,

ইসলামে শ্রমিকের অধিকার

news-image

হাফেজ মাওলানা মো. নাসিরউদ্দিন : পহেলা মে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস। শ্রমিকের স্বার্থ রক্ষা এবং অধিকার আদায়ের দাবিতে সারা বিশ্বের শ্রমজীবী মানুষ ব্যাপক কর্মসূচি পালন করে থাকে। ১৮৮৬ সালের পহলে মে শিকাগোর রাস্তায় ঘটে যাওয় ঘটনাবলি থেকে এ দিবসের উৎপত্তি। সেদিন আট ঘণ্টার শ্রম, মজুরি বৃদ্ধি, কাজের উন্নত পরিবেশ ইত্যাদি দাবিতে শ্রমিক সংগঠন শিল্প ধর্মঘটের ডাক দিয়েছিল। অত্যন্ত বর্বর পন্থায় সে ধর্মঘট দমন করা হয়। ১৩ মে ধর্মঘটরত শ্রমিকদের সমাবেশে পুলিশ গুলিবর্ষণ করলে ৬জন শ্রমিক মারা যায়। এর প্রতিবাদে পরদিন শিকাগোর হে মার্কেটে শ্রমিক সমাবেশ হলে কারখানার মালিকরা সেখানে বোমা বিস্ফোরণ ঘটায় এবং তাতে ৪জন শ্রমিকের প্রাণহানি হয়। এই হলো মে দিবসের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস।

শ্রমিকের ঘাম শুকিয়ে যাবার আগেই তার পারিশ্রমিক পরিশোধ করো। ইসলাম ধর্মে শ্রমিকের অধিকারের বিষয়ে এটি একটি প্রসিদ্ধ হাদিস। এছাড়া শ্রমিকের অধিকার নিয়ে ইসলাম কী বলে সে বিষয়ে আল্লাহ তায়ালা ও রাসুলুল্লাহ (সা.)এর কয়েকটি হাদিস তুলে ধরা হলো-

আল্লাহ তায়ালা বলেন, তিনি তোমাদের জন্য পৃথিবীকে সুগম করেছেন। অতএব, তোমরা ভূপৃষ্ঠে বিচরণ করো এবং তার দেওয়া রিজিক আহরণ করো। (সুরা মুলক্, আয়াতঃ ১৫)

আল্লাহ তায়ালা আরও বলেন, নামাজ সমাপ্ত হলে তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পরো এবং আল্লাহর অনুগ্রহ (রিজিক) সন্ধান করো। (সুরা জুমুআ, আয়াতঃ ১০)

আল্লাহ তায়ালা আরও বলেন, পৃথিবীতে বিচরনশীল সবার রিজিক আল্লাহর জিম্মায়। (সুরা হুদ, আয়াতঃ ০৬)
শ্রমিকের অধিকার নিয়ে হাদিস শরিফে আছে- নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শিল্প ও হস্তকর্মের ব্যাপারে উৎসাহিত করে বলেছেন, হস্তকর্মের মাধ্যমে উপার্জিত খাদ্যের চেয়ে অন্য কোনো পবিত্র খাদ্য নেই। (বুখারী শরীফ)
বৃক্ষরোপন ও কৃষিকাজে অনুপ্রেরণা জুগিয়ে তিনি বলেন, কোনো মুসলিম যখন কৃষিকাজ করে বা বৃক্ষরোপন করে, অতপর তাহতে পাখি, মানুষ ও প্রাণী খায়, তার জন্য সেটা সদকা হিসাবে গণ্য হয়। (মুসনাদে আহমদ)
ব্যবসায়ীদের অনুপ্রেরনা দেয়ার জন্য রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “বিশ্বস্ত ও সত্যবাদী ব্যবসায়ী নবী, সিদ্দীক ও শহিদগণের সঙ্গে থাকবে। (সুনানে দারেমি)

ইসলামে মালিক-শ্রমিক সর্ম্পক সহনশীল হতে বলেছে, ক্ষমা সুন্দর মনোভাব নিয়ে শ্রমিকের দোষ-ত্রুটি মাফ করে দিতে উৎসাহিত করে। এক সাহাবি এসে নবীজীকে জিজ্ঞাসা করলেন, হুজুর! চাকর-খাদেমদের অপরাধ কতবার ক্ষমা করব? নবীজী একথা শুনে চুপ করে রইলেন। সে সাহাবি পুনরায় জিজ্ঞাসা করলেন। নবীজী তখন বলে উঠলেন, প্রতিদিন সত্তর বার হলেও ক্ষমা করে দিয়ো। (তিরমিজি শরীফ)

আল্লাহ আমাদের সকলকে কুরআন-সুন্নাহ অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করার তাউফিক দান করুন। (আমিন)

এ জাতীয় আরও খবর

অফিসার্স ক্লাবের নির্মাণাধীন ভবনে সাবেক অতিরিক্ত সচিবের মরদেহ

ডেঙ্গু প্রতিরোধে তরুণদের এগিয়ে আসার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

সাংবাদিক তারিকুল ইসলামের মায়ের মৃত্যুতে মাহ্‌দী আমিনের শোক

শিশু হাসপাতালে কক্ষে ধূমপান, চিকিৎসককে বরখাস্তের নির্দেশ

কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে অসন্তুষ্ট প্রধানমন্ত্রী, উন্নয়নে ৭ দিনের সময়

উচ্চশিক্ষায় দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির আহ্বান রাষ্ট্রপতির

হামের উপসর্গে আরও ৩ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ৮৫

শিশু গৃহকর্মী নির্যাতন: বিমানের সাবেক এমডিসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র

নওগাঁয় কুড়ালের আঘাতে গণেশ প্রতিমা ভাঙচুর, আটক যুবক

পরীমণির ক্ষোভ, ‘সব দায় আপনাদের’

প্রধান তথ্য কমিশনার হলেন অধ্যাপক নাহরিন ইসলাম খান

সাড়ে ৪ ঘণ্টায় ১৩ স্থান পরিদর্শন প্রধানমন্ত্রীর