,

মেয়ে কয়েদিদের কুমারীত্ব পরীক্ষা আফগানিস্তানে

 

 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : তথাকথিত নৈতিক অপরাধের অভিযোগে আটক মহিলা ও কিশোরীদের নাকি বাধ্যতামূলকভাবে কুমারীত্ব পরীক্ষা করে থাকেন সরকারি ডাক্তাররা৷ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আবার এই কুমারীত্ব পরীক্ষা করা হয় পুরুষ প্রহরীদের উপস্থিতিতে৷

আফগান ইন্ডিপেন্ডেন্ট হিউম্যান রাইটস কমিশন তাদের একটি সাম্প্রতিক রিপোর্টে এই তথ্য প্রকাশ করেছে৷ এআইএইচআরসি এ জন্য দেশের ১২টি প্রদেশে ১৩ থেকে ৪৫ বছর বয়সের ৫৩ জন মেয়ে কয়েদির সাক্ষাৎকার নেয়৷ তাদের সকলের বিরুদ্ধে ব্যভিচার গোত্রীয় নৈতিক অপরাধের অভিযোগ ছিল৷ ৫৩ জনের মধ্যে ৪৮ জনের ‘‘ইনভেসিভ” কুমারীত্ব পরীক্ষা করা হয়েছে – ‘‘ইনভেসিভ”, অর্থাৎ শরীরের অভ্যন্তরে, যেমন যোনি বা মলনালি ধরে পরীক্ষা৷ সেই পরীক্ষাও আবার তাদের আপত্তি সত্ত্বেও৷ পরীক্ষা চালিয়েছেন সরকারি ডাক্তাররা৷

image_150763_0
পেশেন্টের অনুমতি ব্যতিরেকে এ ধরনের স্ত্রীরোগ সংক্রান্ত পরীক্ষাকে ‘‘যৌন হয়রানি ও মানবাধিকার ভঙ্গের” পর্যায়ে ফেলা চলে – বলেছে এআইএইচআরসি৷ এছাড়া অধিকাংশ ক্ষেত্রেই জেলের পুরুষ প্রহরীদের উপস্থিতিতে এই সব পরীক্ষা চালানো হয়েছে, বলে রিপোর্টে বলা হয়েছে৷ যার ফলে মহিলাদের ‘‘মানসিক কষ্ট ও অবমাননা” আরো বেড়েছে৷ সংশ্লিষ্ট মহিলাদের হুমকি ও অপমানও সহ্য করতে হয়েছে৷

 

আফগানিস্তানের একমাত্র মহিলা সরকারি কৌঁসুলি মারিয়া বাশির বলেছেন যে, তিনি নিজে বহু মহিলাকে চেনেন, যাদের জোর করে কুমারীত্ব পরীক্ষা করা হয়েছে৷ পুলিশ নাকি নৈতিক অপরাধে অভিযুক্ত মহিলাদের ‘ফরেনসিক মেডিসিন’ বিভাগে পাঠায়, যেখানে তাদের ‘গায়নেকলজিক্যাল টেস্ট’ করা হয়৷ বাশির স্বয়ং সাক্ষাৎকারে এ ধরনের ‘ভার্জিনিটি টেস্ট’-এর তীব্র বিরোধিতা করেছেন৷ এআইএইচআরসি-র রিপোর্টে অবশ্যই উল্লেখ করা হয়েছে যে, কোনো নারীর ‘হাইমেন’ বা সতীচ্ছদ আছে কিনা, তার সঙ্গে কুমারীত্বের কোনো সম্পর্কই নেই৷ অর্থাৎ কুমারীত্ব পরীক্ষার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তিই নেই৷ আফগানিস্তানের ক্ষেত্রে যোগ করা দরকার যে, বস্তুত পুলিশ বা অপরাপর আইন-শৃঙ্খলা কর্তৃপক্ষের মহিলা ও কিশোরীদের জোর করে কুমারীত্ব পরীক্ষা করার কোনো আইনগত ভিত্তি নেই৷

 

আফগানিস্তানের সমাজ চরম রক্ষণশীল৷ এখানে কিশোরীদের কুমারীত্বের উপর বিশেষভাবে জোর দেয়া হয়৷ বিয়ের আগে কুমারীই ছিল, এটা প্রমাণ করতে না পারলে হতভাগ্য বধুকে তার বাপের বাড়ি ফেরত পাঠানো হতে পারে – কোনো কোনো ক্ষেত্রে পরিবরের সম্মান বাঁচানোর নামে হত্যাও করা হতে পারে৷ এমন পরিস্থিতিতে কোনো প্রাদেশিক জেল হাজতে অপর্যাপ্ত আয়োজনে কুমারীত্ব পরীক্ষার ফলাফল একটি নারী বা কিশোরীর জীবন নষ্ট করে দিতে পারে – বলেছেন আফগান সংসদের নারী, মানবাধিকার ও সুশীল সমাজ সংক্রান্ত কমিশনের সদস্য সাংসদ মরিয়ম কোফি৷ ‘‘শুধু কুমারীত্ব পরীক্ষা হওয়াটাই একজন মহিলার ভবিষ্যতের পক্ষে সমস্যাকর হয়ে উঠতে পারে”, বলেছেন কোফি৷ কোনো কোনো ক্ষেত্রে যে সব সরকারি কর্মকর্তা ও অপরাপর কর্মচারী কুমারীত্ব পরীক্ষা করেন, তারাই নাকি মহিলাদের ভয় দেখিয়ে পরে তাদের যৌন অপব্যবহার করার চেষ্টা করেন৷

এ জাতীয় আরও খবর

ইউক্রেনকে স্টর্ম শ্যাডো ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির প্রযুক্তি দেবে যুক্তরাজ্য

বিএনপি সরকার ৬ মাসে সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ: নাহিদ ইসলাম

বাংলাদেশে বিনিয়োগে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের প্রতি আহ্বান

মঙ্গলবার পবিত্র সিরাতুন্নবী (সা.) অনুষ্ঠান উদ্বোধন করবেন রাষ্ট্রপতি

নতুন সরকারের প্রথম ছয় মাসে অর্থনীতির কাঙ্ক্ষিত পুনরুদ্ধার হয়নি: দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

ইবির ৪৪ শিক্ষকের বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা

সবাই রেডি হলে স্থানীয় নির্বাচন হবে: সিইসি

ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ৯৯৪

বাণিজ্যমন্ত্রী ও ভারতীয় হাইকমিশনারের বৈঠক, যেসব বিষয়ে আলোচনা

রংপুরে ৪ হত্যাকাণ্ড নিয়ে যে তথ্য দিল ফরেনসিক বিভাগ

শিক্ষার্থীদের মিড-ডে মিলের মান নিয়ে যেন আপস না করা হয়: প্রধানমন্ত্রী

হাইকোর্টের রায়ে সন্তুষ্ট নুসরাতের মা