,

গানের কথা কেন ভুল শুনি!

3259ee77541918c177d8c004a3062692-WHY-WE-MISHEAR-SONGSলাইফস্টাইল ডেস্ক : গান শুনতে শুনতে আকুল হয়ে ভাসছেন সুর দরিয়ায়। গায়ক গাইছেন— ‘কূল নাই কিনার নাই নাইকো দরিয়ার পাড়ি’। কিন্তু আপনি শুনছেন ‘কূল নাই কিনার নাই নাইকো দরিয়ার পানি’! এমনতরো ভুল শোনা হয়তো অনেকেরই হয়েছে! আবার কেউ কেউ তো প্রায় সব সময়ই গানের কথা ভুল শোনেন! কিন্তু এমন কেন হয়? সবাই যা শুনছেন কোনো একজন কেন তা শুনছেন না বা বুঝতে পারছেন না? এই সমস্যাকে ‘মন্দেগ্রিন’ নামে ডাকা হয়ে থাকে। এই ভুল শোনা বা ভুল অর্থ ভাবা সম্পর্কে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে নিউইয়র্কার ডটকম।

‘মন্দেগ্রিন’ বলতে বোঝানো হয় কোনো শব্দ, বাক্য বা বাক্যাংশ ভুল শোনা। যা বলা হয়েছে তা না শুনলেও যা শুনেছেন তা দিয়ে আপনার মনে ঠিকই একটা অর্থ তৈরি হবে। কিন্তু তা আসলে যা বলা হয়েছে আপাত শ্রুত বিষয়টি মোটেই তা নয়। যাঁরা প্রায়ই এমন সমস্যায় ভোগেন তাঁরা আসলে মন্দেগ্রিন আক্রান্ত।

মজার বিষয় হলো খোদ মন্দেগ্রিন শব্দটাই মন্দেগ্রিনের একটা ভালো নমুনা। মার্কিন লেখিকা সিলভিয়া রাইট ১৯৫৪ সালে প্রকাশিত ‘দ্য ডেথ অব লেডি মন্দেগ্রিন’ নামের এক প্রবন্ধে প্রথম এই কথা ব্যবহার করেন। ছোটবেলায় মায়ের কাছে কবিতা ও লোকগাথা শুনতে শুনতে সিলভিয়া বরাবরই কিছু শব্দ, কিছু লাইন ভুল শুনতেন। এক আর্লের মৃত্যুর বর্ণনা করা একটা লাইন ছিল ‘অ্যান্ড লেইড হিম অন দ্য গ্রিন’। কিন্তু ছোট্ট সিলভিয়া শুনতেন ‘অ্যান্ড লেডি মন্দেগ্রিন’। ওই প্রবন্ধের প্রায় ৫০ বছর পর ‘মন্দেগ্রিন’ শব্দটি অভিধানে অন্তর্ভুক্ত হয়।

এ তো গেল ভুল শোনার কথা। কিন্তু আমরা আসলে কীভাবে শুনি বা কোনো কিছু শুনে কীভাবে তার অর্থ তৈরি করি। এই শোনার প্রক্রিয়াটা দুই ধাপের। প্রথমত, কোনো শব্দ তৈরি হওয়া এবং তা আমাদের কান হয়ে মস্তিষ্কের ‘অডিটরি কর্টেক্স’ নামের বিশেষ অংশে পৌঁছানো। এরপর সেই শব্দের অর্থ তৈরি হওয়া। আমাদের অভিজ্ঞতা থেকে আমরা শব্দ শুনে বুঝি এটা গাড়ির হর্নের শব্দ, এটা পাখির ডাক কিংবা এটা গান-বাজনার শব্দ। শব্দ ও শব্দের অর্থ তৈরির এই প্রক্রিয়ায় কোথাও যোগাযোগ-সমস্যা তৈরি হলেই মন্দেগ্রিনের ঘটনা ঘটে। সবাই যা শুনছে আপনার কানেও ওই একই শব্দতরঙ্গ প্রবেশ করল। কিন্তু আপনি যে অর্থ করলেন, সেটা একান্তই আপনার।

হইচই বা কোনো কোলাহলের মধ্যে এই সমস্যাটা প্রায়ই হতে পারে। ফোনে কথা বলার সময়, রেডিও শোনার সময় কিংবা টেলিভিশনের দিকে না তাকিয়ে টিভি শোনার সময় এটা হয়ে থাকে। আশপাশের শব্দের মধ্যে আমরা বক্তার মুখ দেখতে পাই না বলে দৃশ্যগত সংকেতের অভাবেও এটা হতে পারে। তবে, অনেক ক্ষেত্রেই মন্দেগ্রিনের একটা খুবই সাধারণ কারণ হলো শব্দ বা বাক্যের শব্দগুলোর বিন্যাসের ধরন। অনেক শব্দকেই আপনি নানাভাবে ভেঙে ভেঙে বলতে পারেন। অনেক বাক্যের মধ্যেই শব্দগুলো এমনভাবে থাকে যে সেগুলো ভিন্ন ভিন্নভাবে ভেঙে ভেঙে বলা যায়। এই বলার ধরন ​ও শব্দগুলোর ধ্বনিগত মিলের কারণেও আমরা অনেক সময় ভুল শুনি।

মন্দেগ্রিন হয়তো অনেক সময়ই খুবই মজার। কিন্তু এটা থেকে আমরা ভাষার অন্তর্গত প্রকৃতি এবং শব্দ থেকে অর্থ তৈরির প্রক্রিয়াকেও বুঝতে পারি। কত দ্রুতই না আমরা কিছু ধ্বনি বা শব্দ থেকে একটা অর্থ তৈরি করে ফেলি। এটা প্রকৃতিগতভাবে, খুব সহজেই বিনা আয়াসেই ঘটে। অনেক সময় আমাদেরও ভুল হয় বটে কিন্তু বেশির ভাগ সময়ই একটা ধ্বনি শুনে কাছাকাছি কত অগণিত বিকল্প থেকে আমরা ঠিকই সঠিক শব্দটা বুঝে নিই।

এ জাতীয় আরও খবর

মাতৃত্বের পর শরীর নিয়ে কটাক্ষ, এবার মুখ খুললেন ক্যাটরিনা

একাদশে ভর্তি থেকে ছিটকে পড়লো ১ লাখ ২৭ হাজার শিক্ষার্থী

এবার গুলশানের এডিসিসহ চার কর্মকর্তাকে বদলি

নতুন পে-স্কেলের সুবিধা পাবেন না যারা

আল্লাহর কসম, এই দাবিগুলো দলের নয়, জনগণের: জামায়াত আমির

ডেঙ্গুর থাবা সারাদেশে, রেহাই পাচ্ছে না শিশুরাও

মুন্সীগঞ্জে বাস-প্রাইভেটকার সংঘর্ষে নিহত ৪

প্রয়োজনে জীবন দেব, দাবি আদায় না করে ঘরে ফিরব না : শফিকুর রহমান

রাজধানীতে ৩ বাসে আগুন

অপ্রতিম হত্যা: সিসিটিভির সূত্রে ৩ জন আটক

এসডিজি অর্জনে বিশ্বনেতাদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমবে, সহজ ও নিরাপদ যোগাযোগের নতুন দ্বার উন্মোচন হল নবীনগর-বাঞ্ছারামপুর সড়ক প্রশস্তকরণ কাজের উদ্বোধন