,

‘শেখ মুজিবের বাংলায় কোন ‘রাজাকার’ ঠাঁই পেতে পারে না’

news-image

সম্প্রতি কোটা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে যে তর্ক-বিতর্কের অবতারণা সেখানেও আছে হতাশার দৃশ্য। কোটা সংস্কার বা বাতিল সে তর্ককে পাশে রেখেও যে বিষয়টি আতঙ্কিত করে সেটি হচ্ছে একদল তরুণ একজন মন্ত্রীর প্রচারিত একটি বক্তৃতার প্রতিবাদ করতে গিয়ে নিজেদের হাতে শরীরে রাজাকার লিখে রাস্তায় দাঁড়িয়ে গেলো। কী ভয়ঙ্কর বিষয়। যে রাজাকার শব্দটি এদেশে সবচেয়ে ঘৃণার এবং পরিত্যাজ্য, সে শব্দটিকেই কিনা আমাদের তরুণ প্রজন্ম বেছে নিলো প্রতিবাদের ভাষা হিসাবে? কেমন করে সম্ভব? এই ‘রাজাকার’ শব্দটি কেবল একটি শব্দ নয়, এটি একটি অধ্যায়, ইতিহাসের কলঙ্কিত একটি অংশ। এই শব্দটি উচ্চারণে কিছু মানুষ নয় হিংস্র পশুর চেহারা ভেসে আসে আমাদের সামনে। মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের জন্য এটি একটি আতঙ্ক, ঘৃণা ও ৭১-এ স্বজন হারানোর এক ভয়ঙ্কর স্মৃতিকে বয়ে বেড়ায়। আর আমাদের প্রজন্ম কিনা সেই শব্দটিকেই ভালোবেসে ফেলেছে? কিন্তু কেন? তারা কী জানে এই রাজাকারেরাই ছিল আমাদের স্বাধীনতার বিরুদ্ধের শক্তি? তারা কী জানে না এই রাজাকারেরাই হত্যা করেছে আমাদের শত শত বুদ্ধিজীবীকে?

আমাদের তরুণ সমাজ আজকে প্রচণ্ড মাত্রায় ইহলৌকিক চিন্তার জায়গায় আসক্ত হচ্ছে পারলৌকিক চিন্তার পেছনে। যে মানুষ ঠিকমতো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ছে না, ইসলামের সঠিক নির্দেশনায় যে জীবনাচারণের বর্ণনা আছে সেগুলোর ধারে কাছেও নেই, সেই লোকও এখন আরেকজনকে ইসলাম নিয়ে বয়ান দিতে ভালোবাসে। জাগতিক সমস্ত সুযোগ সুবিধার পেছনে ছুটছে নিরন্তর কিন্তু নিজেকে একজন সহি মুসলিম পরিচয় দিতে উঠেপড়ে লেগে যায়। নামাজ রোজা না করলেই একজনকে নাস্তিক ট্যাগ দিয়ে ফেলছে খুব সহজেই। যেন একজন মানুষের আসল পরিচয় তার ধর্ম দিয়েই নির্ধারিত হয়। সে মানুষটির মানবিকতা, আন্তরিকতা, সামাজিক অবদান বা মানবিক বৃত্তিগুলোর কোনও দামই নেই। এই যে খুব সহজেই কাউকে বাতিল বা গ্রহণযোগ্য বলে ঘোষণা দেওয়ার প্রবৃত্তি এর থেকেই শুরু হচ্ছে বিচ্ছিন্নতার সংস্কৃতি।

যে হারে সমাজে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে, গুজব ছড়ানোর যে সংস্কৃতি শুরু হয়েছে এর থেকে পরিত্রাণের জন্য সরকারি বেসরকারি এবং ব্যক্তিপর্যায়ে এখনই সচেতনতা এবং প্রস্তুতির সময় এসেছে। সমাজকে বিকৃতি থেকে রক্ষা করতে হলে দরকার সর্বমহলের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় এগিয়ে আসা। তরুণ সমাজকে বুঝাতে হবে ‘রাজাকার’ হতে চাওয়ার মধ্যে কোনও বীরত্ব নেই। এই দেশে রাজাকার হতে চাওয়া প্রজন্মের কোনও স্থান নেই। আমরা রাজাকার প্রজন্মের হাতে এই দেশকে ছেড়ে দিতে পারি না। এর জন্য মুক্তিযোদ্ধারা বিনা দ্বিধায় জীবনে দেয়নি। এই দায় থেকে আমাদের মুক্তি নেই। আবেগে হলেও রাজাকার হতে চাওয়া যায় না। এই বোধের থেকে বেরিয়ে আসতেই হবে। মুক্তিযুদ্ধের এই বাংলায়, শেখ মুজিবের বাংলায় কোন ‘রাজাকার’ ঠাঁই পেতে পারে না, দেওয়া যায় না। বাংলা ট্রিবিউন

লেখক: লীনা পারভীন

এ জাতীয় আরও খবর

সিলেটে ট্যাংকলরি-অটোরিকশা সংঘর্ষে একই পরিবারের তিনজনসহ নিহত ৪

কাজের পরিধি ও গতি বাড়াতেই পররাষ্ট্রে দুই প্রতিমন্ত্রী : শামা ওবায়েদ

অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ কর্মকর্তাদেরও শাস্তি হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রহমতপুর-হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ-ভোলা রুটে মহাসড়ক নির্মাণের সিদ্ধান্ত

কসবায় নিখোঁজের ২দিন পর কলাবাগানের পাশ্ববর্তী ডোবায় মিললো বৃদ্ধের লাশ

প্রধানমন্ত্রীর লক্ষ্য মানবসম্পদ ও শিক্ষার উন্নয়ন: কসবায় মুশফিকুর রহমান এমপি

নবীনগরে প্রতিরোধমূলক ওরাল কলেরা টিকা কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন

কচু খেয়ে গলা চুলকালে তেঁতুল ছাড়াই মিলবে সমাধান

নায়করাজের শূন্যতা আজও সমান অনুভব করি: শাকিব খান

নতুন রাষ্ট্রপতিকে শুভকামনা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বার্তা

জাতীয় স্মৃতিসৌধে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা

আস্থার ঘাটতিতে অনিশ্চিত প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর