,

ব্যর্থতার দায়ে বিদায় নিচ্ছে দুদকের বিশেষ টিমগুলো

 
নিজস্ব প্রতিবেদক :সেবা প্রদানকারী সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর দুর্নীতি খুঁজতে বিভিন্ন সময়ে বিশেষ টিম গঠন করেছিল দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দায়িত্ব ছিল নির্দিষ্ট সেইসব প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম ও দুর্নীতি খুঁজে বের করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে ব্যর্থতা ও নিজেদেরই দুর্নীতিতে জড়ানোর অভিযোগ উঠেছে এসব টিমের বিরুদ্ধে।

2016_05_16_08_53_46_oZUujxvNuNV6RK9eajKaEnzTHp1P54_original

তাই বারবার বিশেষ টিমগুলো ভেঙে গঠন করা হয়েছে নতুন কোনো কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে নতুন আঙ্গিকে নতুন টিম। একইভাবে গুরুত্বপূর্ণ প্রাতিষ্ঠানের দুর্নীতি খোঁজের দায়িত্বে থাকা সদ্য গঠিত টাস্কফোর্সকে বিলুপ্ত করে পাঁচটি বিশেষ দুর্নীতি দমন টিম গঠন করেছে সংস্থাটি। যারা দুর্নীতি প্রতিরোধে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পাঁচ প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম নজরদারি করবেন।

 

 

দুদক সচিব আবু মো. মোস্তফা কামাল  বলেছেন, গত ১২ মে পাঁচটি বিশেষ দুর্নীতি দমন টিম গঠন করে কমিশন। যেগুলোর নেতৃত্বে আছেন দুদকের পাঁচ দক্ষ পরিচালক। জনগণ ওই পাঁচটি প্রতিষ্ঠান থেকে সবচেয়ে বেশি সেবা গ্রহণ করে থাকে। ওইসব প্রতিষ্ঠান থেকে সেবা নিতে গিয়ে মানুষ সবচেয়ে বেশি হয়রানি, ভোগান্তি, দুর্নীতির শিকার হয়। এগুলো বন্ধ করতেই নতুন টিম গঠন করা হয়েছে।

 

টিমের কার্যপরিধি সম্পর্কে তিনি বলেন, এসব টিম প্রতিষ্ঠানগুলোর আইন, বিধি-বিধান, পদ্ধতিগত দুর্বল দিকগুলো চিহ্নিত করে ফাঁকফোকর বের করবে। যে ফাঁকফোকর ব্যবহার করেই অনিয়ম ও দুর্নীতি করা হচ্ছে। পরে ফাঁকফোকরগুলো বন্ধে কমিশনের মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট সুপারিশমালা পাঠানো হবে ওইসব প্রতিষ্ঠানের কাছে এবং দুর্নীতি বন্ধে সুপারিশ করা হবে।

 

এসব টিমের সদস্যরা দুর্নীতির অভিযোগে মামলা করতে পারবেন কি-না জানতে তিনি বলেন, ‘মামলা করতে পারবেন কি-না এ ব্যাপারে সঠিক কিছু বলতে পারছি না।’নতুন গঠিত এইসব টিমের মধ্যে পরিচালক মীর জয়নুল আবেদীন শিবলীর নেতৃত্বাধীন টিম শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, পরিচালক একেএম জায়েদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন টিম স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন টিম রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক), পরিচালক মঞ্জুর আহমদের নেতৃত্বাধীন টিম জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ, পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছিরের নেতৃত্বাধীন টিম ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করবে।

 

 

দুর্নীতি দমন ব্যুরো গঠনের শুরু থেকেই ৪টি বিশেষ টিম ছিল। যারা বড় বড় প্রতিষ্ঠানের ও বড় বড় ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান করত। এই টিম ছিল চারটি শাখায় বিভক্ত। এরপর দুদক প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর সেইসব শাখাকে একত্র করে বিশেষ অনুসন্ধান ও তদন্ত শাখা গঠন করা হয়।গত সামরিক শাসনামলে দুদকসহ কয়েক গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের নিয়ে দুর্নীতিবাজদের ধরতে টাস্কফোর্স গঠন করা হয়। পরে দলীয় সরকার আসলে সেটি ভেঙে দেয়। এরপর ২০১২ সালে এসে সরকারের ১১টি প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতি প্রতিরোধে ১১ জন উপ-পরিচালকের নেতৃত্বে ১১টি প্রাতিষ্ঠানিক টিম গঠন করা হয়েছিল।

 

 

পরে এসব টিমের বিরুদ্ধেই ব্যর্থতা ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। ফলে এসব টিম ভেঙে দিয়ে গত বছরের ১০ আগস্ট গঠন করা দুটি টাস্কফোর্স। এ দুটি টাস্কফোর্সে দু’জন উপ-পরিচালকের নেতৃত্বে ৫ সদস্য করে মোট ১০ জন সদস্য দায়িত্বে ছিলেন। রাজউকের ওপর গণশুনানিতে দুকের সাবেক কমিশনার মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু এই বিশেষ টিম সম্পর্কে বলেছিলেন, ‘দুর্নীতি প্রতিরোধের জন্য সরকারি বিভিন্ন সেক্টরে দুদকের প্রাতিষ্ঠানিক টিম ছিল। দীর্ঘদিন ধরে ওইসব সেক্টরে কাজ করতে গিয়ে কেউ কেউ দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েছেন। এসব কারণে দুদকের প্রাতিষ্ঠানিক টিমগুলো বিলুপ্ত করা হয়েছে’। পরে নবগঠিত এই টাস্কফোর্স দুটিও কার্যকর ভূমিকা না রাখায় সেগুলো বাতিল করে অবশেষে পাঁচজন পরিচালকের নেতৃত্বে পাঁচটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে।

 

 

এসব গুরুত্বপূর্ণ টিমের বার বার পুনর্গঠনের সম্পর্কে জানতে চাইলে দুদক সচিব মোস্তফা কামাল বলেন, ‘মূলত কাজে গতি আনার জন্যই এসব টিম পরিবর্তন করা হয়। এ ছাড়া অন্য কোনো কারণ আছে বলে আমার জানা নেই।’

তবে প্রাতিষ্ঠানিক টিম বিলুপ্ত করা নিয়ে সাবেক কমিশনার সাহাবুদ্দিন চুপ্পু  বলেছিলেন, এসব টিমের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ ছিল। যে উদ্দেশ্যে বছর কয়েক আগে এসব প্রাতিষ্ঠানিক টিম গঠন করা হয়েছিল তার সঙ্গে প্রত্যাশা প্রাপ্তির মিল হচ্ছিল না। যেমন এই টিমের গঠনের উদ্দেশ্য ছিল তাদের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ভিতরের দুর্নীতিসহ বিভিন্ন প্রকার দুর্নীতি ও অনিয়মের আপডেট দেবে। আর সে অনুযায়ী আমরা ব্যবস্থা নেব। কিন্তু এসব কাজে ওই সব টিমের আমাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী অগ্রগতি ছিল না। তাই এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

 

উল্লেখ্য, এর আগে যে ১১ প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতি প্রতিরোধ অভিযান পরিচালনা করা হয় সেগুলো হলো— জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), রাজউক (রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ), সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তর, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি), ঢাকা সিটি করপোরেশন (উত্তর ও দক্ষিণ), বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ), শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, সরকারি আবাসন পরিদপ্তর, সরকারি কর্মচারী কল্যাণ বোর্ড এবং বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন।

এ জাতীয় আরও খবর

সাবেক স্ত্রীসহ তিনজনের বিরুদ্ধে হিরো আলমের মামলা

আসিফের কণ্ঠে মাহবুবুল খালিদের নতুন গান ‘সখি তুই কি তেল মাখিস চুলে’

ধারাভাষ্য দল থেকে বাদ আথারটন-হুসেইন

জামায়াত আমিরের সঙ্গে পাকিস্তানের হাইকমিশনারের বৈঠক

অ্যাপল গ্লোবাল টেলের এমডি-চেয়ারম্যানের ২২ বছরের কারাদণ্ড

জামায়াত রাজনৈতিক দল নয়, একটি সমিতি: বিএনপি নেতা খোকন তালুকদার

ভারতজুড়ে বাংলাদেশের মতো অস্থিরতা সৃষ্টির অভিযোগ শুভেন্দুর

ডেঙ্গুতে আরও ৪ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৮৫১

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ ছাড়ার ঘোষণা ইশরাকের

রাষ্ট্রায়ত্ত তিন ব্যাংকের এমডিদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল

নিজের সন্তানের ভবিষ্যতের জন্য ঢাকা পরিচ্ছন্ন রাখুন: প্রধানমন্ত্রী

সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড, রায়ের কপি চেয়েছে ঢাকা