‘আমি প্রক্রিয়াটি হোয়াটসঅ্যাপে দেখে খাওয়া শুরু করি এবং দুটো পিলও খেলাম। আমি ভিশন আতঙ্কিত ছিলাম। আমি একদম একা, আমার ভাই এখানে আছে, কিন্তু সে একটি শিশু। আমার সাহায্যের দরকার। এই কথাগুলো ব্রাজিলের সেসব নারীদের যারা গর্ভপাতের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার মধ্যদিয়ে গিয়েছেন।’

এদিকে দেশটিতে গর্ভসংক্রান্ত আইন কঠোর হওয়ায় এখন সেখানে অনেক মেয়ে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে নিজেদের মধ্যে তথ্য শেয়ার করছেন। ব্যাংক ট্রান্সফারের মাধ্যমে অর্থ পাঠালে ঠিকানায় পৌঁছে যাবে পিল। এই হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপটি তৈরি করেছেন পাঁচজন নারী মিলে।

বিবিসি ঐ পাঁচ নারীর মধ্যে একজনের সাথে কথা বলে জানতে পারে তার নিজের জীবনের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা।

তিনি বলেন, ‘২০১৩ সালের অক্টোবর মাসে আমাকে অপহরণ করা হয় এবং ধর্ষণ করা হয়। এর ফলে আমি গর্ভবতী হয়ে যাই। কিন্তু বৈধ্যভাবে গর্ভপাত সম্ভব হয়নি। কারণ ঐ ব্যক্তি সাবেক পুলিশ অফিসার হওয়ায় সে ছিল খুবই প্রভাবশালী। আমার সে সময় মনে হলো আমার সারা জীবন সামনে পরে আছে। আর সেটা আমার কাছ থেকে সে কেরে নিয়ে গেছে। তখন আমার মাথায় এলো এই হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ তৈরির কথা।’

তবে ব্রাজিলের রক্ষণশীল সমাজে যারা গর্ভপাতের বিপক্ষে তারাও এখন কেউ কেউ বাধ্য হচ্ছেন গর্ভপাতকে মেনে নিতে। ব্রাজিলের এক নারী নিজে গর্ভপাতের বিরেুদ্ধে হলেও এখন বাধ্য হয়েছেন অবৈধ ক্লিনিকে যেতে।

সরকারি হিসেব মতে ব্রাজিলে প্রতিদিন ৪ জন নারীর মৃত্যু হচ্ছে গর্ভাঅবস্থার অবসান ঘটাতে গিয়ে। অনেক মেয়েই নানা জটিলতা সত্বেও হাসপাতালে যেতে চায় না। শেষ পর্যন্ত তারা যখন আসে ততক্ষনে তাদের অবস্থা মারাত্মক হয়ে পড়ে। অনেক মেয়েরাই হাসপাতালে আসে ইনফেকশন নিয়ে। এমনকি নিডেল এবং সূচ জাতীয় জিনিস ব্যবহারের কারণে গোপন অঙ্গে ক্ষতও থাকে অনেকের। যা কিনা মৃত্যুর দিকেও ঠেলে দিতে পারে তাদের জীবনকে।

তবে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের সদস্যরা বলছেন, তাদের কারো ক্ষেত্রে মৃত্যুর ঘটনা এখনো নেই। তবে আইনগত ঝুঁকি সীমাহীন, ধরা পরলে জেল। যখন কোনো মেয়ে সঙ্কটে পরে তাদের কাছে গর্ভপাত সম্পর্কে সহায়তা চায় তখন তারা তাদেরকে সেই সুবিধা পৌঁছে দিতে পারছেন, সেই সমস্থ ঝুঁকি থাকা সত্বেও সেটাই তাদের কাজে উৎসাহ যোগাচ্ছে।’ সূত্র : বিবিসি বাংলা

এ জাতীয় আরও খবর

জিন্নাহর ভূমিকা অস্বীকারের সুযোগ নেই: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

শাহজালালের ৩য় টার্মিনালে ১২ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে মেনজিস

রাজশাহীতে পদ্মায় হঠাৎ উঁচু ঢেউ, দেবে গেছে ৭৫ মিটার বাঁধ

জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ: প্রেস সচিব

৯৯ বিচারককে একযোগে বদলি

ডাকসু থেকে কোনো টাকা নেননি ভিপি-জিএস-এজিএস

প্রবাসীদের ভোটাধিকার হরণের চেষ্টার অভিযোগ জামায়াত আমিরের

৬ জুনের আগেই ইউপি নির্বাচন শেষ করার তাগিদ ইসির

বাদশাকে নিয়ে ইশার বিস্ফোরক দাবি

প্রোপাগান্ডাকে অভিযোগ হিসেবে নেওয়ায় দুদকের দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন নাহিদের

অডিও ফাস: ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসি প্রত্যাহার

এসআই আলতাফ হত্যায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর